

সুইজারল্যান্ডের একটি আলপাইন স্কি রিসোর্টে নববর্ষ উদযাপনের সময় সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আহত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪১ জনে দাঁড়িয়েছে।
রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সুইস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কিশোরের মৃত্যু হয়। গত মাসে জনপ্রিয় স্কি রিসোর্ট ক্রঁ-মঁতানার ‘লে কঁস্তেলাসিওঁ’ নামের একটি বারে এ দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এ ঘটনায় আরও ১১৫ জন আহত হয়েছিলেন। তাদের অনেকেই এখনো বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ওয়ালিস ক্যান্টনের পাবলিক প্রসিকিউটর বিয়াত্রিস পিলু এক বিবৃতিতে জানান, ১৮ বছর বয়সী এক সুইস নাগরিক ৩১ জানুয়ারি জুরিখের একটি হাসপাতালে মারা যান। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি সংঘটিত ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা এখন ৪১ জনে পৌঁছেছে।
তিনি জানান, তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে আপাতত আর কোনো তথ্য প্রকাশ করা হবে না।
আলজাজিরা জানিয়েছে, নিহতদের বয়স ছিল ১৪ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে। তবে অধিকাংশই ছিলেন কিশোর-কিশোরী। নিহতদের মধ্যে মাত্র চারজনের বয়স ছিল ২৪ বছরের বেশি। নিহতদের মধ্যে ২৩ জন সুইস নাগরিক এবং ১৮ জন বিদেশি রয়েছেন।
প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, বারের বেসমেন্টের ছাদের সাউন্ড ইনসুলেশন ফোমের খুব কাছাকাছি স্পার্কলার লাগানো শ্যাম্পেন বোতল উঁচু করে ধরার ফলে আগুনের সূত্রপাত হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্যবহৃত ফোমটি নিরাপত্তা বিধিমালা অনুযায়ী ছিল কি না এবং বারে মোমবাতি ব্যবহারের অনুমতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ২০১৯ সালের পর থেকে সেখানে আর কোনো অগ্নি নিরাপত্তা পরিদর্শন করা হয়নি।
এ ঘটনায় অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড, অবহেলাজনিত শারীরিক ক্ষতি এবং অবহেলায় অগ্নিকাণ্ডের অভিযোগে বারের মালিক ফরাসি দম্পতি জাক ও জেসিকা মোরেত্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে। ভ্যালাইস অঞ্চলের আদালত ১২ জানুয়ারি জাক মোরেত্তিকে তিন মাসের জন্য প্রাক-বিচার আটক রাখার নির্দেশ দিলেও ২৩ জানুয়ারি তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। এছাড়া ক্রঁ-মঁতানা পৌরসভার বর্তমান জননিরাপত্তা প্রধান এবং একজন সাবেক অগ্নি নিরাপত্তা কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর গুরুতর আহতদের হেলিকপ্টারে করে সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপের আরও চারটি দেশের বিশেষায়িত বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল অফিস ফর সিভিল প্রোটেকশন জানিয়েছে, সর্বশেষ হিসাবে সোমবার পর্যন্ত ৪৪ জন রোগী বিদেশে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ওয়ালিস স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একই সময়ে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৭ রোগী ভর্তি ছিলেন। রোগীদের অবস্থা পরিবর্তনশীল হওয়ায় তাদের এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে এবং কেউ কেউ আবার নতুন করে ভর্তি হচ্ছেন। কয়েকজন এখনো নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রয়েছেন।
মন্তব্য করুন