কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেবে সরকার

গ্রাফিক্স: কালবেলা
গ্রাফিক্স: কালবেলা

নতুন অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে।

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে বেড়ে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়। সে হিসাবে নতুন বাজেটে গত বছরের মূল লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮ হাজার কোটি টাকা বেশি, তবে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৬ হাজার কোটি টাকা কম ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার, যা জিডিপির ২ দশমিক ২৮ শতাংশ। বিদায়ী অর্থবছরের মূল বাজেটে বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যদিও সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৯৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ২৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকারের মোট ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৪ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংক খাত থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এতে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ঋণপ্রাপ্তি কমে যায়, যা বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মার্চ শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৪ দশমিক ৭২ শতাংশে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সুদহার সমন্বয় করলে প্রকৃত ঋণ প্রবৃদ্ধি আরও দুর্বল, এমনকি ঋণাত্মকও হতে পারে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সিম-লাইসেন্সে কর প্রত্যাহার, সেবা খাতে কর কমানোর প্রস্তাব

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতে বাংলাদেশের ইতিহাস

দলীয় নিষ্ক্রিয়তায় পদ হারালেন বিএনপি নেতা

ফুটবলের উৎসব ফিরেছে, ফেরেনি কারিনা

প্রস্তাবিত বাজেট ঋণনির্ভর ও উচ্চাভিলাষী : খেলাফত মজলিস

সদরঘাট লঞ্চ ট্র্যাজেডি  / বেঁচে যাওয়া সেই রুবার কোলজুড়ে জন্ম নিল পুত্র সন্তান  

আবারও আরসিএস সনদ অর্জন করল এপেক্স ফুটওয়্যার

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ২

প্রবাসী কার্ডের ঘোষণা দিলেন অর্থমন্ত্রী

প্রেমের টানে বাংলাদেশে, খালি হাতেই ফিরলেন চীনা যুবক

১০

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন

১১

ফেনীতে ৪১ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ 

১২

বাজেটে ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য সুখবর

১৩

কৌশিক আজাদ প্রণয়ের কবিতা : আহত রৌদ্দুর 

১৪

এআইইউবি ও বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই

১৫

ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেবে সরকার

১৬

সব জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা

১৭

পূবালী ব্যাংকের অঞ্চল ও কর্পোরেট শাখা প্রধানদের দ্বিতীয় ব্যবসায়িক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

১৮

আলোচিত মহিলা লীগ নেত্রী মহুয়া ফের আটক

১৯

‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাবেন ৪১ লাখ নারী, বরাদ্দ কত?

২০
X