

জিয়া মূলত একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ আলো, দীপ্তি, জাঁকজমক, জ্যোতি, মহিমা বা উজ্জ্বলতা। ফারসি ভাষাতেও জিয়া শব্দটি একই অর্থ বহন করে। হিন্দি ভাষায় জিয়া বলতে বোঝায় বিজয় বা সাফল্য। চীনা ভাষায় জিয়াই নামের একটি শব্দ আছে, যা তরুণ বা আনন্দ উভয় অর্থে ব্যবহৃত হয়। আর ইতালীয় ভাষায় খালা বা ফুপুর মতো অতি আপনজনদের জিয়া নামে সম্বোধন করা হয়। বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার প্রতিটি ধানের শীষে মিশে থাকা জিয়া নামের চির আপন মানুষটির জন্ম ১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ সালে। আজ তার ৯১তম জন্মদিন। পুরো নাম জিয়াউর রহমান। শুধু বাংলাদেশই নয়, সার্ক নামের দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো, মুসলিমবিশ্ব ও সচেতন পৃথিবীজুড়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে যিনি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে বিরল সাফল্য দেখিয়েছেন, তিনিই আমাদের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও স্বাধীনতার ঘোষক—মেজর জেনারেল শহীদ জিয়াউর রহমান, বীরউত্তম। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবার আপনজন হয়ে উঠেছিলেন শহীদ জিয়া। আবার দুর্নীতিবাজ, লুটেরা ও দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার মন-মানসিকতাসম্পন্ন বিপথগামীদের কাছে তিনি ছিলেন চরম আতঙ্ক। আর তাই দেশপ্রেমিক জিয়াকে মাত্র ৪৫ বছর বয়সে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় রাতের আঁধারে ঘুমের সময় নির্মমভাবে হত্যা করে দেশবিরোধী কুচক্রী মহল।
ছোটবেলার কথা। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে মাত্র। চারদিকে গোলাগুলি আর লাশের সারি। এদিক-ওদিক পালাচ্ছে বিভ্রান্ত মানুষ। নিজেদের টিনের ঘর ছেড়ে আমাদের চার ভাইবোনকে নিয়ে মা-বাবা উঠলেন এক খালার বাড়ির দালানে। গুলি আসলেও দালানের দেয়াল হয়তো ভেদ করবে না, এমনটাই প্রত্যাশা ছিল। আর মার গর্ভে তখন অনাগত সন্তান। অল্প কদিন পরেই তার পৃথিবীতে আসার কথা। তাকে নিয়ে বেশিদূর যাওয়ার উপায় নেই। চরম আতঙ্ক চারদিকে। এরই মধ্যে মুরুব্বিদের আলাপে উঠে এলো জিয়া নামের এক মেজরের নাম। তিনি কী বলেছেন, তার অর্থ বোঝার বয়স হয়নি। তবে এটুকু বুঝেছিলাম যে, আমাদের নিজস্ব একটা সেনাবাহিনী আছে, তারা পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে। একজন জিয়ার নেতৃত্বে এবার একহাত দেখে নেবে বাংলাদেশের মানুষরা। বাস্তবেও তাই ঘটেছিল। শত্রুর জন্য আতঙ্ক হয়ে উঠেছিল তৎকালীন মেজর জিয়ার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জেড ফোর্স। তার সেনারাই মূলত পূর্ব ও উত্তর রণাঙ্গন থেকে ধেয়ে আসা ঢাকামুখী সব সেনার পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে, যাদের কাছে মূলত আত্মসমর্পণ করে শত্রুর বিশাল বহর।
