চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

চট্টগ্রামজুড়ে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা

আর্জেন্টিনার পতাকা জড়িয়ে এক ক্ষুদে সমর্থক। ছবি : কালবেলা
আর্জেন্টিনার পতাকা জড়িয়ে এক ক্ষুদে সমর্থক। ছবি : কালবেলা

ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে চট্টগ্রামেও। মহানগরীর প্রতিটি মহল্লা ও চায়ের ছোট-বড় দোকানে এখন বিশ্বকাপ নিয়েই তর্ক-বিতর্ক। নানা জায়গায় চলছে খেলোয়াড়দের নিয়ে বিশ্লেষণ। কে এগিয়ে, কার আক্রমণভাগ শক্তিশালী, কোন দলের মিড ফিল্ডার ফর্মে রয়েছে কিংবা কার গোলরক্ষক নির্ভরযোগ্য এসব নিয়ে তর্কে মুখর চট্টগ্রামের ফুটবল প্রেমীরা। অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও চলছে এ যুদ্ধ।

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে মাত্র চার দিন বাকি। ১১ জুন স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা দলের ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠছে ফুটবলের সবচাইতে বড় আসরের যার যবনিকা ঘটবে ১৯ জুলাই ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে। এই মেগা ইভেন্টে অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দেশ, সর্বমোট ম্যাচ ১০৪টি।

ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে কথা হয়েছিল আগ্রাবাদ সরকারি কমার্স কলেজ শিক্ষার্থী জয় দে’র সঙ্গে। তিনি বলেন, উদ্বোধনী ম্যাচটা আমরা একসঙ্গে দেখব। বন্ধুদের নিয়ে বড় পর্দায় খেলা দেখার পরিকল্পনা করেছি। পাশেই বসা আরিফ যোগ করেন, বিশ্বকাপ মানেই আলাদা অনুভূতি, আবেগ ও উত্তেজনা।

রেয়াজউদ্দিন বাজার, নিউমার্কেট ও কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়াম মার্কেটগুলোতে ইতোমধ্যেই শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন দেশের পতাকা ও জার্সি। রেয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী দিদারুল আলম বলেন, ভিন্ন সাইজের পতাকার দাম বিভিন্ন রকম। ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত।

কাজির দেউড়ি এ্যাপোলো শপিং মার্কেটে অবস্থিত টেন স্পোর্টস দোকানের সেলসম্যান ফয়সাল বলেন, বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসায় জার্সি বিক্রি বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে প্রিয় দলের জার্সি কেনার আগ্রহ বেশি। এবার ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল, ফ্রান্স জার্মানির জার্সির পাশাপাশি নেদারল্যান্ড ফুটবল দলের জার্সি বিক্রয় হচ্ছে। তবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার জার্সির চাহিদা সবচাইতে বেশি।

কাজির দেউড়ি এলাকার স্টেডিয়াম মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকার মধ্যে বিভিন্ন কোয়ালিটির জার্সি বিক্রি হচ্ছে। প্লেয়ার্স স্পোর্টস দোকানের কর্মী জহির বলেন, কাপড় কোয়ালিটি ও কোন দলের জার্সি তার উপর দাম নির্ভর করে। বিভিন্ন এলাকার কিশোরেরা আসে তাদের জন্য কম দামের জার্সি রাখতে হয়। আবার চাকরিজীবী-ব্যবসায়ী আছে কিছু, যাদের জন্য কোয়ালিটি জার্সি রাখতে হয়।

বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় উড়তে শুরু করেছে নানা দেশের পতাকা। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, দোকানপাট এবং সড়কের পাশে চোখে পড়ছে প্রিয় দলের রঙিন পতাকা। ফুটবলপ্রেমীরা নিজেদের সমর্থন প্রকাশে কিনছেন বিভিন্ন আকারের পতাকা। ফলে বিক্রিও বেড়েছে কয়েক গুণ। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় বিশ্বকাপের মৌসুমে ব্যস্ততা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

নগরের সিনেমা প্যালেস এলাকার ব্যবসায়ী আবদুর রহিম জানান, বিশ্বকাপ সামনে রেখে তিনি গত মার্চ মাস থেকেই পতাকা তৈরির কাজ শুরু করেন। কয়েক মাস ধরে চলে কাপড় সংগ্রহ, নকশা তৈরি, কাটিং ও সেলাইয়ের কাজ। ইতোমধ্যে তিনি বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার পতাকা তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, ‘কোন দলের পতাকা বেশি বিক্রি হবে, সেটা সমর্থকদের আগ্রহের ওপর নির্ভর করে। তবে আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের পতাকার চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে’।

