

চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো ছিল প্রচণ্ড চাপে। রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। জনগণের প্রত্যাশা ছিল বিশাল। এমন এক প্রেক্ষাপটে দেশকে নির্বাচনের রাজনীতিতে ফেরানোর জন্য প্রস্তুত করা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ছিল অন্তবর্তী সরকারের প্রধান কাজ।
বিলম্বে হলেও দেশকে নির্বাচনের রাজনীতিতে ফেরার বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারে ড. ইউনূস সরকার। কারণ স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক অবস্থায় ফিরে আসতে নির্বাচনই ছিল চূড়ান্ত এবং একমাত্র টেকসই পথ। একটি উত্তাল সময়ে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার চাপ এবং ভারসাম্য রক্ষার কাজটি ছিল জরুরি। কেননা তীব্র বিভাজিত সমাজে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা সব সময়ই দুরূহ কাজ।
অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনকে এটা স্বীকার করতে হবে যে, দেশকে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে নেওয়াই ছিল তাদের প্রধান কর্তব্য। তবুও তাদের কিছু প্রয়োজনীয় কাজ করার বৈধতা জনগণ দিয়েছিল। আবার এটাও মনে রাখতে হবে, একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যত বেশি সময় ক্ষমতায় থাকে, নির্বাচন অনুষ্ঠান ততই বিলম্ব হয় এবং এই বিলম্বের ন্যায্যতা হাজির করতেও তারা খুব উদগ্রীব থাকে। অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। আর এটাই ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান স্ববিরোধিতা।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বল্প সময়ের জন্য দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায়। তাদের দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার বৈধতা ছিল না। সরকার অস্থায়ী হওয়ায় জনগণ তাদের বিশেষ কিছু ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিয়েছিল। কারণ তারা জানে, এ ক্ষমতাগুলো সীমিত কিছু উদ্দেশ্য সাধনে ব্যবহৃত হবে। কিন্তু যখনই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্থায়ী বা নির্বাচনী সরকারের মতো আচরণ করতে থাকে, তখন অনিবার্যভাবেই প্রশ্ন উঠতে থাকে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বাংলাদেশে জন্ম নিয়েছে নতুন তিনটি শূন্য। এর মধ্যে যদি প্রথম শূন্যকে বেছে নিতে হয়, তা হবে ‘শূন্য জবাবদিহি’। দ্বিতীয়টি ‘শূন্য জনআস্থা’ এবং তৃতীয়টি ‘শূন্য গণতান্ত্রিক সহনশীলতা’। আগামীতে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ইতিহাস যখন মূল্যায়ন করবে, তখন এ সরকারকে অবশ্যই এসব সার্বিক দিক মাথায় নিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ম্যান্ডেট ছিল সহজ এবং সুদূরপ্রসারী। তা হলো- শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করা, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য পরিবেশ নিশ্চিত এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া। কিন্তু ক্রমান্বয়ে সরকারের এজেন্ডার সম্প্রসারণ প্রবণতা শুরু হয়। জনগণ তা মেনে নিতে পারেনি। কারণ সরকারের এই প্রবণতা দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার বিপরীত দিকেই যাচ্ছিল এবং এটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের বহু দূরে বিভিন্ন দিকে বিস্তৃত হয়েছিল। তাই মাস গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার তত্ত্বাবধায়ক থেকে সংস্কারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে লাগল।
সাংবিধানিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে কমিশন গঠন করা হয়। প্রস্তাব করা হয় বিচার বিভাগীয় সংস্কারের। প্রশাসনিক পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা হয়। নতুন শাসনব্যবস্থার কাঠামো নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক-আলোচনা। রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্নগুলো উঠে আসে গণ-আলোচনায়। এসব একটি মৌলিক গণতান্ত্রিক প্রশ্ন তৈরি করে। তা হচ্ছে, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী বৈধতা সৃষ্টির আগে একটি অনির্বাচিত সরকার কতটা সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে?
