

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় নাইজেরিয়ায় শিশু অপুষ্টি ও দারিদ্র্য ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশটির উত্তরাঞ্চলের দরিদ্র পরিবারগুলো। এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)।
বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ার সকোতো অঙ্গরাজ্যে অনেক শিশু চিকিৎসার পর সুস্থ হলেও আবার অপুষ্টিতে আক্রান্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, ইরান যুদ্ধের পর জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ।
১৮ মাস বয়সী কন্যা সন্তানকে দ্বিতীয়বার অপুষ্টির চিকিৎসা করাতে বাধ্য হয়েছেন সকোতোর বাসিন্দা মরিয়ম আমিনু। তিনি জানান, ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর পেট্রোলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তার স্বামী ট্যাক্সিচালকের চাকরি হারান। এরপর থেকে পরিবারের জন্য নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চল আগে থেকেই সশস্ত্র বিদ্রোহ, দারিদ্র্য ও খাদ্যসংকটে ভুগছিল। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি খাদ্য নিরাপত্তা সংকট আরও তীব্র করেছে।
বিশ্বব্যাংকের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে নাইজেরিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ৯০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বা দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে রয়েছে।
অন্যদিকে ইউনিসেফ সতর্ক করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ বিশ্বের আরও ২ কোটি ৩৪ লাখ শিশু আয় বা ভোগক্ষমতার দিক থেকে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারে। এর অন্তত ৮০ শতাংশ শিশু আফ্রিকা ও এশিয়ার হবে।
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের মূল্য শুধু ওই অঞ্চলের শিশুরাই নয়, বিশ্বের বহু দেশের শিশুরাও দিচ্ছে। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, শিশুদের জন্য এর পরিণতি তত ভয়াবহ হবে।
ইরান যুদ্ধ চলাকালে হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। এর প্রভাবে নাইজেরিয়ায় ফেব্রুয়ারিতে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৮০০ নাইরা থেকে এপ্রিলে ১ হাজার ৪০০ নাইরায় পৌঁছে। ফলে খাদ্য, সার, পরিবহনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেড়ে যায়।
সকোতোর হাসপাতালগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত অপুষ্টির চিকিৎসা নেওয়ার পর আবার অসুস্থ হয়ে অন্তত ৪০টি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আরও অনেক শিশু চিকিৎসার বাইরে রয়েছে।
স্বাস্থ্যকর্মী হালিমা মুহাম্মদ বলেন, আগের তুলনায় অনেক বেশি শিশু দ্বিতীয়বার অপুষ্টিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ফিরছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।