

হাছন রাজা মরমি কবি। তিনি ১৮৫৪ সালে সুনামগঞ্জ শহরের কাছে সুরমা নদীর তীরে লক্ষ্মণশ্রী পরগনার তেঘরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা দেওয়ান আলী রাজা চৌধুরী ছিলেন প্রতাপশালী জমিদার। হাছন রাজা তার তৃতীয় পুত্র। সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, রামপাশা, লক্ষ্মণশ্রী আর সিলেটের একাংশ নিয়ে বিশাল অঞ্চলের জমিদার ছিলেন মরমি গীতিকবি হাসন রাজা। ১৫ বছর বয়সে তিনি জমিদারিতে অভিষিক্ত হন। হাছন রাজার গানের বিচিত্রতা লক্ষণীয়। মানবিকবোধকে তিনি উচ্চস্তরে স্থান দিয়েছেন। তার গানে মমত্ব, ভ্রাতৃত্ব, সংহতি এবং সহনশীলতাবোধের গভীর দিকদর্শনের পাশাপাশি রয়েছে সম্প্রীতির কথা। হাছন রাজার গবেষণা-সাধনা ও শিল্পকর্ম ছিল গণকল্যাণমুখী। তিনি বিখ্যাত জমিদার ছিলেন। আবার ছিলেন সুরের সাধক। কবির নিজের সৃষ্টিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দাঁড় করিয়ে গেছেন। তার জীবনের বিভিন্ন সময়ের গানে সহজ-সরল স্বাভাবিক ভাষায় মানবতার চিরন্তন বাণী উচ্চারিত হয়। তেমনি আধ্যাত্মিক কবিও ছিলেন তিনি। সব ধর্মের বিভেদ অতিক্রম করে তিনি গেয়েছেন মাটি ও মানুষের গান। তার উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে আছে—আঁখি মুঞ্জিয়া দেখ রূপ রে, আমি না লইলাম আল্লাজির নাম রে, লোকে বলে বলে রে, ঘর-বাড়ি ভালা নাই আমার, আগুন লাগাইয়া দিল কনে? হাছন রাজার মনে ও গুড্ডি উড়াইল মোরে, মৌলার হাতের ডুরি। ১৯২২ সালের ৬ ডিসেম্বর এ সাধক পুরুষের জীবনাবসান ঘটে।