

এবার উড়োজাহাজে (প্লেন) আসা চোরাচালানের ১৬ কেজি স্বর্ণ মিলল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সের আমদানি ভিলেজে। এই স্বর্ণগুলো হংকং থেকে আসা ক্যাথে প্যাসেফিক এয়ারের একটি ফ্লাইটে ফলের ক্যারেটে বিশেষ কায়দায় লুকানো ছিল।
রোববার (১৯ জুলাই) ডিজিএফআই ও ঢাকা কাস্টমস যৌথভাবে এই অভিযান চালায়। উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ৩৫ কোটি টাকা।
কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর উত্তরখানে অবস্থিত ‘ফুড লিঙ্ক’ নামে ফল আমদানিকারক একটি প্রতিষ্ঠান ফলের আড়ালে স্বর্ণ পাচার করছিল। ক্যাথে প্যাসেফিক এয়ারের ফ্লাইটটি (সিএক্স ৬৬৭) ঢাকায় অবতরণের পর ফলের ক্যারেটটি নিয়মমতো আমদানি ভিলেজে নেওয়া হয়। তবে তা খালাসের আগেই জব্দ করা সম্ভব হয়।
এর আগে গত ২ জুলাই দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের কার্গো হোল্ডের প্যানেলে বিশেষ ব্যবস্থায় লুকানো অবস্থায় ১৯ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়। এ ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে গত ২৮ মার্চ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে ছেড়ে আসা বিমানের বিজি-৩৪৮ ফ্লাইটের কার্গো কম্পার্টমেন্ট থেকে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়। ওই দুটি ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত চোরাচালানে জড়িতদের শনাক্ত করা যায়নি। এর মধ্যেই এবার ফলের ক্যারেটে আসা চোরাচালানের স্বর্ণ জব্দের খবর মিলল।
ঢাকা কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ কামরুল হাসান কালবেলাকে বলেন, ক্যাথে প্যাসিফিকের ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর কার্গে পণ্য আমাদনি কার্গো ভিলেজে নেওয়া হয়। এর আগেই ডিজিএফআইয়ের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আমদানি কার্গো ভিলেজে যৌথ অভিযান চালানো হয়। জব্দ করা স্বর্ণগুলো ফলের ক্যারেটের ভেতর কাঠ দিয়ে আলাদা পার্টিশন তৈরি করে বিশেষ কায়দায় লুকানো ছিল।
কাস্টমসের এই কর্মকর্তা বলেন, উত্তরখানের ফুড লিঙ্ক নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই ফলের ক্যারেটের আমদানিকারক। তারা রামভুটান ফলের আড়ালে স্বর্ণের চোরাচালান করেছে। তবে পণ্য খালাসের আগেই গোয়েন্দা তথ্যে এগুলো জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কাস্টমসের অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানটি এর আগেও ফল আমদানি করেছে কি না, আমদানির আড়ালে আগেও স্বর্ণ চোরাচালান করেছে কি না, তা গোয়েন্দারা তদন্ত করছে।