প্রশ্নটি কিন্তু শুধু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নয়, প্রত্যেক অন্তর্বর্তী সরকারই এই ধরনের উভয়সংকটের মুখোমুখি হয়। দেখা যায়, সংস্কার কর্মসূচি যত ব্যাপক হচ্ছে, সরকার তার মূল দায়িত্ব থেকে তত দূরে সরে যাচ্ছে। আবার এ ধরনের সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা যত প্রসারিত হয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষেও মানুষের মধ্যে যুক্তি তত জোরালো হয়। ইউনূস সরকারের ক্ষেত্রেও তাই ঘটে।
সংস্কার ও গণতন্ত্র পরস্পরবিরোধী নয়। আবার তারা একে-অপরের বিকল্পও নয়। অন্তর্বর্তী সরকার দক্ষতা ও সামর্থ্য দেখাতে পারে। থাকতে পারে তার সদিচ্ছাও। এমনকি জনগণের সদিচ্ছাও থাকতে পারে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এগুলোর কোনোটিই নির্বাচনী বৈধতার সম্পূর্ণ বিকল্প হতে পারে না। ফলে দেশে নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই টানাপোড়েন ক্রমশ দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। কারণ দেশের মানুষ স্বচ্ছতা চেয়েছিল। রাজনৈতিক দলগুলো চেয়েছিল নিশ্চয়তা। ব্যবসায়ীরা চেয়েছিল স্থিতিশীল পরিবেশ।
জনমনে প্রশ্ন উঠেছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হবে কবে। বাস্তবেও তাই দেখা গেছে যে, সরকারের সময়সীমা নিয়েই নানা জল্পনা-কল্পনার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে আরম্ভ হয় বিতর্ক। বদলে যায় অগ্রাধিকার। কোন সংস্কারগুলো নির্বাচনের জন্য পূর্বশর্ত এবং কোনগুলো নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, উত্তেজনা তৈরি হয়। স্বভাবতই এর ফলে জনমনে বাড়তে থাকে উদ্বেগ।
সাধারণত রূপান্তরকালীন অনিশ্চয়তা এক ধরনের অনিবার্য ফল। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তার কিছু মূল্য অবশ্যই দিতে হয়। রাজনৈতিক নেতৃত্ব অধৈর্য হয়ে পড়ে। জনআস্থা কমে যেতে থাকে। নানা জল্পনাকল্পনা বেড়ে যায়। ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলো জনপ্রিয়তা পায়। নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিন নির্ধারিত না হওয়া কিংবা বিলম্বিত হওয়া রাজনৈতিক তাৎপর্য লাভ করে।
সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তকে পরস্পরবিরোধী দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়। হয়তো প্রশাসনিক সতর্কতা হিসেবে শুরু হয়েছিল কোনো উদ্যোগ, তা ক্রমশ কারো কারো কাছে সন্দেহের সৃষ্টি করে। কারও কাছে হয়তো ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে বিবেচিত হতে থাকে। দেখা যায়, ইউনূস সরকারের এই টানাপড়েন শুধু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ডালপালা মেলে আরও বিস্তৃত ও স্পর্শকাতর পর্যায়ে। গণতন্ত্র শুধু ভোটাধিকারের ওপর নির্ভর করে না; একটি নাগরিক সংস্কৃতি সংরক্ষণের ওপরও তা নির্ভর করে। যেই সংস্কৃতিতে ভিন্নমত, সমালোচনা এবং বিতর্ক অবাধে হতে পারবে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান, সাংবাদিক এবং জনমতকে ঘিরে ঘটে বিভিন্ন অপ্রত্যাশিত ঘটনা।
