

বিগত সরকার আমলে লুটপাটের শিকার বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম এবি ব্যাংক। অবশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও ব্যাংকটির অবস্থা অন্যান্য দুর্বল ব্যাংকের চেয়ে তুলনামূলক ভালো। তবে আগের শক্তিশালী অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে আরও। সেই লক্ষ্যে ৩ বছরের স্বল্পমেয়াদিসহ ১০ বছরের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে ব্যাংকটি। এ নিয়ে বিস্তারিত বলেছেন এবি ব্যাংকের এমডি ও সিইও সৈয়দ মিজানুর রহমান
আপনার পর্যবেক্ষণে বর্তমানে ব্যাংক খাতে প্রধান চ্যালেঞ্জ কী কী?
সৈয়দ মিজানুর রহমান: প্রধান চ্যালেঞ্জ–বিনিয়োগে স্থবিরতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, নন-পারফর্মিং লোন এবং আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি ও মান রক্ষা। এ ছাড়া ফিনটেক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের প্রতিযোগিতা, কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করাও বড় চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারলে দ্রুতই ব্যাংক খাত ঘুরে দাঁড়াবে।
এবি ব্যাংক বর্তমানে কী অবস্থায় আছে?
সৈয়দ মিজানুর রহমান: দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের কারণে ব্যাংক কিছুটা দুর্বল হয়েছে। তবে আমাদের ব্যাংকের ভিত্তি এখনো মজবুত। খুব বেশি তারল্য সংকট নেই এবং আমানত ধীরে ধীরে বাড়ছে। গত ৯ মাসে নিট আমানত বেড়েছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। নতুন আমানত এসেছে ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। ব্যাংকের গ্রাহকরা এখনো আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। বর্তমানে ব্যাংকে ফরেনসিক অডিট চলছে, যা শেষ হতে তিন-চার মাস সময় লাগবে। অডিট শেষ হলে পুরো চিত্র পরিষ্কার হবে এবং কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে।
অডিটের পর প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে এলে এবি ব্যাংক একীভূত হতে পারে– এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
সৈয়দ মিজানুর রহমান: এটা ভুল ধারণা। এবি ব্যাংক এখনো একীভূত হওয়ার মতো খারাপ অবস্থায় নেই। আমরা দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াব।
এজন্য কত সময় লাগতে পারে?
সৈয়দ মিজানুর রহমান: দেশের অন্যান্য ব্যাংকের মতো এবি ব্যাংকেও গত ১৫ বছরে কিছু অনিয়ম হয়েছে। এজন্য আমাদের খেলাপি ঋণ ৭০ শতাংশ ছাড়িয়েছে এবং প্রভিশনেও ঘাটতি রয়েছে। যদিও ডেফারেল সুবিধার মাধ্যমে প্রভিশন সংরক্ষণে আমরা কিছু সুবিধা ভোগ করছি। বর্তমানে এবি ব্যাংক যে অবস্থায় আছে, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে আমাদের সময় লাগবে প্রায় তিন বছর। আর করপোরেট গভর্ন্যান্স ধরে রাখা গেলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে আমরা দেশের শক্তিশালী ব্যাংকের তালিকায় নাম লেখাতে পারব। এজন্য আমরা এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে ১০ বছরের কর্মপরিকল্পনা দিয়েছি।
খেলাপি ঋণ আদায়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
সৈয়দ মিজানুর রহমান: একটি টাস্কফোর্স ও বিশেষ পুনরুদ্ধার দল গঠন করা হয়েছে। গত পাঁচ মাসে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায় করা হয়েছে এবং প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। আমরা ছোট গ্রাহকদের থেকে আশানুরূপ সাড়া পাচ্ছি। একই সঙ্গে বড় গ্রাহকদের থেকে অর্থ উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এবি ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
সৈয়দ মিজানুর রহমান: মূল লক্ষ্য ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। আমরা করপোরেট ঋণ বিতরণ আপাতত স্থগিত রেখেছি এবং কৃষি, এসএমই এবং নিরাপদ খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। নতুন উদ্ভাবনী সেবা চালু করে গ্রাহকসেবা উন্নয়ন ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।