

রঞ্জি ট্রফিতে ইতিহাস। প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল জম্মু ও কাশ্মীর। কর্নাটকের বিপক্ষে দুই ইনিংসেই রানের পাহাড়ে বসেছিলেন আকিব নবিরা। পঞ্চম দিনে ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই হার মানে ময়ঙ্ক আগরওয়াল, কেএল রাহুলদের কর্নাটক। জম্মু ও কাশ্মীর ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৪২ রান করার পর ডিক্লেয়ার দেয়। পঞ্চম দিনে সরাসরি জয় বা ড্র হলেও জয়ের কোনও সম্ভাবনা ছিল না কর্নাটকের কাছে। দেবদত্ত পাড়িক্কলদের বিপক্ষে ম্যাচের সমাপ্তি ঘোষণা করতেই উদযাপন শুরু পরশ ডোগরাদের। গ্যালারিতে উপস্থিত জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাও আনন্দে উদ্বেল হয়ে ওঠেন।
রঞ্জির ফাইনালে প্রথম ব্যাট করতে নেমে ৫৮৪ রানের পাহাড় গড়ে জম্মু-কাশ্মীর। সেঞ্চুরি করেন শুভম পুণ্ডির। কঠিন ম্যাচে ব্যাটাররাই দলকে সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছে দিয়েছিল। বোলাররাও শক্ত করে চেপে ধরেন প্রতিপক্ষকে। যার নেপথ্যে ছিলেন সেই আকিব। ৫৪ রান দিয়ে তুলে নেন ৫ উইকেট। সব মিলিয়ে উইকেট সংখ্যা ৬০। টুর্নামেন্টের সেরাও হন তিনি। কর্নাটকের হয়ে একমাত্র লড়াই চালান ময়ঙ্ক আগরওয়াল। কেএল রাহুল, করুণ নায়ার, দেবদত্ত পাড়িক্কলের মতো তারকাদের কেউই রান পাননি। সেখানে ময়ঙ্ক একা ১৬০ রান করে যান। তাদের ইনিংস শেষ হয় ২৯৩ রানে।
পঞ্চম দিনের ম্যাচ ছিল নিয়মরক্ষার। কামরান ইকবাল এদিন সেঞ্চুরি পূরণ করেন। জম্মু ও কাশ্মীর যেন অপেক্ষা করছিল সাহিল লোতরার সেঞ্চুরির জন্য। শনিবার দুপুরে কর্নাটকের বোলারদের পিষে দিয়ে সেঞ্চুরি পূরণ করার পরই ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৪২ রানে জম্মু ও কাশ্মীর ডিক্লেয়ার ঘোষণা করে। ম্যাচের সমাপ্তিও হয়ে যায় সেখানে। তার সঙ্গে প্রথমবার ভারতের সেরা হল জম্মু ও কাশ্মীর। তাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন খোদ আইসিসির প্রধান জয় শাহ।
এর আগে কোনও বার রঞ্জির সেমিফাইনালে যেতে পারেনি বিসিসিআইয়ের সভাপতি মিঠুন মানহাসের রাজ্য। আর এবার নকআউট মধ্যপ্রদেশ-বাংলাকে হারিয়েছে। ফাইনালে কর্নাটক যথেষ্ট শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। জাতীয় দলের সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়দের দিয়েই গড়া দল। সেখানে আব্দুল সামাদ, যুধবীর সিংরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উপত্যকার স্বপ্নপূরণ করতে লড়ে যান। আর কর্নাটকের ঘরের মাঠ হুবালিতেই ইতিহাস গড়ল অজয় শর্মার শিষ্যরা।