

বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে মা ও দুই কন্যা শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অবশেষে হত্যা মামলা নিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (০৯ জুন) রাতে নিহত ইতি রানির স্বামী দুলাল বিশ্বাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি করেন।
বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেন বরগুনা থানার ওসি আবদুল আলীম। তিনি জানান, নিহতের স্বামীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি নিয়মিত হত্যা মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে গত শনিবার রাতে দুলাল বিশ্বাস হত্যা মামলা করতে বরগুনা থানায় গেলে তার অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে নিহতের পরিবার ও স্বজনরা অভিযোগ করেন। একইসঙ্গে থানার ওসি বাদী পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ ঘিরে নিহতদের পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করলে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ এবং মামলা গ্রহণে জটিলতার বিষয়টি নিয়ে দৈনিক কালবেলাসহ দেশের আরও একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান। সমালোচনার মুখে অবশেষে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে রুজু করে।
উল্লেখ্য, গত ৩ জুন বিকেলে বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর দুটি কক্ষ থেকে ইতি রানি, তার দুই শিশু কন্যা অধরা বিশ্বাস ও অনুরাধা বিশ্বাসেরর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানান বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরাত-ই-খোদা। একইসঙ্গে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়।
তবে শুরু থেকেই নিহতদের স্বজনরা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছিলেন। তাদের অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অসঙ্গতি এখনও স্পষ্ট হয়নি। বিশেষ করে সিসিটিভি ফুটেজে কাটছাঁটের অভিযোগ, বদ্ধ কক্ষের খোলা থাইগ্লাস, বারান্দায় গ্রিল না থাকা, ইতি রানির হাতে থাকা ছোট হ্যান্ডব্যাগসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এসব কারণেই মা ও দুই শিশুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে।
মরদেহ উদ্ধারের পরেরদিন এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়ে বরগুনা পৌর শহরের সদর রোডে মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ মিছিল করে নিহতদের পরিবার, স্বজন এবং স্থানীয় সচেতন মহল।