কোটা আন্দোলন দমনে হত্যাকাণ্ডসহ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী বুধবার (৩১ জুলাই) প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ।
সোমবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর তোপখানা রোড়ে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সব দল ও জোটসহ গণতন্ত্র মঞ্চ সারা দেশে ধারাবাহিক কর্মসূচি করবে। কোটা আন্দোলন দমনে হত্যাকাণ্ডসহ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে গণতন্ত্র মঞ্চ আগামী ৩১ জুলাই বেলা ১১টায় রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, শিক্ষার্থীদের একটি ন্যায্য আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের পথে না গিয়ে সরকার ছাত্র-জনতার হত্যাকাণ্ডসহ নাশকতার যে পরিস্থিতি তৈরি করেছে এর সমুদয় দায়-দায়িত্ব সরকার ও সরকারি দলের। আমরা সরকারকে জনগণের জানমালের এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির দায়-দায়িত্ব নিয়ে অবিলম্বে রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগ করার আহ্বান জানাই। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, সরকার হত্যা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন-নিপীড়ন, মিথ্যা প্রচারের যে পথে হাঁটছে এই পথে এ সংকটের সমাধান নেই। সংকট উত্তরণে সরকারকে রাজনৈতিক সমাধানের পথ বেছে নিতে হবে। তা না হলে দেশ ও দেশের মানুষকে রক্ষায় সরকারকে বিদায় দেওয়া ছাড়া দেশের মানুষের নিজেদের রক্ষার আর কোনো উপায় থাকবে না।
তিনি বলেন, সরকার ও সরকারি দলের যাবতীয় উসকানি এবং নাশকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা এড়িয়ে গণতন্ত্র মঞ্চ ছয় দফার জনদাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণভাবে গণআন্দোলন এগিয়ে নেবে। আমরা দেশের সব গণতন্ত্রকামী ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও শ্রেণি-পেশার সংগঠন এবং মুক্তিকামী দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে এ আন্দোলন এগিয়ে নিতে উদাত্ত আহ্বান জানাই।
সাইফুল হক অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে নজিরবিহীন নৃসংশতায় দমন করতে গিয়ে তারা (সরকার) যে বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে, তাকে আড়াল করতে কথিত ইন্ধন ও নাশকতার অজুহাতে এখন সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিরোধী দলকে দমনের অভিযান চলছে। সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের পথে না গিয়ে কারফিউর ছত্রছায়ায় বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযানের নামে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতি দেশকে ভয়াবহ বিপর্যস্ত ও গভীর অনিশ্চয়তায় নিক্ষেপ করেছে।
তিনি বলেন, সরকার যেভাবে শুধু বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এ গণআন্দোলন দমন করতে চেয়েছে তাতে এটা স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে যে, জনগণের ভেতরে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বলতে আর কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই। সরকার ও সরকারি দল কার্যত জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। আমরা জানি, ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে- জাগ্রত জনতার সামনে রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ চিরকালই পরাজিত হয়েছে, শেষ পর্যন্ত জনগণের বিজয় হয়েছে।
গণতন্ত্র মঞ্চের এই নেতা বলেন, সরকার ও তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন যেভাবে দমনের চেষ্টা চালিয়েছে তার বেশিরভাগই আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
মন্তব্য করুন