

রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ ইবাদত। তবে শারীরিক ও স্বাভাবিক কিছু কারণে অনেক সময় নারীদের রোজা ভেঙে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিশেষ করে রোজা অবস্থায় হঠাৎ পিরিয়ড (হায়েজ) বা প্রসবোত্তর স্রাব (নিফাস) শুরু হলে কী করবেন—এ নিয়ে অনেক নারীর মাঝেই দ্বিধা ও প্রশ্ন দেখা দেয়।
রোজা কি সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে যাবে? বাকি সময় পানাহার করা যাবে কি না? আর এ অবস্থায় করণীয়ই বা কী? ইসলামী শরিয়তের আলোকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, যা জানা থাকলে দুশ্চিন্তা ও বিভ্রান্তি দূর হয়।
চলুন তাহলে জেনে নিই, রোজা অবস্থায় পিরিয়ড শুরু হলে কী করবেন
রোজা অবস্থায় কোনো নারীর পিরিয়ড (হায়েজ) ও প্রসবোত্তর স্রাব (নিফাস) শুরু হলে রোজা ভেঙে যাবে। দিনের বাকি সময় তার জন্য পানাহার থেকে বিরত থাকা আবশ্যক নয়; বরং এক্ষেত্রে সে পানাহার করতে পারবে। তবে প্রকাশ্যে পানাহার না করা ভালো। খাবার ও পানি গ্রহণের এ বিরতি রোজা হিসেবে নয়; বরং তা রোজার সম্মানার্থে করতে হবে।
হজরত আতা (রহ.) বলেছেন, ‘কোনো নারীর রমজান মাসে দিনের শুরুতে মাসিক শুরু হলে সে পানাহার করতে পারবে।’ (মুসন্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৯৪৩১, ফাতাওয়া খানিয়া : ১/২১৮, আলমুহিতুর রাজাবি : ২/৩৪)
অনুরূপভাবে রমজানে দিনের বেলায় মহিলাদের মাসিক বা ঋতুস্রাব বন্ধ হলে সেই দিনের অবশিষ্ট সময় পানাহার থেকে বিরত থাকবে, এটি রোজার সম্মানে, রোজা হিসেবে নয়। এ প্রসঙ্গে হজরত হাসান বরসী (রাহ.) বলেছেন,আর যে হায়েজা মহিলা সুবহে সাদিকের পর পবিত্র হয়েছে, সে অবশিষ্ট দিন আহার করা থেকে বিরত থাকবে। অর্থাৎ রোজার মর্যাদা রক্ষার্থে সাদৃশ্য অবলম্বন করবে। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা: ৯৪৩২)
উল্লেখ্য, হায়েজ ও নিফাসের সময়গুলোতে নামাজ পড়াও নিষেধ। তবে, নামাজ পুরোপুরি মাফ হয়ে যায় এবং পরে কাজা করতে হয় না।
মন্তব্য করুন