সঞ্জয় হালদার
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০৪ জুন ২০২৫, ০৭:৪২ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
কালবেলার বিশেষ সাক্ষাৎকার

বাজেটে সরকারের পথনকশা অনুপস্থিত

বাজেটে সরকারের পথনকশা অনুপস্থিত

ড. জাহিদ হোসেন; বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ। তিনি চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনৈতিক অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর শেষে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষকতা করেছেন বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও পোল্যান্ডে। বাংলাদেশের ব্যাংক খাত, উন্নয়ননীতি পর্যালোচনাসহ বাংলাদেশ, দক্ষিণ এশিয়া ও বৈশ্বিক অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে কালবেলার সঙ্গে কথা বলেছেন

কালবেলা: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষিত হলো। কেমন দেখলেন?

ড. জাহিদ হোসেন: সার্বিকভাবে বাজেটকে যদি মুদ্রা হিসেবে দেখা যায়, তাহলে এর দুটো দিক রয়েছে। তার একটা ব্যয়, আরেকটা অর্থায়ন। ব্যয়ের দিক দিয়ে বাজেটে কোনো চমক নেই; বরং মোটামুটি গতানুগতিক। আর অর্থায়নের দিক থেকে যে লক্ষ্যটা রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটা অর্জনযোগ্য নয়। তবে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে, সেখানে কিছু সাহসী পদক্ষেপ রয়েছে। বিদেশি অর্থায়নের যে লক্ষ্যটা, সেটা অর্জন করা সম্ভব। কিন্তু সেখানেও কাজ করতে হবে। মানে লক্ষ্য অর্জনে আগের থেকে ভালো কাজ করতে হবে। অভ্যন্তরীণ সূত্রের অর্থায়নের ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকার মতো, এর মধ্যে থাকতে হবে। এর মধ্যে থাকেলও এটা ব্যক্তি খাতে ঋণপ্রবাহের ওপর একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে যদি ডিপোজিটের প্রবৃদ্ধি আগের বছরের তুলনায় আরও বেশি না হয়।

কালবেলা: অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর এবারের বাজেটে নতুন কিছুর প্রত্যাশা ছিল সবার মনে। আপনি কি নতুন কিছু দেখছেন?

ড. জাহিদ হোসেন: নতুন একেবারে যে কিছু নেই, তা নয়। যেমন ধরুন, দরিদ্র পরিবারদের জন্য কিছু বাজেট বাড়ানো হয়েছে। চলমান কর্মসূচি যেগুলো রয়েছে, তার আওতাভাতা বেড়েছে। সেই বৃদ্ধিটা প্রয়োজনের তুলনায় যে পর্যাপ্ত অবশ্যই নয়। তবে আমরা যেখানে আছি, তার থেকে এগোচ্ছে। খুব বেশি এগোচ্ছে না, কিন্তু এগোচ্ছে। তবুও এটা কিন্তু নতুন কিছু নয়। তবে যেটা নতুন, তা হচ্ছে— দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার জন্য ৪ হাজার কোটির অধিক টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ধরনের কর্মসূচি কিন্তু আগে কখনো দেখা যায়নি। স্বাস্থ্য ও দারিদ্র—এ দুটোকে মিলিয়ে রাখা হয়েছে আলাদা একটা ফান্ড। পাশাপাশি এক হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে দরিদ্রদের টিকাদান কর্মসূচির জন্য। এদিকে একটি নতুনত্ব আছে। আরেকটা দিক আছে, যেটা জুলাই-আগস্টে শহীদদের পরিবার ও আহতদের জন্য। তাদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৪২৫ কোটির ওপর। বেকারত্ব দূরীকরণের অংশ হিসেবে তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। তারুণ্যের উৎসবের জন্য বরাদ্দ ১০০ কোটি টাকা, অর্থাৎ আগামীতে জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান অনুষ্ঠান উদযাপন উপলক্ষে রাখা হয়েছে এ বরাদ্দ। এদিকে করের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নতুনত্ব আছে।

কর অব্যাহতির ক্ষেত্রে সবসময় যেটা দেখা গেছে, বারবার বলা হয়েছে যে, এ বছর না হলে আরেক বছর বাড়িয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু সেটার ব্যবস্থা এবার রাখা হয়নি। কিছু শক্তিশালী গোষ্ঠী, যেমন— টেক্সটাইল শিল্পে করপোরেট আয়কর ছিল ১৫ শতাংশ, যেটা ছিল একটি বিশেষ সুবিধা। কারণ অন্যদের ক্ষেত্রে যা ছিল ২২ শতাংশ, সেটা এখন ২০ শতাংশে নেমেছে। ওই অব্যাহতিটা উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কিছু নতুনত্ব তো রয়েছে।

কালবেলা: শিক্ষা খাতসহ মৌলিক কিছু দিকে বাজেট বাড়ানোর দাবি আগে থেকেই ছিল; সেখানে কোনো পরিবর্তন দেখা গেল?