সে সময় দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের অনেক পর্যবেক্ষক উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সংবাদপত্রের কার্যালয়ে হামলা এবং গণমাধ্যম সংস্থাগুলোকে লক্ষ্য করে ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাগুলো রীতিমতো ত্রাসের সৃষ্টি করেছিল। বলা বাহুল্য, এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের পরিচয় বা উদ্দেশ্য যা-ই হোক না কেন, এ ধরনের ঘটনাগুলো গণতান্ত্রিক পরিবেশের মৌলিক নীতির ওপর আঘাত হেনেছিল। এ বিষয়টি শুধু নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান ক্ষতি ছিল না। এটি ছিল সমাজের জন্য এক বিরাট বার্তা। ভুলে গেলে চলবে না যে, গণতন্ত্র নির্ভরশীল স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর। দেশের মানুষের অবশ্যই ভয়ভীতিহীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। যাতে করে তারা সরকার, রাজনৈতিক দল এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সমালোচনা করার স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারে।
যখন সাংবাদিক বা গণমাধ্যম সংস্থাগুলো শত্রু হিসেবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়, তখন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকে না। আর তা সুরক্ষিত করতে স্পষ্টভাবে দায়িত্ব বর্তায় রাষ্ট্র পরিচালকদের ওপরই।
একইভাবে উদ্বেগজনক ছিল রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে নীতিগত বৈরিতায় রূপ দেওয়ার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা। ‘ফ্যাসিস্ট’-এর মতো তকমাগুলো সাধারণ জনপরিসরেও ব্যবহৃত হতে থাকে। যাকে-তাকে এই তকমা দিয়ে নাজেহাল করতে দেখা যায়। বুদ্ধিজীবী, পণ্ডিতদের মধ্যে ফ্যাসিস্ট শব্দের যথার্থ বিশ্লেষণ যেখানে স্বাভাবিকতা হওয়ার কথা ছিল, সেখানে সর্বত্র শব্দটি হয়ে ওঠে কাউকে বর্জন বা ঘায়েলের হাতিয়ার।
গণতন্ত্র মানেই নাগরিকরা রাজনীতি নিয়ে তীব্রভাবে দ্বিমত পোষণ করবে। কিন্তু গণতন্ত্র তখনই ভঙ্গুর হয়ে পড়ে, যখন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভিন্নমতাবলম্বী সহনাগরিক হিসেবে না দেখা হয়। পাশাপাশি তাকে রাষ্ট্রের কাজে অংশগ্রহণের অযোগ্য ও শত্রু হিসেবে গণ্য করা হয়, যেখানে থাকে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের চিন্তা। গণতান্ত্রিক রূপান্তরে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার কোনো রাজনৈতিক স্লোগান কিংবা ব্যক্তিগত পর্যায়ের কোনো কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। বরং সরকারের উচিৎ ভালো পরিবেশ তৈরি করা, রক্ষা করা বহুত্ববাদকে। ভীতির পরিবেশ যেন সৃষ্টি না হয় সেই উদ্যোগ নেওয়া। কথা ও কাজের মাধ্যমে দেখাতে পারা যে গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার জন্য ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা প্রয়োজন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যখন এ ধরনের সংকেতগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছিল, তখন অনিশ্চয়তা বেড়েছিল। আর সমাজে অনিশ্চয়তা বা নৈরাজ্য মানেই গণতন্ত্রের জন্য তা নেতিবাচক। এসব ঘটনার সম্মিলিত প্রভাবে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রক্রিয়া নিয়েই ওঠে গভীরতর প্রশ্ন। দেশ কি গণতন্ত্রের দিকে এগোচ্ছে? নাকি গণতন্ত্র অন্যান্য লক্ষ্যের কাছে গৌণ হয়ে পড়ছে? প্রশ্নটি হয়তো অন্যায্য মনে হতে পারে।
কেননা এটা তো সত্য যে, অন্তর্বর্তী সরকার বারবার নির্বাচনের প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছিল। তারা ধারাবাহিকভাবে গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধারকে তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে উচ্চারণ করছিল। অন্যদিকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট সময়ের কথা বলছিল না।
জনগণ সরকারকে শুধু তার প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই বিচার করে না, বরং সরকার কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তার ভিত্তিতেও বিচার করে। ফলে সরকারের গণতান্ত্রিক রূপান্তর যত দীর্ঘায়িত হতে থাকল, দেশের মানুষ ততই প্রশ্ন ও সন্দেহ করতে শুরু করল— নির্বাচন বাদ দিয়ে সংস্কারই কি মূল লক্ষ্য হয়ে উঠছে সরকারের? জনগণের এই উদ্বেগ তখন একটি সন্দেহ ইঙ্গিত করে।
গণতন্ত্র মানে শুধু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সরকার ব্যবস্থা নয়। গণতন্ত্র মানে শুধু নীতি বাস্তবায়নের একটি প্রক্রিয়াও নয়। এটি হচ্ছে জনসম্মতি কিংবা সহনশীলতা চর্চার ব্যবস্থা। এটি একটি প্রতিনিধিত্বমূলক এবং জবাবদিহিমূলক শাসনকাঠামো।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ব্যবস্থা এমন এক স্বীকৃতি, যা রাজনৈতিক নেতৃত্ব চূড়ান্তভাবে শাসিত বা জনগণের কাছ থেকেই পায়। এমনকি এই নীতি প্রযোজ্য নির্বাচিত সরকারের বেলায়ও, বিশেষ করে তাদের শাসনকার্য যদি হয় দুর্বল কিংবা দেশ পরিচালনা প্রত্যাশিত মাত্রায় না থাকলে। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার প্রয়োজন হলে জনসম্মতির বিষয়টি তাই অনুসরণ করা অনিবার্য। ফলে অনির্বাচিতদের যতই দক্ষতা-সামর্থ্য থাক না কেন জনগণের সম্মতিকে অবশ্যই সম্মান দেখাতে হবে।
অনির্বাচিত সরকার জনজীবনে ব্যাপক অবদান রাখতে পারে। তারা সংস্কারের পরিকল্পনাও করতে পারেন। তারা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নতিও সাধন করতে পারে। দিতে পারে সমাধানও। কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে যে, তারা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক বৈধতা বা নির্বাচিত সরকারের স্থায়ী বিকল্প হতে পারেন না। অভিজ্ঞতা-দক্ষতা-জ্ঞান শাসনব্যবস্থা কিংবা নির্বাচিত সরকারকে দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিতে পারে। কিন্তু একমাত্র জনগণই পারে এর অনুমোদন দিতে। ড. ইউনূসের সরকার গণতন্ত্রের এই ইতিবাচক দিক অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
মূলত আলোচনা বা বিতর্কটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যোগ্যতা নিয়ে ছিল না। ড. ইউনূস বা তার সহকর্মীদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিল। এটি ছিল একটি গণতান্ত্রিক সমাজে অনির্বাচিত সরকারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে। আর সেই সীমাবদ্ধতাগুলো অনির্বাচিত উপদেষ্টাদের অক্ষমতার কারণেও নয়। কারণটা হলো গণতন্ত্র। কেননা গণতন্ত্রে জনসম্মতি লাগবেই। আর জনসম্মতির জন্যই চূড়ান্তভাবে নির্বাচন প্রয়োজন।
ডক্টর ইউনূস এমন এক বিশ্বের স্বপ্ন দেখেন এবং দেখান, যা তার উদ্ভাবিত তিনটি ‘শূন্য’ দিয়ে বোঝা যাবে। অর্থাৎ তার তিন শূন্য অনুযায়ী, পৃথিবী হবে দারিদ্র্যশূন্য, বেকারত্বশূন্য এবং কার্বন নিঃসরণশূন্য। তবে ইতিহাস হয়তো শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে তার শাসনকালকে তিনটি ভিন্ন রকমের শূন্যের মাধ্যমে মনে রাখবে। তা হলো— শূন্য জবাবদিহিতা, শূন্য জনআস্থা এবং শূন্য গণতান্ত্রিক সহনশীলতা। অর্থাৎ তার শাসনকালে জবাবদিহি, জনআস্থা, গণতান্ত্রিক সহনশীলতা ছিল শূন্যের কোঁটায়।