

প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা আলোচনায় বসতে যাচ্ছে রাশিয়া। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে এ বৈঠক শুরু হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম জানিয়েছে, শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানীতে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং সংকটের রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই সংলাপ দুদিন চলবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, শুক্রবার আবুধাবিতে ইউক্রেন এবং রাশিয়ার আলোচকরা ভূখণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনা করেছেন। তবে সেখানে কোনো আপসের লক্ষণ দেখা যায়নি।
তিন পক্ষের নিরাপত্তা আলোচনায় মস্কোর প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন রুশ অ্যাডমিরাল ইগর কস্তুকভ। পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে আলাদাভাবে উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করবেন দিমিত্রিয়েভ। গতকাল ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশাকভের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানায়।
এএফপি জানিয়েছে, ইউক্রেনের পক্ষে বৈঠকে থাকবেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির নতুন চিফ অব স্টাফ কিরিলো বুদানভ, নিরাপত্তা প্রধান রুসতেম উমেরভ, সেনাপ্রধান আন্দ্রি নাটোভ ও নেগোশিয়েটর ডেভিড আরাখামিয়া।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে মস্কোয় তিন মার্কিন দূতের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দীর্ঘ বৈঠক হয়। এরপর মস্কোর পক্ষ থেকে বলা হয়, ভূখণ্ডকেন্দ্রিক বিষয়গুলোর সমাধান না হলে টেকসই শান্তি সম্ভব নয়।
এ বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছিলেন উশাকভ ও পুতিনের বিনিয়োগবিষয়ক দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ। অন্যদিকে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, জামাতা জ্যারেড কুশনার ও সম্প্রতি গঠিত বোর্ড অব পিসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত জশ গ্রুয়েনবাউম।
উশাকভ বলেন, পুতিন জোর দিয়ে বলেছেন যে, রাশিয়া একটি কূটনৈতিক সমাধানে সত্যিকার অর্থেই আগ্রহী। যতক্ষণ না এটি অর্জিত হচ্ছে, ততক্ষণ রাশিয়া বিশেষ সামরিক অভিযানের লক্ষ্যগুলো ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করে যাবে। এটি বিশেষ করে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে রুশ সশস্ত্র বাহিনী কৌশলগত উদ্যোগ ধরে রেখেছে।
এর আগে গত বুধবার ট্রাম্প বলেছেন, পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি যদি সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হন, তবে তারা ‘বোকামি’ করবেন।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলেনস্কি। বৈঠকের পর তিনি বলেন, ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তার শর্তগুলো চূড়ান্ত হয়েছে, তবে ভূখণ্ডের বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত।
এ আলোচনাকে জেলেনস্কি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ‘প্রথম ত্রিপক্ষীয় বৈঠক’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা ভালো।’