কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম
আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
সিএনএনের প্রতিবেদন

ইরান যুদ্ধে ফুরিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার, ভবিষ্যতে টিকে থাকা নিয়ে শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ভবিষ্যতে চীন বা উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ ঘোষণা করার পর এ উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্নেল মার্ক কানসিয়ান বলেন, বর্তমান গতিতে যুদ্ধ চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত এমন পর্যায়ে নেমে যেতে পারে, যা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে।

যুদ্ধের প্রথম ধাপেই যুক্তরাষ্ট্র কয়েক হাজার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। সিএসআইএসের হিসাব অনুযায়ী, গত এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তাদের অন্তত অর্ধেক থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর, প্রায় অর্ধেক প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ৩০ শতাংশ টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষক মাইকেল ও'হ্যানলন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত কমে গেছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।

এই ঘাটতি পূরণ করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। বর্তমানে পেন্টাগন প্রতি মাসে গড়ে মাত্র ১৫টি টমাহক ও ২০টি নতুন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে। আর ২০২৬ সালে নতুন কোনো থাড ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই।

সাবেক পেন্টাগন কর্মকর্তা এলেন ম্যাককাসকার বলেন, অধিকাংশ অস্ত্রের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দুই থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলার পর একটি অজ্ঞাত স্থানে বিস্ফোরণ থেকে ধোঁয়া উড়ছে; দাবি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম)। ৮ জুলাই, ২০২৬ তারিখে প্রকাশ করা একটি ভিডিও থেকে নেওয়া দৃশ্য। ছবি: রয়টার্স

এদিকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিশেষজ্ঞ জন ফেরারি বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য কংগ্রেস থেকে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ হয়নি। ফলে উৎপাদন এখনো স্বাভাবিক গতিতেই চলছে।

এই পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউস যুদ্ধ ব্যয় মেটাতে কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত অর্থ চেয়েছে। পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে ‘ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট’ ব্যবহার করে উৎপাদন প্রক্রিয়া দ্রুত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

তবে এসব পদক্ষেপের সুফল পেতে সময় লাগবে। কারণ নতুন উৎপাদন লাইন চালু করা সহজ নয়। উদাহরণ হিসেবে জাপানে একটি প্যাট্রিয়ট কারখানা নির্মাণে তিন বছর লেগেছে, আর জার্মানি ২০২২ সালে কাজ শুরু করলেও এখনো উৎপাদন শুরু করতে পারেনি।

পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল অবশ্য দাবি করেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী এখনো যুক্তরাষ্ট্রেরই এবং যে কোনো সময় প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র ও সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

মাইকেল ও’হ্যানলন মনে করেন, চীন বা উত্তর কোরিয়াকে প্রতিহত করার সক্ষমতা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের আছে। তবে একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে এই সক্ষমতা কমে যেতে পারে। সেই পর্যায়টি ঠিক কোথায়, তা হয়তো আমরা জানতে পারব না, কারণ এটি মূলত শত্রুর মনস্তত্ত্বের ওপর নির্ভর করে।'

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কুয়েতে ড্রোন হামলা ইরানের, প্রতিহতে লড়ছে দেশটির বাহিনী

ফের বাড়ছে দুধকুমার নদের পানি

হরমুজ প্রণালি বন্ধের সময়সীমা জানাল আইআরজিসি

মোসাদের পরিকল্পনার অভিযোগ নাকচ করলেন আহমাদিনেজাদ

মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমানের অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা

উপাচার্যের দাবি / জাবি দেশের প্রথম ‘নিষিদ্ধ ছাত্রলীগমুক্ত’ ক্যাম্পাস

নেত্রকোনায় অচল ১ টাকার কয়েন, ফিরিয়ে দিচ্ছে ভিক্ষুকও

সিরিয়া ও লেবানন থেকে সেনা সরাতে নেতানিয়াহুকে চাপ ট্রাম্পের

সমবায় সমিতির টাকা লুট করে উধাও আওয়ামী লীগ নেতা

যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক স্থাপনায় হামলা যুদ্ধাপরাধ: জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি

১০

ইরানের তেল রপ্তানি ঠেকাতে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

১১

সৌদি আরবে গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল বাংলাদেশি যুবকের

১২

‘শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলে জনগণ কাউকে ক্ষমা করবে না’

১৩

বুধবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

১৪

আদমজী ইপিজেডে কাপড়ের গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৯ ইউনিট

১৫

নতুন পে স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির বৈঠক আজ, আলোচনায় যেসব বিষয়

১৬

জলাবদ্ধ সড়কে ধানের চারা লাগিয়ে এলাকাবাসীর অভিনব প্রতিবাদ

১৭

যে শর্তে হরমুজে ২০ শতাংশ ফি প্রত্যাহার করলেন ট্রাম্প

১৮

ফ্রান্সের সঙ্গে যাত্রা শেষ দেশমের, কে হতে যাচ্ছেন পরবর্তী কোচ?

১৯

কে জানত? মেসির কোলের এই শিশুটি ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলবে 

২০
X