চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
আলিফ হত্যা মামলা

নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেন চিন্ময় ব্রহ্মচারী

আদালত প্রাঙ্গণে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। ছবি : কালবেলা
আদালত প্রাঙ্গণে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। ছবি : কালবেলা

আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি মামলার অভিযোগপত্র প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ এবং উদ্দেশ্যমূলক বলে দাবি করেন।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে তিনি এ দাবি করেন। অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী এটাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে তুলে ধরেন।

ট্রাইব্যুনালে শুনানিতে জানা যায়, মামলার ৩৯ আসামির মধ্যে ২৩ জন হাজতে ছিলেন। বাকি ১৬ জন পলাতক। হাজতি আসামিদের মধ্যে কয়েকজন নিজের পক্ষে বক্তব্য দেন, বাকিদের পক্ষে আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। চিন্ময় কৃষ্ণ নিজেই বক্তব্য দেওয়ার জন্য অনুমতি নেন এবং আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, আমি ন্যায়বিচার আশা করি। আমাদের বিশ্বাস, বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হবে না।

চিন্ময় কৃষ্ণ তার বক্তব্যে বলেন, ২৫ নভেম্বর ঢাকায় এয়ারপোর্ট থেকে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামে আদালতে আনা হয়। গাড়ি থেকে নেমে আদালতে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রায় ৪০টি টিভি চ্যানেল এবং বিভিন্ন মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উসকানি দেওয়ার যে অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে উত্থাপন করা হয়েছে তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমাদের সনাতন ধর্ম অনুযায়ী প্রাণি হত্যা নিষিদ্ধ। তাই অভিযোগপত্রে উল্লেখিত হত্যাকাণ্ডে আমি কোনোভাবেই জড়িত হতে পারি না।

তিনি উল্লেখ করেন, সংখ্যালঘু হিসেবে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তিনি করেননি এবং শুধু মৌলিক ৮টি দাবি সরকারের কাছে উপস্থাপন করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের পিপি এসইউএম নুরুল ইসলাম এবং সহকারী পিপি রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী আদালতকে জানান, অভিযোগপত্র, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, জবানবন্দি ও সুরতহাল রিপোর্টে যথেষ্ট উপাদান রয়েছে। পিপি এসইউএম নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আসামিরা যা বলছেন, তারা জড়িত নন- এটি সত্য নয়। হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধভাবে সংঘটিত হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, চিন্ময় দাস আদালতে উপস্থিত হওয়ার পর তার অনুসারীরা তাকে ঘিরে রেখেছিলেন এবং প্রিজন ভ্যানে ওঠানোর সময়ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে উগ্র অনুসারীরা আইনজীবী আলিফকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন। চার্জশিটে ৩৯ আসামির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি ও প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছেন। আলিফের দেহে ২৬টি কোপ ছিল, যা ময়নাতদন্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী আদালতে আরও বলেন, অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) উল্লেখিত তিনজনকে অব্যাহতি দিয়েছেন। চিন্ময় দাস বলছেন, তার অনুসারীরা প্রাণি হত্যা করেন না, তাহলে কীভাবে একজন আইনজীবীকে হত্যা করা হলো? এটি প্রমাণ করে, হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যমূলক ছিল।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সাড়া ফেলেছে ‘আহত ফুলের গল্প’, প্রশংসায় রিয়া-তন্ময়

তুরাগে বস্তাবন্দি মরদেহ / হানিট্র্যাপ চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, হত্যার রহস্য উদঘাটন

৬১৭৫ গ্রাম সোনায় মোড়ানো বিশ্বকাপ ট্রফি, দাম শুনলে চমকে যাবেন

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে অন্ধকারে ডুবছে কিউবা

বঙ্গোপসাগরে মালয়েশিয়াগামী বোট থেকে ৫০ জন উদ্ধার, আটক ৯

গুচ্ছে প্রথম পর্যায়ে মনোনীতদের প্রাথমিক ভর্তি শুরু ৭ জুন

রাত ১টার মধ্যে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

রামিসা হত্যা / দ্রুততম সময়ের মধ্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে: ডেপুটি স্পিকার

মাটি ও পরিবেশ বিবেচনা করে গাছ লাগাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি তিন মাসেই আ.লীগের অবস্থানে পৌঁছে গেছে : আসিফ মাহমুদ 

১০

সমালোচনার মুখে ‘পানি ব্যবসা নিয়ে’ সিদ্ধান্ত বদলাল ফিফা

১১

বিদ্যুৎ খাতে ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে : তথ্য উপদেষ্টা

১২

ছয় নবজাতকের মৃত্যু : আদ-দ্বীন বন্ধের বিপক্ষে ভুক্তভোগী পরিবার

১৩

২০ মিনিট বাড়ছে মেট্রোরেলের সময়

১৪

যুবদল নেতার ওপর ককটেল হামলায় শ্রমিক লীগ নেতা গ্রেপ্তার 

১৫

ঢাকার উন্নয়নে সরকার ও মন্ত্রণালয় সব সহযোগিতা করবে : মির্জা ফখরুল

১৬

মেসির চোখে সেরা ব্রাজিল

১৭

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ২৪ নেতাকর্মী আটক

১৮

আগামী ১০-১১ জুন অনুষ্ঠিত হবে ২০তম বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো

১৯

মোবাইলে যেভাবে দেখবেন বিশ্বকাপ

২০
X