দোকান ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি কাপড়ের স্তূপ, সেলাই মেশিনের অবিরাম শব্দ আর কর্মীদের ব্যস্ত পদচারণা। আকাশি-সাদা রঙের আর্জেন্টিনার পতাকা এবং সবুজ-হলুদ রঙের ব্রাজিলের পতাকাই সবচেয়ে বেশি তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি জার্মানি, পর্তুগাল, স্পেন ও ফ্রান্সের পতাকারও উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে।

খবর নিয়ে জানা গেছে, শহরের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফেতে বড় স্ক্রিন বসানোর প্রস্তুতি চলছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখার ইভেন্ট খুলেছেন। কেউ কেউ বাড়ির ছাদে প্রজেক্টর বসানোর পরিকল্পনাও করছেন। আবার কেউ বাড়ির ছাদের উপর থেকে নিজ পর্যন্ত প্রিয় দলের পতাকা ঝুলিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করে রেখেছেন।

নগরীর মোমিন রোডের বাসিন্দা বাবু চৌধুরী বলেন, বিশ্বকাপের সময় রাত জেগে খেলা দেখা একটা আলাদা আনন্দ। পরিবার-পরিজন নিয়ে বসে খেলা দেখব। তবে এবার অনেক ম্যাচ বাংলাদেশ সময় সকালবেলাও পড়েছে। সেগুলো দেখতে একটু কষ্ট হবে। চকবাজারের বাসিন্দা রাহুল বলেন, গত দুইবারের বিশ্বকাপ ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো প্রজেক্টরে দেখেছি। এবারও প্রজেক্টর ভাড়া করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শুধু শহরেই নয়, গ্রামেও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবল উন্মাদনা। প্রিয় দলের ছবি দিয়ে বিশাল বিশাল ব্যানার টাঙানো হয়েছে এলাকায় এলাকায়। খেলা দেখার জন্য প্রজেক্টরের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে কোনো কোনো এলাকায়।

শুধু তরুণ নয়, পরিবারগুলোতেও শুরু হয়েছে বিশ্বকাপের আলোচনা। স্কুলপড়ুয়া শিশুরা প্রিয় দলের পতাকা আঁকছে। কেউ জার্সি পরে স্কুলে যাচ্ছে। অনেক পরিবারই বিশ্বকাপের সময় রাতের ম্যাচগুলো দেখার পরিকল্পনা করছে। আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ চট্টগ্রামবাসীর মনে যেন নতুন এক উৎসবের সৃষ্টি করেছে। এ উৎসবের রং ছুঁয়ে গেছে শিশু, তরুণ থেকে শুরু করে বয়স্কদের মনে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

আইনজীবী আমিনুল গণির মৃত্যুতে অ্যাটর্নি জেনারেল ও চিফ প্রসিকিউটরের শোক

৭২’র সংবিধান নিয়ে ‘অতিকথন’ রয়েছে: আসিফ নজরুল

ডাকাতির অভিযোগে গণপিটুনিতে যুবক নিহত

ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৫

বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের দৌড়ে এগিয়ে কারা?

বাস খাদে পড়ে নিহত ৪

নতুন করে সংঘাত, নাগরিকদের ইরান ছাড়তে বলল ভারত

ঐতিহাসিক মোড়ে দাঁড়িয়ে চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক: শি জিনপিং

সব রেকর্ড ভাঙছে ২০২৬ বিশ্বকাপ! ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথম ঘটতে যাচ্ছে যা কিছু

১০

আজ বেস্ট ফ্রেন্ড দিবস

১১

তার চুরির সময় বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেল যুবকের

১২

উত্তর কোরিয়ায় পৌঁছেছেন শি জিনপিং, স্বাগত জানালেন কিম জং উন ও তার স্ত্রী

১৩

কেন ঢাক-ঢোল বাজিয়ে শতবর্ষী বাবাকে দাফনের চেষ্টা ছেলের

১৪

বেতন বাড়ল মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর এপিএসদের

১৫

হামে শিশু মৃত্যু / ড. ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এমপির মামলার আবেদন খারিজ

১৬

ইরান-ইসরায়েল সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ কানাডার

১৭

ভুট্টার দাম না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় চাষিরা

১৮

মবতন্ত্র রাজনীতিতে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে: যুবদল সভাপতি

১৯

পরীক্ষার কেন্দ্র পরিবর্তনের দাবিতে সড়ক অবরোধ

২০
X