

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা–১০ আসনের বিএনপির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে ভোট চেয়েছেন। তিনি বলেন, নারী ও যুবকদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে এবং দেশকে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখতে বিএনপির বিকল্প নেই।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ঢাকা–১৭ আসনে তারেক রহমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার সময় এক পথসভায় এসব কথা বলেন আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, জনগণকে সচেতন না করতে পারলে তারা বিভ্রান্ত থাকবে। আর এই বিভ্রান্তির সুযোগ নিয়েই একটি দল নির্বাচনে জয়ের আশায় অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং অর্থের মাধ্যমে ভোট কেনার চেষ্টা করছে। এসব অপচারে সাধারণ মানুষ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
আবদুস সালাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার পর তারেক রহমান দলের নেতৃত্বে এসেছেন এবং তার পক্ষে সারা দেশে ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। ইনশাআল্লাহ বিএনপি সরকার গঠন করবে।
তারেক রহমানের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি বগুড়া থেকে নির্বাচন করছেন। ইনশাআল্লাহ তিনি সেখান থেকে জয়ী হবেন। তিনি যদি প্রধানমন্ত্রী হন এবং কোনো এলাকা থেকে ভোট না পান, তাহলে সেই এলাকার মানুষের পক্ষে তাঁর কাছে দাবি তোলার নৈতিক অবস্থান থাকবে না। কিন্তু ভোট দিলে মানুষ রাস্তা, গ্যাস, পানি ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধার বিষয়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরতে পারবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে বিএনপিই সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে। এক সময় ঢাকা শহরের সব আসনেই বিএনপি জয়ী হয়েছিল। অথচ যারা এখন বড় বড় কথা বলছে, তারা কোনো দিন ঢাকায় একটি আসনও পায়নি।
অপপ্রচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা মিথ্যা কথা বলে, তাদের ধর্মের কথা বলার নৈতিক অধিকার নেই। তিনি অভিযোগ করেন, একটি দল মসজিদে গিয়ে অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে। টাকা নেওয়া গেলেও ভোট দেওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বস্তিবাসীদের প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার আমলে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তিনি ক্ষমতায় থাকলে আরও অনেক মানুষ পুনর্বাসনের সুযোগ পেত। তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি মায়েদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যাতে সেই অর্থ পরিবারের কল্যাণে ব্যয় হয়।
তিনি বলেন, কৃষক, শ্রমিক ও বেকার যুবকদের জন্য বিএনপির সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সঠিক মূল্যে সরবরাহ, যুবকদের কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ এবং ফ্রি ক্লিনিক স্থাপনের প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
নারীদের প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, কিছু দল ক্ষমতায় এলে নারীদের কাজের সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে। অথচ বিএনপি নারীদের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। বিএনপি ধর্মে বিশ্বাস করে, তবে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে না। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। কেউ চাঁদাবাজি বা অন্যায় করলে তিনি দলের লোক হলেও রেহাই পাবে না। নেতা হতে হলে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে হয়, টাকা দিয়ে নয়।
আবদুস সালাম বলেন, একটি মহল দুর্বল সরকার চায়, যাতে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায়। এই ষড়যন্ত্র রুখতে হলে বিএনপিকে শক্তিশালীভাবে ক্ষমতায় আনতে হবে। তিনি আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে বিপুল ভোটে তারেক রহমানকে জয়ী করার আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন