

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান ও ইরাকের সম্পর্ক কেবল প্রতিবেশী দুই দেশের প্রচলিত সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও সভ্যতাগত বন্ধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা কোনো সীমান্ত বা শক্তি বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না। খবর ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনার।
বুধবার (২২ জুলাই) তেহরানে নবনিযুক্ত ইরাকি রাষ্ট্রদূত ইয়াসের আবদুলজাহরা আল-হাজ্জাজের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান ও ইরাকের জনগণ অভিন্ন ভাগ্য, স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষার অংশীদার। এই সম্পর্ক এমন গভীর ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা কোনো সীমান্ত বা বাহ্যিক প্রভাব দ্বারা বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয়।
তিনি দুই দেশের মধ্যে সর্বাত্মক সহযোগিতা আরও জোরদার, আঞ্চলিক ঐক্য বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে শান্তি, নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, অঞ্চল এবং মুসলিম বিশ্বে বিপুল মানবসম্পদ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে। অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়াতে পারলে আঞ্চলিক দেশগুলো, বিশেষ করে মুসলিম রাষ্ট্রগুলো, শান্তি, নিরাপত্তা, অগ্রগতি ও টেকসই উন্নয়নের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
তিনি অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, রাজনীতি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরাক ও অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণে তেহরানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
পেজেশকিয়ান ইরাকে আয়োজিত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনির ঐতিহাসিক গণজানাজার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ওই বিশাল জনসমাগম দুই দেশের জনগণের গভীর আবেগ, আদর্শিক বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের সুস্পষ্ট প্রতিফলন।
এদিকে ইরাকের রাষ্ট্রদূত আল-হাজ্জাজ তেহরান-বাগদাদ সম্পর্ককে কৌশলগত, গভীর ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ইরান সফর এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের এই সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করবে।