

দীর্ঘ দুই যুগ পর নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিতে কাল রংপুরে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার আগমন ঘিরে পুরো বিভাগজুড়ে বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। সেই সাথে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠাতব্য নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তিনি। সমাবেশকে সফল করতে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে বিভক্তি ভুলে এক হয়ে কাজ করছেন নেতাকর্মীরা। যারা মনোনয়ন পাননি, তারাও অভিমান ভুলে এক কাতারে দাঁড়িয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় তারেক রহমান রংপুরের পীরগঞ্জে জুলাই বিপ্লবে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।
রংপুরে ৬টি নির্বাচনী আসন রয়েছে। বিএনপির মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আগে প্রতিটি আসনে চার থেকে পাঁচজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। চূড়ান্ত মনোনয়নের পরে যারা মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের অনেকের মাঝে কিছুটা মান-অভিমান দেখা গিয়েছিল।
প্রচার প্রচারণায় অংশ না নেয়ায় বিএনপির অঙ্গ-সংগঠনের একাধিক নেতাকে শোকজ করা হয়েছিল। তবে তারকে রহমানের আগমনের কারণে অভিমান ভুলে প্রচারণায় নেমেছেন নেতাকর্মীরা। বিএনপি এবং অঙ্গ-সংগঠনের সব নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তারা ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করতে জনগণের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।
তারেক রাহমানের আগমনকে ঘিরে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুর চেম্বার ভবনের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিএনপি। এতে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু এবং রংপুর বিভাগের ছয়টি সংসদীয় আসনের বিএনপির প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে রংপুর অঞ্চলে বিএনপির পক্ষে ব্যাপক গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রতিফলন জনসভায় দেখা যাবে।
তিনি জানান, বিভাগের ৩৩টি আসন থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা জনসভায় অংশ নেবেন।
তিনি আরও বলেন, বৃহত্তর রংপুর দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে এ অঞ্চলের উন্নয়ন, বৈষম্য দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, বিমানবন্দর চালু, শিল্পকারখানা স্থাপন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, সমাবেশকে সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে। আর রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৩ আসনের (সদর ও আংশিক সিটি) সামসুজ্জামান সামু বলেন, দলের প্রধানের রংপুর আগমন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা কাজ করছে। নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
এদিকে তারেক রহমানের সমাবেশকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা-ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছে মহানগর পুলিশ। মঞ্চ ও আশেপাশের ভবনসহ পুরো এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা-ব্যবস্থা থাকবে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকধারী পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া নগরীজুড়ে তল্লাশি চৌকিগুলোতে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী বলেন, জনসভা এলাকা এবং চলাচলের রাস্তা নিরাপদ রাখার জন্য গোয়েন্দাদের নজরদারি চলছে। ইউনিফর্মধারী ফোর্সের পাশাপাশি রুফটপে ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। পরিবেশ শান্তিপূর্ণ এবং নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রয়েছে।
মন্তব্য করুন