

ক্যানসার শনাক্তে দেশে প্রথম রোবোটিক এমআরআই-ইউএসজি ফিউশন প্রোস্টেট বায়োপসি করেছে স্কয়ার হাসপাতাল। হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. এন আই ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একদল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মোনা লিসা রোবোটিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ছয় রোগীর বায়োপসি সফলভাবে সম্পন্ন করেন।
গত রোববার (৭ জুন) ধানমন্ডি স্কয়ার হাসপাতালে ছয় রোগীর রোবটিক প্রোস্টেট বায়োপসি সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। বায়োপসি শেষে অধ্যাপক ডা. এন আই ভূঁইয়া কালবেলাকে বলেন, প্রোস্টেট ক্যানসার নিখুঁতভাবে শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত একটি আধুনিক পদ্ধতি। তবে বাংলাদেশে এই প্রযুক্তির ব্যবহার প্রথম। প্রচলিত বায়োপসি পদ্ধতিতে অনেক সময় প্রোস্টেটের ভেতরে থাকা ছোট বা নির্দিষ্ট টিউমার শনাক্ত করা কঠিন হয়। কিন্তু রোবোটিক ফিউশন প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্যানসার-সন্দেহভাজন অংশ নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করে সেখান থেকেই নমুনা সংগ্রহ করা যায়। ফলে রোগ নির্ণয়ের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং অপ্রয়োজনীয় পুনরায় বায়োপসির প্রয়োজন কমে আসে।
রোবটিক প্রোস্টেট বায়োপসির সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, এ প্রক্রিয়ায় মোনা লিসা ডিএক্স রোবোটিক বায়োপসি সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগীর পূর্বে করা এমআরআই স্ক্যান এবং তাৎক্ষণিক আল্ট্রাসাউন্ড চিত্র একত্রিত করে প্রোস্টেটের একটি ত্রিমাত্রিক (৩ডি) মানচিত্র তৈরি করা হয়। এরপর রোবোটিক গাইডেন্সের সাহায্যে সন্দেহজনক অংশ থেকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।
রোবোটিক এমআরআই-ইউএসজি ফিউশন প্রোস্টেট বায়োপসি শেষে এই দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এন আই ভূঁইয়া কালবেলাকে বলেন, দেশে চিকিৎসাখাতে এই রোবটের ব্যবহার একটি নতুন দিগন্তের উন্মোচন। স্কয়ার হসপিটালে আমরা দেশের প্রথম রোবোটিক অ্যাসিস্টেড এমআরআই-ইউএসজি ফিউশন প্রোস্টেট বায়োপসি সম্পন্ন করেছি। প্রোস্টেট ক্যানসার নিখুঁতভাবে শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত একটি আধুনিক পদ্ধতি। তবে বাংলাদেশে এই রোবটের ব্যবহার এই প্রথম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্তকরণে উন্নত দেশগুলোতে এমআরআই-ভিত্তিক টার্গেটেড ফিউশন বায়োপসির ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশে এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ দেশের ইউরোলজি চিকিৎসাকে আন্তর্জাতিক মানের সেবার আরও কাছাকাছি নিয়ে যাবে।
চিকিৎসকরা আশা করছেন, এ ধরনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি চালুর ফলে দেশের রোগীদের উন্নত পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকাংশে কমে আসবে এবং বিশ্বমানের সেবা দেশের মধ্যেই পাওয়া সম্ভব হবে। ফলে ইউরোলজি চিকিৎসায় আর বিদেশ নয়, আমাদের দেশেই বিশ্বমানের চিকিৎসা নিশ্চিত হবে।