

বকেয়া ও অন্যান্য আইনসঙ্গত পাওনা আদায়ে আন্দোলনে নেমেছেন গ্রামীণফোনের (জিপি) সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় তাদের ৬ কর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেন অংশগ্রহণকারীরা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে রাজধানীর বসুন্ধরাস্থ জিপির প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘গ্রামীণফোন ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে আন্দোলনে নামেন সাবেক এই কর্মীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে কর্মীরা গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয়ের আশেপাশে কর্মীরা অবস্থান করেন। যমুনা ফিউচার পার্কসহ আশেপাশের গলিতে তারা অবস্থান করার সময় ৬ জনকে আটক করে ভাটারা থানায় প্রেরণ করা হয়। এছাড়াও গ্রামীনফোনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে প্রচুর পরিমাণে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাটারা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, গ্রেপ্তার নয় তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করে সংশ্লিষ্টতা পেলে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে, না হলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।
আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, আজকের কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় ৫-৬ শতাদিক সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা এখানে এসেছেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা তাদের দাবি অনুযায়ী দীর্ঘদিনের বকেয়া ৫ শতাংশ বিলম্ব পাওনা পরিশোধের আহ্বান শান্তিপূর্ণ ও আলোচনাভিত্তিক সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করবেন।
প্রাথমিকভাবে আটককৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন আন্দোলনে আসা আরেক সাবেক কর্মী শাকিলা মালিক। আটককৃত ৬ জনের মধ্যে রয়েছেন- খালিদ মামুন, বুলবুল, নজরুল, কালাম, মজিবর ও কোরেইশি।
এই বিষয়ে গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশনস শারফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, গ্রামীণফোনের কিছু সাবেক কর্মীরা যে দাবিগুলো তুলেছেন সেগুলো বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। তাই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতেই এসব বিষয়ের নিষ্পত্তি হবে বলে বিশ্বাস করে গ্রামীণফোন।
পুলিশ মোতায়েনের বিষয়ে তিনি বলেন, গ্রামীণফোন তার কর্মী এবং কোম্পানির সম্পদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যথাযথ আইনি প্রতিকার নিতে বাধ্য হয়েছে। ব্যক্তি ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জিপি হাউজের আশেপাশে মোতায়েন রয়েছে।
এর আগেও বিভিন্ন সময় আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেছিল গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘চাকরিচ্যুত ও অধিকার বঞ্চিত গ্রামীণফোন শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে বিক্ষোভ করেন তারা।
ওইদিন জলকামান ও লাঠিপেঠা করে আন্দোলনরতদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছিল পুলিশ। নারীসহ আন্দোলনকারীদের বেশ কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছিল।