

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এ দেশ মুসলমান, হিন্দু-বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবার। আমরা মিলেমিশে ফুলের বাগানের মতো দেশটাকে গড়ব। সব ধর্মের মানুষ তার প্রাপ্য অধিকার পাবে, এজন্য তার লড়াই করার দরকার হবে না। কারণ সমাজে আমরা সুবিচার কায়েম করব। যোগ্যতা অনুযায়ী সবাই দেশ গড়ার কাজে অংশগ্রহণ করবে। দেশ ও সরকার দেখবে না— তিনি কোন ধর্মের বা গোত্রের, দেখবে তিনি যোগ্য ও দেশপ্রেমিক কিনা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে পচা রাজনীতির বন্দোবস্ত আর চলতে দেব না। ওই পচা রাজনীতিকে লালকার্ড দেখাতে হবে। আমরা বৈষম্যমুক্ত, শান্তির বাংলাদেশ গড়তে চাই।
তিনি আরও বলেন, সমগ্র বাংলাদেশ আধিপত্যবাদবিরোধী, চাঁদাবাজবিরোধী এবং ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে। আমরা জমিদারি মানি না, এ দেশের সবাই সমান অধিকার নিয়ে বাঁচতে চাই। বিগত দিনে সংবিধানের দোহাই দিয়ে ১৮ কোটি মানুষের ওপর জুলুম করা হয়েছে। আগের সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি এখনো আছে। অনেক চুরি করেছো, অনেক লুট করেছো। লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার করে বেগমপাড়ায় বাড়ি করেছো। এসব আর হতে দেব না।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টায় কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বিশ্বরোডের মডেল মসজিদ কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠ প্রাঙ্গণে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এ নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত আমির ১১ দলীয় জোটের মনোনীত কুমিল্লা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহলুলকে পরিচয় করিয়ে দেন।
এ সময় আমিরে জামায়াত বলেন, দুর্নীতিবাজবিরোধী মামলাবাজবিরোধী একটি সমাজ বিনির্মাণের জন্য জনগণ আজ একাট্টা হয়েছে। সারা দেশে গণজোয়ার শুরু হওয়ায় অনেকে দিশাহারা। এখন তারা মায়েদের গায়ে হাত দেয়, বেইজ্জত করে। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি— আমাদের জীবনের চাইতে আমাদের মায়েদের ইজ্জতের মর্যাদা অনেক বেশি। মায়েদের গায়ে হাত দেবেন— আমরা গালে হাত দিয়ে বসে থাকব না।
অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজের কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গালভরা গণতন্ত্রের বুলি আওড়াবেন, আবার ফ্যাসিবাদী কায়দার আচরণ করবেন। এই দুটি একসঙ্গে যায় না, এটি গণতন্ত্র নয়। অন্যের কথা শুনতে হবে, যেমন নিজের কথা বলার অধিকার আছে।
জনতার উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা কি চান বাংলাদেশে আবার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসুক? ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর যারা জুলাই মানে না, যারা সংস্কার মানে না, যারা চরিত্র পাল্টায়নি— তাদের দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নতুন বাংলাদেশ পাওয়ার জন্য ১৮ কোটি মানুষ মুখিয়ে আছে। যারা জাতির সঙ্গে এখনো ফ্যাসিবাদের আচরণ করে চলছে, তাদের দিয়ে কি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়া যাবে? যাবে না, বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে ফ্যসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস যাদের আছে তাদের বেছে নিতে হবে। এ সাহস জামায়াতে ইসলামীর আছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দফায় দফায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের মিথ্যা অভিযোগে সাজানো সাক্ষী পাতানো আদালত দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। জামায়াত কারও কাছে মাথা নত করেনি। কারও দয়া ও অনুকম্পা কামনা করেনি। হাজার নেতাকর্মীকে হারিয়েও মাথা নত করেনি। চোখ রাঙানিকে পরোয়া করেনি। দেশ ছেড়েও পালায়নি। ছিলাম, আলহামদুলিল্লাহ আছি, ইনশাআল্লাহ থাকব।
অন্য রাজনৈতিক নেতাদের দেশের প্রতি আস্থা সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, অন্য নেতারা হাঁচি-কাশি হলেও চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান, দেশের প্রতি তাদের আস্থা নেই। অথচ তারাই এক সময় এ দেশ শাসন করেছেন। সেই জায়গাটা গড়েননি কেন— প্রশ্ন রাখেন জামায়াত আমির। হাঁচি-কাশির জন্য বিদেশে যেতে হয় কেন, কেন এ দেশের ওপর আস্থা নেই তাদের। কারণ, এ দেশটি তাদের টাকা বানানোর মেশিন— অভিযোগ করেন ডা. শফিকুর রহমান।
অসৎ নেতাদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জনগণের টাকা হাতিয়ে নেবেন, লুণ্ঠন করবেন, ব্যাংক ডাকাতি, শেয়ারবাজার লুণ্ঠন করবেন— তারপর সব টাকা বিদেশে পাচার করে দেবেন। নিজের ছেলে-মেয়েদের বিদেশে লেখাপড়া করাবেন। দেশের ছেলে-মেয়েদের অবজ্ঞা করে নিজের সন্তানদের বিদেশি ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার সমালোচনাও করেন তিনি।
তিনি বলেন, মায়েরা খোলাখুলি বলে তারা অনিরাপদ বাংলাদেশ দেখতে চান না, তারা একটি নিরাপত্তার বাংলাদেশ চায়। আমরা বিশ্বাস করি দাঁড়িপাল্লা ও তার সঙ্গীরাই নিরাপত্তা দিতে পারবে। নিজেদের নিরাপত্তার জন্য মায়েরা ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যকে বেছে নেওয়ার জন্য তাদের (বিরোধীদের) কলিজায় আগুন ধরে গেছে।
যুবকদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যুবকদের বেকারভাতা দিয়ে অসম্মান করতে চাই না। যুবকরা বেকারভাতার জন্য লড়াই করেনি। তারা লড়াই করেছে মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাওয়ার জন্য। যুবকদের হাতকে দেশ গড়ার কারিগর বানানো হবে।
বক্তব্য শেষে কুমিল্লা-১ আসনে ১১ দলীয় প্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহালুলের হাতে ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন। এ সময় জনতা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জামায়াত আমিরের সঙ্গে স্লোগান দেন।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা উত্তর জেলা আমির অধ্যাপক আ. মতিন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ প্রমুখ।
মন্তব্য করুন