ড. জাহিদ হোসেন: শিক্ষা খাতে সংশোধিত বাজেটের তুলনায় এবারের বাজেটে একটু বেশি বরাদ্দ বেড়েছে। খুব বেশি বেড়েছে বলা যাবে না। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মাধ্যমিক শিক্ষায়। প্রাইমারি শিক্ষায় বরাদ্দ আগের মতোই আছে। সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ স্বাস্থ্য, বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবায় ৪ হাজার কোটি টাকার যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখানে বাস্তবায়নটাই বড় বিষয়। বাস্তবায়ন ঠিকঠাক করতে পারলেই এর সুফল মিলবে।

কালবেলা: গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী দেশ পুনর্গঠন বা সংস্কার কিছু লক্ষ্য সামনে আসে। বাজেটে সেসবের কোনো প্রতিফলন রয়েছে বলে মনে করেন?

ড. জাহিদ হোসেন: সংস্কার তো আর সবটা ব্যয়ের মধ্যে আসে না। যেমন ধরেন ব্যাংক খাতের সংস্কার। এগুলো তো শুধু ব্যয়ের বিষয় নয়। প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনের ব্যাপার। এখানে হয়তো কিছু অর্থায়নের প্রয়োজন হতে পারে। তার জন্য অর্থ বিভাগের অধীনে প্রায় ১৪-১৫ হাজার কোটি টাকার একটা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যেটা সবসময়ই থাকে যাতে করে সংস্কারের প্রয়োজনের খরচ মেটানো যায়। কিন্তু আমরা যেটা আশা করেছিলাম, যেহেতু এটা অন্তর্বর্তী সরকার, বাজেট বক্তৃতায় তারা কী কী সংস্কার কাজ হাতে নিয়েছে, সেটার ফিরিস্তি থাকবে। সেটা আছেও। কিন্তু যেটা বলা হয়নি বা নেই, সেটা হচ্ছে—তারা চলে যাওয়ার আগে কোনগুলো শেষ করা হবে, কোনগুলো পরবর্তী সরকারকে চালিয়ে যেতে হবে—এ ধরনের যে স্পষ্ট পথনকশা, তার অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তারা কী করছে, সেটার ফিরিস্তি আছে; কিন্তু চলে যাওয়া পর্যন্ত তাদের লক্ষ্যটা কী, মাইলফলকগুলো কী—তার কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা এ বাজেট বক্তৃতায় দেখা যায়নি।

শ্রুতলিখন: সঞ্জয় হালদার

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কী ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনে

চাকরি দিচ্ছে আবুল খায়ের গ্রুপ, লাগবে না অভিজ্ঞতা 

৫০তম বিসিএসের প্রিলি আজ

বন্দি বিনিময়ের শেষ ধাপে ১৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ হস্তান্তর করল ইসরায়েল

টিভিতে আজকের যত খেলা

আজ যেমন থাকবে ঢাকার আবহাওয়া

আজ টানা ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

আজ যেসব এলাকায় ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না

৩০ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ

১০

সম্প্রীতির চট্টগ্রাম গড়তে রাজনীতি করছি : সাঈদ আল নোমান

১১

শুধু বগুড়া নয়, পুরো দেশের কথা চিন্তা করতে হবে : তারেক রহমান

১২

ক্ষমতা নয়, দায়িত্ব চাই : ডা. ফজলুল হক

১৩

বঙ্গবন্ধু ল’ কলেজের নাম পরিবর্তন

১৪

কওমি মাদ্রাসা আমাদের হৃদয়, আমাদের কলিজা : জামায়াত আমির

১৫

কুমিল্লায় বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়ালেন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী

১৬

রোহিতের রেকর্ড ভেঙে স্টার্লিংয়ের ইতিহাস

১৭

শনিবার শুরু হচ্ছে চতুর্দশ যাকাত ফেয়ার / ‘বৈষম্যহীন, দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে যাকাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে’

১৮

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আগামী সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাশের আহ্বান

১৯

কারাবন্দি যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যু

২০
X