সত্তর দশকের মাঝামাঝিতে আমরা প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে মাধ্যমিক স্কুলের আঙিনায় প্রবেশ করি। তখন কুমিল্লা শহরের স্কুল থেকে একদিন আমাদের বাসভর্তি করে নেওয়া হলো দাউদকান্দির এক খালের পাড়ে। আমরা আনন্দ নিয়ে খাল কাটলাম। জানলাম এই খালে পানি ধারণ করে শুষ্ক মৌসুমে ফসল ফলানো হবে। আবার বন্যার পানিও দ্রুত নামবে খাল ধরে। খালের পাড়ে গাছ লাগানো হবে পরিবেশ রক্ষায়। আর যিনি এ পরিকল্পনা করেছেন এবং আমাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সেদিন নিজেও খাল কেটেছেন, তিনি হলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বয়ং। পরবর্তীকালে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে জেনেছি বিশেষ কায়দায় দুদিকে শ্লোপ বা ঢাল না রেখে খাড়া বা সার্প পাড়বিশিষ্ট খাল কাটা হলে তা পেরিয়ে শত্রুর ট্যাংক নিজ অবস্থানের দিকে বা মূল ভূখণ্ডের দিকে এগিয়ে আসতে পারে না। বরং খাল দেখে অগ্রসমান শত্রুর ট্যাংক বা যান্ত্রিক বহর থেমে গেলে তা ধ্বংস করা সহজ হয়। আর এ খালকে নিজ অবস্থান বা ট্রেঞ্চ বানিয়ে শত্রু মোকাবিলা করাও সহজ। এতে শত্রুর অস্ত্রের গুলি বা বোমার স্প্লিন্টার থেকে নিরাপদ থাকা যায়। এভাবেই এক নিরাপদ ও দুর্জয় ঘাঁটি রূপে বাংলাদেশকে গড়তে চেয়েছিলেন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের রূপক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
এর কিছুদিন পর মফস্বল শহর ছেলে ক্যাডেট কলেজে গেলাম। ক্যাডেট কলেজের মাঠে একদিন হেলিকপ্টারে নামলেন রাষ্ট্রপতি জিয়া। তার শারীরিক ভাষা বিশেষত সাফারি স্যুটে দীপ্ত পদক্ষেপে হেঁটে চলাই জানান দিল তিনি কথা নয়, কাজে বিশ্বাসী। হেলিকপ্টার থেকে নামার পর ভিআইপিরা সাধারণত সুগন্ধিযুক্ত ঠান্ডা পানিতে ভেজানো রুমাল বা তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে নেন এবং শরবত পান করে। কিন্তু জিয়াউর রহমান নেমেই সোজা হাঁটা শুরু করলেন এবং ক্যাডেট কলেজের পাশেই খাল কাটা কর্মসূচিতে অংশ নিলেন। আমরাও মনের আনন্দে তাকে অনুসরণ করলাম এবং খাল কাটা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করলাম। কদিন পর এসএসসি পরীক্ষা হলো। ক্যাডেট কলেজের প্রথা মোতাবেক, এসএসসির পরপরই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ব্যাচকে ছুটিতে পাঠানো হতো। কিন্তু আমাদের রেখে দেওয়া হলো। আমরা ক্যাডেট কলেজের শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে পাশের গ্রাম থেকে অক্ষরজ্ঞানহীন গ্রামবাসী শনাক্ত করলাম। তাদের অক্ষরজ্ঞান দিলাম ও নিজ নিজ নাম সাক্ষর করার কৌশল শেখালাম। দেশ ও মানুষের জন্য ওই বয়সে কিছু করার সুযোগ পেয়ে কিশোর মন আনন্দে ভরে গেল। এর বাইরে বিভিন্ন প্রেক্ষাপট থেকে আসা ক্যাডেটরা গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবনাচার, তাদের দুঃখকষ্ট, চাওয়া-পাওয়া সবকিছু সহজেই জানার একটা সুযোগ পেয়েছিল, যা পরবর্তী জীবনে অনেক কাজে লাগে। এসএসসি পাস করতে হলে নিরক্ষর মানুষকে অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন করে তোলার এই প্রক্রিয়াকে বাধ্যতামূলক করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আমাদের সিনিয়র ভাইদের মধ্যে যারা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষায় মেধা তালিকায় এগিয়েছিলেন, তাদের ‘হিলফুল ফজল’ নামের বিশেষ জাহাজে বঙ্গোপসাগরের উপকূলে ভ্রমণ করার ব্যবস্থা করেছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়া। এমন ভ্রমণের আশায় ভালো ফলাফল করতে তীব্র প্রতিযোগিতা হতো আমাদের মধ্যে। অন্যদিকে তিনি বলতেন, শুধু এ সমুদ্র উপকূলের মাটির নিচে যা আছে, তাই যদি এ মেধাবী শিক্ষার্থীরা একদিন তুলে আনতে পারে এবং কাজে লাগাতে পারে, তবে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। দুঃখের বিষয়, সেই সমুদ্র সম্পদ এবং সমুদ্রের নিচে লুকিয়ে থাকা অমূল্য খনিজ পদার্থ আজও আমরা তুলে এনে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারছি না। আরও দুঃখের বিষয়, যারা বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানো তথা শক্তিশালী বাংলাদেশ দেখতে নারাজ, তারাই অকালে জিয়াকে পড়িয়েছে মৃত্যুর সাজ।
ক্যাডেট কলেজের পাঠ চুকিয়ে সেনাবাহিনীতে এসে যোগ দিলাম প্রথম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে। এই রেজিমেন্ট ছিল মুক্তিযুদ্ধকালীন মেজর জিয়ার জেড ফোর্সের অন্যতম ইউনিট। তখনো বহু সৈনিক বিশেষত্ব প্রবীণ কিছু নন-কমিশন্ড অফিসার (নায়েক ও হাবিলদার) এবং জুনিয়ার কমিশন্ড অফিসার (নায়েব সুবেদার ও সুবেদার) প্রথম ইস্টবেঙ্গলে কর্মরত ছিলেন, যারা জেড ফোর্সের হয়ে যুদ্ধ করেছেন। তাদের প্রত্যক্ষ বয়ানে শুনেছি কী ভয়ংকর ছিল সেই মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো। আর কীভাবে কামালপুর আক্রমণের সময় জেড ফোর্স কমান্ডার হয়েও নিজেই জীবনের মায়া বিসর্জন দিয়ে এবং নিজ পরিবার ও মাসুম সন্তানদের কথা না ভেবে সাধারণ সৈনিকদের সঙ্গে সম্মুখ রণাঙ্গনে ছুটে এসেছিলেন। অষ্টম ইস্টবেঙ্গল থেকে বদলি হয়ে কয়েকজন সৈনিক প্রথম ইস্টবেঙ্গলে এসেছিলেন। তাদের কাছে শুনেছি এক দুঃসাহসী মেজর জিয়ার কথা, যার নির্দেশ ও নেতৃত্বে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্টবেঙ্গলের নেতৃত্বে থাকা অবাঙালি লেফটেন্যান্ট কর্নেল রশিদ জানজুয়াকে বন্দি করা হয় ও পরবর্তীকালে তাকেসহ অবাঙালি অফিসার ও অন্যান্য সেনাকে হত্যা করে বিদ্রোহের সূচনা করা হয়। সেনাবাহিনীতে বিদ্রোহের সিদ্ধান্ত নেওয়া সবচেয়ে কঠিন কাজ। কারণ, বিদ্রোহের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু দেশের জন্য নিজের জীবনকে তুচ্ছ মনে করেছিলেন তৎকালীন মেজর জিয়া। তাই তার কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল বিদ্রোহের সাহসী উচ্চারণ তথা স্বাধীনতার ঘোষণা। বিদ্যুতগতিতে তার ঘোষণার কথা ছড়িয়ে পড়ে দেশের সবকটি সেনানিবাস, সীমান্ত চৌকি, পুলিশ লাইন, পুলিশ ফাঁড়ি ও আনসার ক্যাম্পগুলোতে। ছুটিতে থাকা সেনা, সীমান্তরক্ষী, পুলিশ, আনসারসহ পুরো দেশবাসী তখন জেনে যায় যুদ্ধ করেই এবার টিকে থাকতে হবে। তার ডাকে সাড়া দিয়ে শুধু বাঙালি সেনাসদস্যই নয়, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস, পুলিশ ও আনসার সদস্যরাও অস্ত্র হাতে দলে দলে ব্যারাক ছেড়ে বেরিয়ে আসতে থাকেন। সীমান্তের ওপারে তারাই প্রশিক্ষণ ক্যাম্প স্থাপন করেন এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে অল্পদিনেই গড়ে তোলেন অকুতভয় মুক্তিবাহিনী, যার বিজয়গাথা এ বিশ্বের বিস্ময়। আরও বিস্ময়ে যে, মাত্র ৩৫ বছর বয়সে একজন মেজর স্ত্রী কিংবা অবুঝ দুটি সন্তানের স্বার্থের কথা না ভেবে কী করে এমন একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারলেন।
সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও চাকরিকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও মাস্টার সনদ লাভ করি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে। এ সময় প্রচুর পড়ালেখার একটি অংশ ছিল এ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস। সেই ইতিহাসের বিরাট অংশজুড়ে আছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা। অফিসারদের হত্যা করে এক উচ্ছৃঙ্খল পেটুয়া বাহিনী গড়ার নীল-নকশা ভেঙে দিয়ে ১৯৭৫ সালে সেনাবাহিনীতে চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। সেই সেনাবাহিনীর সুশৃংঙ্খল অফিসাররা আজ বিশ্বজুড়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী ও সামরিক পর্যবেক্ষকদের সামনের কাতারে থাকেন। মুসলিমবিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন ও মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশিদের শ্রমবাজার সৃষ্টির অসাধারণ নৈপুণ্য তাকে যুগসেরা মুসলমান নেতার কাতারে নিয়ে এসেছে। রেমিট্যান্সনির্ভর অর্থনীতির গোড়াপত্তনের জন্য এ দেশ শহীদ জিয়ার কাছে ঋণী। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে একত্রিত করে সার্ক প্রতিষ্ঠা, তথা সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা ও রূপকার হিসেবে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে সুবাতাস ছড়িয়েছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়া। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মোট জনসংখ্যা বিশেষত কর্মক্ষম তরুণ-তরুণীর সংখ্যা এ বিশ্বের জন্য একটি বড় আশীর্বাদ। কিন্তু পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে সেই শক্তিকে আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। এ বিশাল জনসংখ্যার বাজারও আজ বাইরের দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণে। শহীদ জিয়া বেঁচে থাকলে আমরাই হতে পারতাম শুধু এ অঞ্চলই নয়, সমগ্র বিশ্বের মোট অর্থনীতির এক নিয়ামক শক্তি। দেশের প্রতিরক্ষার জন্য নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্বের এগিয়ে থাকা দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক বন্ধন গড়ার মুনশিয়ানা তাকে এগিয়ে রেখেছে ইতিহাসের দেশনায়কদের তালিকায়। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন সততা ও দেশপ্রেমের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তার শত্রুরাও তার সততা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে টুঁ শব্দটি করার সুযোগ পান না।
৯১তম জন্মদিনে এ মহান নেতাকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল হয়েও সাধারণ জনগণের এত আপনজন হয়েছিলেন বলেই বারবার বলতে ইচ্ছে করে—‘স্যালুট টু ইউ জেনারেল’। ওপারে ভালো থাকুক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া ও তাকে অনুসরণ করা আরেক মহীয়সী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। উভয়ের আদর্শে হোক আমাদের আগামীর পথচলা।
লেখক: মেজর (অব.), গবেষক, বিশ্লেষক ও কলামিস্ট