

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তবে আর্থিক সংকটে নির্বাচনী ব্যয় মেটানো নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন তিনি।
পরে নির্বাচনী ব্যয় জোগাতে দেশবাসীর কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেন ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তার সহায়তা আবেদনে সাড়া দিয়েছে সাধারণ মানুষ। এমনকি বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টায় আবেদনের পর বুধবার রাত পর্যন্ত তিন দিনে ব্যাংক, বিকাশ এবং নগদ নম্বরে তাকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা অনুদান পাঠিয়েছেন তারা।
বুধবার (৬ জানুয়ারি) মধ্য রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে ফুয়াদ নিজেই এই তথ্য জানিয়েছেন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে ব্যারিস্টার ফুয়াদ দেশবাসীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমার আসনে ভোটার সংখ্যা কমবেশি ৩ লাখ ৩২ হাজার ১০১ জন। নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা মোতাবেক ১০ টাকা জনপ্রতি আমার খরচের সীমা ৩৩ লাখ ২১ হাজার ১০ টাকা। আমার পেজ ও আইডি অ্যাডমিন আমাকে জানিয়েছে যে, ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত আমার অনুদান এসেছে ৩৯ লাখ ৬৬ হাজার ৫৫৬ টাকা।
এর মধ্যে বিকাশের মাধ্যমে ১৯ লাখ ২৩ হাজার ৫৫২ টাকা, নগদের মাধ্যমে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৬ টাকা এবং ব্যাংকে ১৮ লাখ ৭ হাজার ৯৪৮ টাকা।
দেশ এবং প্রবাস থেকে যারা অনুদান দিয়েছেন তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ফুয়াদ লিখেছেন, হাজার হাজার ভালোবাসার মানুষ ফোন করেছেন, মেসেজ দিয়েছেন যাদের উত্তর দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে আন্তরিকভাবে দুঃখিত। অতিরিক্ত অনুদানের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ মোতাবেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্বচ্ছতার স্বার্থে অনুদান সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র নির্বাচনের দিন পর্যন্ত অডিট করে প্রকাশ করা হবে এবং নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশন বা সরকারের অন্য যে কোনো আর্থিক রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠান অডিট করতে চাইলে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে রোববার (৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নির্বাচনী খরচ মেটাতে ভোটার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ। বিষয়টি নিয়ে কেউ কেউ সমালোচনা করলেও অনেকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এরপর থেকেই সর্বনিম্ন ৫ টাকা থেকে বিভিন্ন অঙ্কে টাকা পাঠাতে শুরু করেন ফুয়াদের দেওয়া বিকাশ, নগদসহ অন্যান্য ব্যাংকিং নম্বরে।
ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ব্যারিস্টার ফুয়াদের দুটি বিকাশ অ্যাকাউন্টে ১১ লাখ ২০ হাজার ৯৬৯ টাকা, একটি নগদ অ্যাকাউন্টে ১ লাখ ২৫ হাজার ৬০৯ এবং ব্যাংক হিসাবে ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৪৬৭ টাকাসহ মোট নির্বাচনী তহবিলে জমা হয়েছিল ২১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
উল্লেখ, হলফনামার তথ্য অনুযায়ী ফুয়াদের নির্বাচনী আসনে ধনাঢ্য সব প্রার্থীর সামনে সর্বনিম্ন আয়ের প্রার্থী ব্যারিস্টার ফুয়াদ। যার আইন ব্যবসা, ফেসবুক, ইউটিউবিং এবং বিভিন্ন টকশো করে বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৪১ হাজার ৬০২ টাকা। এরমধ্যে আইনজীবী হিসেবে চেম্বার থেকে বছরে সম্মানী ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। বাকি ৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা আয় টিভি টকশো, ইউটিউব এবং ফেসবুক থেকে।
মন্তব্য করুন