

সরকারের উপসচিব ও তদূর্ধ্ব সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া সুদমুক্ত ঋণে কেনা গাড়ির মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ৫০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দেওয়া এক চিঠিতে ব্যয় কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করার নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করতে অনুরোধ জানায় অর্থবিভাগ। ফলে প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ খরচের বিষয়টি আপাতত আগের মতো ৫০ হাজার টাকাই থাকছে। যদিও খরচ কামানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে বলে চিঠিতে জানিয়েছিল অর্থবিভাগ।
খরচ কামাতে অর্থমন্ত্রণালয়ের দেওয়া আগের নির্দেশনায় সুবিধাভোগী সরকারি কর্মকর্তাদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও জুডিসিয়াল সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি বৈঠকও ডেকেছিল। যদিও তার আগেই সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বৈঠকটি হয়নি।
জানা গেছে, সরকারের উপসচিব থেকে শুরু করে উপরের স্তরের পদের সরকারি কর্মকর্তারা এতদিন গাড়ি কিনতে ৩০ লাখ টাকা সুদমুক্ত ঋণ পেতেন। আবার এ গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ তারা প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে খরচ পেতেন। সে হিসেবে বছরে গাড়ির ব্যবস্থাপনাতেই দিতে হয় ৬ লাখ টাকা। তাদের পাশাপাশি সশস্ত্রবাহিনীর মেজর থেকে শুরু করে ওপরের কর্মকর্তা, জুডিশিয়াল সার্ভিসের জেলা জজ থেকে ওপরের কর্মকর্তা এবং নির্বাচন কমিশনের সমপদের কর্মকর্তারাও পান।
চলতি অর্থবছরের শুরুতে এ সুবিধা আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তবে পুরোপুরি বন্ধ না করে সিদ্ধান্ত অনুসারে গত ৯ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক চিঠিতে সুদমুক্ত ঋণে কেনা গাড়ির মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ৫০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানায় অর্থ বিভাগ।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে দেওয়া চিঠিতে অর্থ বিভাগ বলেছে, সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা সুদমুক্ত ঋণ গ্রহণের পর গাড়ি সেবা নগদায়নের আওতায় মোটর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাবদ আর্থিক সুবিধা পান তা কিছুটা কমানোর সুযোগ রয়েছে। মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মাসে ৫০ হাজার টাকার পরিবর্তে ২৫ হাজার হারে নির্ধারণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। এ অবস্থায় রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানোর বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করা হয়। কীভাবে সেটা বাস্তবায়ন করা হবে তা নির্ধারণের দায়িত্ব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত করে অর্থ বিভাগ।
এরপরই বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে। এতে বিষয়টি ঝুলে যায়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো পত্র আসেনি। তবে বিষয়টি স্থগিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এ কারণে আমাদের বৈঠকও স্থগিত করা হয়েছে।’
কর্মকর্তাদের দাবি, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেড়েছে। গাড়ি পিছু তাদের মাসিক ব্যয় হয় ৬৭ হাজার টাকা। সেখানে সরকার দিচ্ছে ৫০ হাজার টাকা। উল্টো রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় না বাড়িয়ে তা কমালে ইতিবাচক কোনো ফল বয়ে আনবে না। এতে জনপ্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট মহলে বর্তমান সরকারের জন্য নেতিবাচক বার্তা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এ কারণেই মূলত ৯ জুলাইয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো সরকার।