

রমজানের বিশেষ আমল সেহরি খাওয়া। শেষ রাতে উঠে সেহরি খেতে হয়। কখনো দেখা যায়, ঘুমের মাঝে স্বপ্নদোষ হয়ে গেছে। তখন অনেকেই ভাবনায় পড়ে যান, এই অবস্থায় সেহরি খাওয়া যাবে কি না। এ নিয়ে ফিকহের কিতাবাদিতে বিশদ সমাধান দেওয়া আছে। চলুন সংক্ষেপে জেনে নেওয়া যাক এর সমাধান।
ফিকহের কিতাবাদিতে বলা আছে, গোসল ফরজ থাকা অবস্থায় সেহরি খেতে কোনো সমস্যা নেই। নাপাক অবস্থায় সেহরি খেলেও রোজা সহিহ হয়ে যাবে। তবে পর্যাপ্ত সময় থাকলে উত্তম হলো, গোসল সেরে তারপর সেহরি খাওয়া। অবশ্য গোসলের আগেই যদি সেহরি খাওয়া হয়, তাহলে ফজরের ওয়াক্তের মধ্যেই গোসল সেরে নামাজ আদায় করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাহানা খুঁজে নামাজ কাজা করার সুযোগ নেই। (জামিয়া ইসলামিয়া বানুরি টাউন, ফাতাওয়া : ১৪৪১০৯২০১২৮৫)
ইফতার ও সেহরির টাইম জানতে ক্লিক করুন..
কোন সময়ে সেহরি খাওয়া ভালো?
হাদিসে বলা হয়েছে, সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময় সেহরি খাওয়া মুস্তাহাব। তবে এত দেরি করা মাকরুহ যে, সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয়।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সকল নবীকে সময় হওয়ার পরপরই ইফতার তাড়াতাড়ি করতে এবং সেহরি শেষ সময়ে খেতে আদেশ করা হয়েছে।’ (আলমুজামুল আওসাত-তবারানী : ১৮৮৪, মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ৩/৩৬৮)
আমর ইবনে মায়মুন আলআওদি (রাহ.) বলেন, সাহাবায়ে কেরাম দ্রুত ইফতার করতেন আর শেষ সময়ে সেহরি খেতেন। (মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক : ৭৫৯১, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৯০২৫)
সেহরি খাওয়ার দোয়া
সেহরির শুরুতে পড়ার মতো কোনো দোয়া কোরআন-হাদিসে বর্ণিত হয়নি। সেজন্য সেহরি খেতে নির্দিষ্ট কোনো দোয়া পড়ার দরকার নেই। অবশ্য যেকোনো খাবারের শুরুতে পড়ার জন্য রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত একটি দোয়া রয়েছে, সেহরির শুরুতে তা পাঠ করা যেতে পারে।
আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা ‘বিসমিল্লাহি ওয়া বারাকাতিল্লাহ’ বলে খাবার গ্রহণ করো।’ {মুসতাদরাকে হাকেম : ৫/১৪৬, হাকেম ও হাফেজ জাহাবি (রাহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।}
অবশ্য ‘আলা’ শব্দ যুক্ত করে ‘বিসমিল্লাহি ওয়া আলা বারাকাতিল্লাহ’ এভাবেও পড়া যায়। দোয়াটি ইবনুল জাযারি (রাহ.) তার আলহিসনুল হাসিন গ্রন্থে (পৃ. ২৫৫) উল্লেখ করেছেন। তিনি আলমুসতাদরাক-এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন।