লুক কফি
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৫ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

আঙ্কারার পথে ন্যাটো: ঐক্য না বিভাজন

আঙ্কারার পথে ন্যাটো: ঐক্য না বিভাজন

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ট্রান্সআটলান্টিক মিত্রদের মধ্যে চলমান মতপার্থক্য আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল গ্রিনল্যান্ড, বিশেষ করে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশি প্রবেশাধিকার ও নিয়ন্ত্রণের আগ্রহ। কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হলেও, শেষ পর্যন্ত ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ককে আবার সঠিক পথে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

আগামীর দিকে তাকালে দেখা যায়, ন্যাটোর জন্য ২০২৬ সাল হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এখন থেকে ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটোর একটি বড় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ সম্মেলন সফল করতে হলে নীতিনির্ধারকদের এখনই এর কর্মসূচি ঠিক করার কাজ শুরু করতে হবে।

আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে সম্মেলনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য হাতে যথেষ্ট সময় আছে। কিন্তু রাষ্ট্রনীতি ও কূটনীতির দৃষ্টিতে ছয় মাস খুবই অল্প সময়। যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় গড়ে তুলতে হলে আগাম প্রস্তুতি, নিয়মিত যোগাযোগ এবং আটলান্টিকের দুপাড়ে শক্ত রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।

ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক সঠিকভাবে পরিচালিত হওয়া শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের জন্য নয়, পুরো বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দুই অঞ্চল মিলেই বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) নিয়ন্ত্রণ করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ একে অন্যের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার এবং উভয়ই একে অন্যের অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ করেছে, যার ফলে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। যখন আটলান্টিকের দুপাড়ে মতবিরোধ দেখা দেয়, তখন তার প্রভাব শুধু নিরাপত্তা নীতিতেই নয়, বরং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও পড়ে।

জোটটি জুলাই সম্মেলনের দিকে এগোতে থাকায় চারটি বড় বিষয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে। সম্মেলনটি যেন রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বদলে বাস্তব ও কার্যকর ফল দিতে পারে, সেজন্য নীতিনির্ধারকদের এখনই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

খুবই স্বাভাবিকভাবেই প্রথম যে বিষয়টি আলোচনায় আসবে তা হলো আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা। বিশেষ করে সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যে আলোচনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেমন ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর ওপর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর জন্য সবচেয়ে বেশি চাপ দিয়েছেন, তেমনি তিনিই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যিনি ন্যাটোকে আর্কটিক অঞ্চলকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে কার্যকরভাবে বাধ্য করেছেন।

এতদিন ন্যাটো তাদের নথিপত্রে আর্কটিক অঞ্চলের কথা উল্লেখ করাই এড়িয়ে চলত। এর প্রধান কারণ ছিল আর্কটিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যেই মতবিরোধ। এ অঞ্চলে ন্যাটোর ভূমিকা কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে তারা একমত হতে পারেনি। ফলে অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও ন্যাটোর আলোচনার বাইরে থেকেই গেছে।

তবে পরিস্থিতি এখন দ্রুত বদলাচ্ছে। উত্তরাঞ্চল বা ‘হাই নর্থ’-এ প্রতিযোগিতা বাড়ছে এবং একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে ট্রাম্প নতুন করে জোর দেওয়ায় আর্কটিক নিরাপত্তা এবার প্রথমবারের মতো ন্যাটোর অগ্রাধিকার তালিকার একেবারে শীর্ষের দিকে উঠে এসেছে। তাই আসন্ন গ্রীষ্মকালীন ন্যাটো সম্মেলনকে যদি সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নিতে হয়, তাহলে মিত্র দেশগুলোকে আর্কটিক অঞ্চলে ন্যাটোর অবস্থান, সামরিক উপস্থিতি এবং পারস্পরিক সমন্বয় নিয়ে স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত বা প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। শুধু আলোচনা নয়, এ বিষয়ে দৃশ্যমান ও কার্যকর ফলাফল প্রত্যাশিত হবে।

দ্বিতীয় যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে, তা হলো ন্যাটোর আশপাশের বিস্তৃত অঞ্চলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক। এ বিষয়টি সম্মেলনের আয়োজক দেশ তুরস্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পঞ্চাশের দশকে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তুরস্ক ট্রান্সআটলান্টিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঙ্কারা কৃষ্ণসাগর অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ইস্যুগুলোর ওপর ক্রমেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০০৪ সালে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে তুরস্কের উদ্যোগেই ‘ইস্তাম্বুল সহযোগিতা উদ্যোগ’ (Istanbul Cooperation Initiative) চালু হয়। এ উদ্যোগের মাধ্যমে ন্যাটো কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলে। এর উদ্দেশ্য ছিল নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সংলাপ জোরদার করা।

এরপর থেকে এ কাঠামো উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ও কূটনৈতিক যোগাযোগের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করলেও যৌথ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে খুব বেশি সুফল পাওয়া যায়নি। তাই এবারের সম্মেলন আয়োজনের ফলে যে রাজনৈতিক গতি ও গুরুত্ব তৈরি হয়েছে, ন্যাটোর উচিত সেই সুযোগ কাজে লাগানো। ইস্তাম্বুল সহযোগিতা উদ্যোগকে নতুন করে সাজানো অথবা অন্তত এতে নতুন প্রাণসঞ্চার করা জরুরি। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার মাধ্যমে ন্যাটো আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করতে পারে।

তৃতীয় যে বিষয়টি আলোচনায় আসবে, যা নিঃসন্দেহে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। তা হলো ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয়ের সামগ্রিক অবস্থা। হোয়াইট হাউসে তার প্রথম মেয়াদ থেকেই ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর প্রতিরক্ষা খাতে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করার জন্য জোরালো চাপ দিয়ে আসছেন। তিনি বরাবরই মনে করে আসছেন, ইউরোপ নিজেদের নিরাপত্তার ভার যথেষ্ট পরিমাণে নিজেরা বহন করছে না এবং যুক্তরাষ্ট্রকে তুলনামূলকভাবে বেশি দায়িত্ব নিতে হচ্ছে।

গত বছর নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে এ বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে ন্যাটো সদস্য দেশগুলো সম্মত হয় যে, তারা ভবিষ্যতে নিজেদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করার লক্ষ্যে কাজ করবে। এটি দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা ২ শতাংশের মানদণ্ডের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি। যদিও এ লক্ষ্য পূরণ করতে তিরিশের দশকের শুরু পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবুও এ সময়ের মধ্যেই অগ্রগতি কতটা হচ্ছে, তা যে ট্রাম্প খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন; এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

বর্তমানে ন্যাটোর খুব অল্প কয়েকটি সদস্য দেশই এ ৫ শতাংশ লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছে। এর মধ্যে প্রধানত বাল্টিক রাষ্ট্রগুলো এবং পোল্যান্ড উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে, যদি ট্রাম্প কংগ্রেসের সঙ্গে সমন্বয় করে তার প্রস্তাবিত ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট পাস করাতে সক্ষম হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই এই ৫ শতাংশের সীমা ছুঁয়ে ফেলবে। ইউরোপীয় মিত্ররা যত দ্রুত বাস্তব ও দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারবে, ততই হোয়াইট হাউস ও ইউরোপের রাজধানীগুলোর মধ্যে ন্যাটো পরিচালনা তুলনামূলকভাবে মসৃণ হবে এবং উত্তেজনা কম থাকবে।

চতুর্থ ও শেষ যে বিষয়টি আলোচনায় আসবে, তা সম্ভবত প্রকাশ্যে খুব বেশি আলোচিত হবে না, তবে বন্ধ দরজার আড়ালে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হবে। সেটি হলো ইউক্রেন যুদ্ধ। ট্রাম্প ধীরে হলেও ধারাবাহিকভাবে রাশিয়া ও ইউক্রেনকে আলোচনার টেবিলে বসানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ফলে সম্মেলনের সময় ন্যাটোর অবস্থান অনেকটাই নির্ভর করবে তখন পর্যন্ত কূটনৈতিক অগ্রগতি কতটা হয়েছে তার ওপর।

ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ এখন আলোচনার বিষয় নয়। এর অর্থ হলো, ন্যাটোকে এমন কিছু নতুন ও সৃজনশীল পথ খুঁজে বের করতে হবে, যার মাধ্যমে তারা কিয়েভের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে—সহযোগিতা ও সহায়তা জোরদার করা যাবে। কিন্তু একই সঙ্গে ওয়াশিংটন নির্ধারিত রাজনৈতিক ‘লাল রেখা’ অতিক্রম করা হবে না। এটি ন্যাটোর জন্য একটি সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ভারসাম্যের বিষয়।

ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের মধ্যে মাঝেমধ্যে টানাপোড়েন দেখা দিলেও আটলান্টিকের দুই পাশের দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ, ইউরোপ যদি স্থিতিশীল ও নিরাপদ না থাকে, তাহলে এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপর, যার ঢেউ শেষ পর্যন্ত পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিতেই ছড়িয়ে পড়বে।

আঙ্কারা সম্মেলনের সময় যতই এগিয়ে আসছে, ন্যাটোর নেতাদের হাতে সময় ততই কমে আসছে। আটলান্টিকের দুপাড়ের মতপার্থক্য দক্ষতার সঙ্গে সামাল দেওয়া এবং একই সঙ্গে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ব্যয় ও কূটনীতিতে বাস্তব অগ্রগতিই নির্ধারণ করবে যে, এ ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে ন্যাটো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে, নাকি আরও বিভক্ত হয়ে পড়বে।

লেখক: যুক্তরাষ্ট্রের হাডসন ইনস্টিটিউটের একজন সিনিয়র ফেলো। দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত নিবন্ধটি ভাষান্তর করেছেন আবিদ আজাদ

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আসছে শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা নামতে পারে ৮ ডিগ্রিতে

সংকট ও সৃজনশীলতা : গাজার তরুণদের বেঁচে থাকার লড়াই

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী

অনার্স ভর্তি আবেদনের সময় বাড়াল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

সেনাবাহিনীর অভিযানে দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক

ভারত ম্যাচ বয়কটে কী শাস্তি পেতে পারে পাকিস্তান 

নাগরিকত্ব আইনে পরিবর্তন আনছে ইতালি

ফেব্রুয়ারিতে এলপি গ্যাসের দাম বাড়বে না কমবে, জানা যাবে আজ

৫৪ বছর পর সংসদ নির্বাচনে ২ নারী প্রার্থী

ব্যাংক এশিয়ায় চাকরি, আবেদনে নেই বয়সসীমা

১০

আজ খুলনা-যশোরে যাচ্ছেন তারেক রহমান

১১

আগুনে পুড়ল বিদ্যালয়

১২

শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও অর্থ পরিশোধে নতুন নির্দেশনা

১৩

সুইজারল্যান্ডে বারে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ৪১

১৪

নির্বাচিত হলে ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে বিএনপি : আমীর খসরু

১৫

হরমুজ প্রণালিতে মহড়া নিয়ে নতুন তথ্য দিল ইরান

১৬

সকাল থেকে ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় 

১৭

ঢাকার শীত নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা

১৮

সীমান্তে বিজিবির ওপর হামলা

১৯

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন হলে যেসব নম্বরে অভিযোগ

২০
X