রাজধানীর বেইলি রোডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের নিহতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুড়ে যাওয়া ভবনটির পরিচালনা কমিটির সন্ধান পায়নি পুলিশ। সেই কমিটির সদস্য কারা, সেটিও সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। কমিটি সংশ্লিষ্টরাও গা-ঢাকা দেওয়ায় ঘটনা তদন্তেও তেমন অগ্রগতি হয়নি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু ওই ভবনই নয়, আশপাশের অনেক ভবনের পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও গা-ঢাকা দিয়েছেন। গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে আগুন লেগে নিহতের ঘটনায় যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাদের সংশ্লিষ্টতা এবং আর কারা দায়ী, তা নিয়েও চলছে তদন্ত।
অন্যদিকে তিনটি বিষয় মাথায় রেখে আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানের কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস। সেগুলো হলো, বৈদ্যুতিক তার লিকেজ, সিলিন্ডার বা এসি বিস্ফোরণ। পাশাপাশি কোন রেস্টুরেন্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত, তা নিয়েও চলছে অনুসন্ধান।
এর আগে আগুন লাগার ঘটনায় রমনা থানায় মামলার পর চুমুক রেস্তোরাঁর দুই মালিক আনোয়ারুল হক ও শফিকুর রহমান রিমন, কাচ্চি ভাইয়ের বেইলি রোড শাখার ব্যবস্থাপক জয়নুদ্দিন জিসান এবং গ্রিন কোজি কটেজ ভবনের ব্যবস্থাপক মুন্সি হামিমুল আলম বিপুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদের আদালতের মাধ্যমে দুদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারদের দুদিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তারা এ ঘটনার সঙ্গে নিজেদের দায় স্বীকার করেননি। তবে তারা দায় স্বীকার না করলেও প্রাথমিকভাবে ওই রেস্টুরেন্টগুলোর গাফিলতির বিষয়টি উঠে এসেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু আনছার কালবেলাকে বলেন, পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। গ্রেপ্তারদের প্রাথমিকভাবে দুদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তে বের হয়ে আসবে আরও কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
রমনা থানার ওসি উৎপল বড়ুয়া কালবেলাকে বলেন, ওই ভবনের দায়িত্বে কারা ছিলেন, সে বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। তদন্তের স্বার্থে বিষয়গুলো নিয়ে এখনই আমরা কিছু বলতে পারছি না। আর ভবনে আগুন লাগার উৎস বা কারণ কী, সে বিষয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট দেবে ফায়ার সার্ভিস। তাদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ফায়ার সার্ভিস জানায়, বেইলি রোডের ভবনটিতে আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেশ কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে। সেগুলো সামনে রেখেই তদন্ত এগিয়ে চলেছে। এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস একটি পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন কালবেলাকে বলেন, আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে বৈদ্যুতিক তার লিকেজ, সিলিন্ডার বা এসি বিস্ফোরণের বিষয়গুলো সামনে এসেছে। আমরা সব বিষয় আমলে নিয়েই তদন্ত করছি। তদন্ত শেষ হলে আগুন লাগার কারণ এবং উৎস সম্পর্কে জানা যাবে।