সরকার পতনের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনরত দলগুলোর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের কোনো ক্ষতি করলে ছাড় দেওয়া হবে না, ছেঁকে ছেঁকে ধরা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার আখাউড়া-লাকসাম ৭২ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ রেলপথ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে রেলপথ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে বিএনপি-জামায়াতের হাত থেকে রক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা কেবল ধ্বংস করতে জানে, দুর্নীতি ও লুণ্ঠন করতে জানে; কিন্তু জনগণের সেবা করতে জানে না। সরকার বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেবে না, তবে কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি হলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা তাদের রাজনীতি করতে বাধা দেব না এবং
করছিও না। কিন্তু তারা আবার রেলে আগুন দিলে বা জনগণের কোনো ক্ষতি করলে রেহাই পাবে না। সর্বত্র ক্যামেরা থাকবে এবং কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড করলে দোষীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা তাদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে চাই। নবনির্মিত ৭২ কিমি ডুয়েল গেজ ডাবল ট্র্যাকের সঙ্গে পুরো ৩২১ কিমি ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরটি একটি ডাবল লাইনে পরিণত হয়েছে, যার পরিচালন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ভ্রমণের সময় ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা সাশ্রয় হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল। বিএনপি সন্ত্রাস ছাড়া কিছুই বোঝে না। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যার পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা অফিসার ও সাধারণ মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জিয়ার স্ত্রী (খালেদা জিয়া) যখন ক্ষমতায় আসেন, তিনিও মানুষ হত্যা ছাড়া কিছুই বোঝেননি। আওয়ামী লীগের ২১ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে তারা (বিএনপি) হত্যা করেছিল এবং তার (খালেদা জিয়া) শাসনামলে বিপুলসংখ্যক মানুষের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন ও নির্যাতন চালানো হয়েছিল। বিএনপি ২০১৩-২০১৫ সাল পর্যন্ত যাত্রীসহ বাস-ট্রাক চালক ও হেলপারসহ ৩ হাজার ৮২৪টির বেশি গাড়ি পোড়ায়। ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচন বানচাল করতে বিএনপি-জামায়াত তাদের অগ্নিসংযোগের সময় ২৯টি স্থানে রেলওয়েতে আগুন দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে অনেক ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়েছিল; কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার সাধারণ মানুষের জন্য ট্রেন যাত্রা আরামদায়ক এবং ব্যয়সাশ্রয়ী বিবেচনায় এই খাতের উন্নয়নে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত সাড়ে ১৪ বছরে আমরা ৭৪০ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মাণ করেছি, ২৮০ কিলোমিটার মিটার গেজ রেলপথকে ডুয়েল গেজে রূপান্তরিত করেছি এবং ১,৩০৮ কিলোমিটার রেললাইন পুনঃস্থাপন বা পুনর্নির্মাণ করেছি। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১২৬টি নতুন স্টেশন ভবন নির্মাণ, ২২৩টি স্টেশন ভবন পুনর্নির্মাণ, ৭৩২টি নতুন রেলসেতু নির্মাণ এবং ৭৭৪টি রেলসেতু পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ১১১টি লোকোমোটিভ, ৫৮৮টি যাত্রীবাহী গাড়ি ও ৫১৬টি ওয়াগন (পণ্য বহনের জন্য) সংগ্রহ করা হয়েছে। আমরা বিভিন্ন রুটে ১৪৩টি নতুন ট্রেন চালু করেছি। আমরা নতুন আরও ৪৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ, ৪৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কামরা, ১৫০টি নতুন মিটার গেজ যাত্রীবাহী বগি, নতুন ১২৫টি আধুনিক লাগেজ ভ্যান ও ১ হাজার ৩১০টি নতুন ওয়াগন সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। লাকসাম প্রান্ত থেকে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং রেলওয়ে সচিব ড. হুমায়ুন কবির স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নয়নের ওপর একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
মন্তব্য করুন