

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্লাব ক্যাটাগরিতে যারা প্রার্থী হয়েছেন তারা এক ছাদের নিচে এসে কাউন্সিলরদের কাছে ভোট চাইলেন। এই ক্যাটাগরিতে ১২ পরিচালক পদের জন্য লড়ছেন ১৬ জন প্রার্থী।
শুক্রবার (৫ জুন) রাতে রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেলে প্রার্থীরা ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কাউন্সিলরদের কাছে ভোট চেয়েছেন। উন্মুক্ত আয়োজনে ১৬ প্রার্থী নিজেদের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক পরিচয়, ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে অভিজ্ঞতা, ভবিষ্যত স্বপ্ন ও বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এগিয়ে নেয়ার রোডম্যাপ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।
বোর্ডে কারা আসছেন তা অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। নির্দিষ্ট প্যানেল না থাকলেও কোরাম অনুসরণ করা হচ্ছে। বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আবারও বোর্ডের পরিচালক নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। এরপর পরিচালকদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বোর্ড প্রধান। ছকে কাটা নির্বাচনের পরিবেশ থাকলেও ভবিষ্যৎ পরিচালকদের উদ্দেশ্যে তামিমের বার্তা স্পষ্ট, নিজের পরিচয় ভুলেই আসতে হবে মিরপুর হোম অব ক্রিকেটে।
কাউন্সিলরদের থেকে তামিম নিজেও ভোট চেয়েছেন। নিজের বক্তব্য দিতে গিয়ে তামিম বলেছেন, ‘আমি একটা অনুরোধই করব ও আশা করব, এই ১৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ক্রিকেটার আছেন, ব্যবসায়ী আছেন, চিকিৎসক আছেন, রাজনৈতিক পরিবার থেকে আসা ব্যক্তিরা আছেন… বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভালোর জন্য একটা ব্যাপার আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, আমরা যারাই নির্বাচিত হই না কেন, মিরপুর স্টেডিয়ামের গেইট দিয়ে ঢুকলে আপনাদের ব্যক্তিগত পরিচয় বাইরে রেখে আসবেন।’
‘যে মুহূর্তে ওই আসনে আপনারা বসবেন, আপনারা কেবল বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেবা করবেন। আপনাদের ব্যক্তিগত পরিচয়ের এখানে গুরুত্ব নেই। একটা ব্যাপারের মূল্য আছে, সেটা হলো আপনাদের ইচ্ছা।’ – যোগ করেন তামিম।
যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আসছে। ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে অনেকেরই অভিজ্ঞতা প্রায় শূন্যর কোটায়। তবুও বিশেষ ক্ষমতাবলে ও রাজনৈতিক সুপারিশে তারা বিসিবির হট সিটে বসতে যাচ্ছেন। অনভিজ্ঞতার প্রসঙ্গটা বারবার সামনে আসলেও তামিম তাদের হয়েই ব্যাট ধরলেন।
খেললেন স্ট্রেইট ড্রাইভ, ‘অবশ্যই অভিজ্ঞতার একটা মূল্য আছে, অভিজ্ঞ সংগঠকদের মূল্য আছে। পাশাপাশি এটিও বিশ্বাস করি, তরুণ, যুব ও তরতাজা মানসিকতার লোকজনও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সৌভাগ্য যে, এই ক্যাটেগরিতে এরকম অনেকেই আছেন। আশা করি, তারা নির্বাচিত হলে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ভালো করে সার্ভ করবেন, এটার মধ্যে আমিও পড়ি।’
তমিম বলেন, ‘গত দেড়-দুই বছর ধরে অনেক ধরনের অনেক কিছু হচ্ছে। আমিও অনেক কিছু হয়তো অনেক সময় বলেছি। সবকিছু নিয়ে একটা অশান্তির মধ্যে ছিলাম। আশা করি, যারাই নির্বাচিত হবেন, একটা সেটেলড বোর্ড হবে।’