বেলেন ফার্নান্দেজ
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
প্রিন্ট সংস্করণ

এল মেনচোর মৃত্যু ও মেক্সিকোতে নতুন সংকট

ছবি : কালবেলা গ্রাফিক্স
ছবি : কালবেলা গ্রাফিক্স

মেক্সিকোর নিরাপত্তা বাহিনী রোববার ৫৯ বছর বয়সী নেমেসিও রুবেন ওসেগুয়েরা সারভান্তেসকে হত্যা করেছে। তিনি ‘এল মেনচো’ নামে বেশি পরিচিত ছিলেন এবং পশ্চিম মেক্সিকোর জালিস্কো অঙ্গরাজ্যভিত্তিক কুখ্যাত জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল, সংক্ষেপে সিজেএনজির প্রধান ছিলেন। বহু বছর ধরে তিনি মেক্সিকোর অন্যতম শক্তিশালী ও সহিংস মাদক চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।

মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্বীকার করেছে, এ প্রাণঘাতী অভিযান পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ‘পরিপূরক তথ্য’ পাওয়া গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে বারবার মেক্সিকোর মাদক কার্টেল দমনের অজুহাতে দেশটিতে হামলার হুমকি দিয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় পরিচালিত এ অভিযানের রাজনৈতিক তাৎপর্যও কম নয়।

এখানে মনে রাখা প্রয়োজন, যেসব মাদক সংগঠনকে আজ ধ্বংস করার কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর উত্থানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিমালা এবং বিপুল মাদক চাহিদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে মাদকের বিশাল বাজার, কিন্তু প্রায়ই দ্বিমুখী মাদকনীতি এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে হস্তক্ষেপমূলক ভূমিকা বহু দশক ধরে লাতিন আমেরিকায় সহিংস চক্রকে জটিল করে তুলেছে।

এল মেনচোর মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, এটি মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, লাতিন আমেরিকা এবং সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি বড় ইতিবাচক ঘটনা। তিনি স্পষ্টভাবেই বলেছেন, ওয়াশিংটন এ ঘটনা বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ততটা আশাব্যঞ্জক নয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতি সামান্য পর্যবেক্ষণ করলেই বোঝা যায়, কোনো কার্টেল প্রধানকে হত্যা বা গ্রেপ্তার করলে তাৎক্ষণিকভাবে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। কারণ, ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হলে সংগঠনের ভেতরে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব শুরু হয়, পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোও প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেয়। মেক্সিকোর বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ঠিক সেটাই ঘটতে শুরু করেছে।

এল মেনচোর মৃত্যুর পরপরই বিভিন্ন এলাকায় বন্দুকধারীরা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়, মহাসড়ক অবরোধ করে এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। কিছু অঞ্চলে গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যায়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আগেভাগে শাটার নামিয়ে ফেলে। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গণমাধ্যম মেক্সিকোর পর্যটননির্ভর শহরগুলোতে আটকে পড়া মার্কিন পর্যটকদের দুর্দশার কথা জোর দিয়ে প্রচার করেছে। এতে বোঝা যায়, এ সহিংসতার প্রভাব শুধু স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই; তা আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ উচ্ছ্বাস প্রকাশের কিছু সময় পর আবার এক্সে লিখেছেন, মেক্সিকোতে সহিংসতার বিষয়টি তিনি গভীর দুঃখ ও উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি আরও লিখেছেন, স্নায়ুচাপ হারালে চলবে না। অর্থাৎ, সহিংসতার ঝুঁকি থাকলেও কার্টেলবিরোধী কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত তিনি দেননি।

সব মিলিয়ে ঘটনাটি দেখাচ্ছে যে, একটি বড় মাদক কার্টেল প্রধানের মৃত্যু তাৎক্ষণিকভাবে এক ধরনের প্রতীকী সাফল্য এনে দিতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অনেক বেশি জটিল। মাদক চাহিদা, দারিদ্র্য, দুর্নীতি, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং আন্তঃসীমান্ত রাজনীতির মতো কাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধান না হলে সহিংসতার চক্র ভাঙা কঠিন। এল মেনচোর মৃত্যু হয়তো একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি। কিন্তু মেক্সিকোর মাদকযুদ্ধের গল্প এখনো শেষ হয়নি।

মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী তার ‘পোস্টস্ক্রিপ্ট’ শেষ করেন মেক্সিকোর জনগণের উদ্দেশে স্প্যানিশ ভাষায় কিছু উৎসাহব্যঞ্জক কথা বলে—‘আনিমো মেক্সিকো’ অর্থাৎ ‘সাহস রাখো, মেক্সিকো!’

কিন্তু বাস্তবতা হলো, আনন্দ করার মতো তেমন কোনো জায়গা এখানে নেই। পৃথিবীর ইতিহাস ঘেঁটে এমন একটি উদাহরণও খুঁজে পাওয়া কঠিন, যেখানে কোনো একটি মাদক কার্টেল প্রধানকে হত্যা করে মাদক পাচারের সমস্যা বা সংশ্লিষ্ট সহিংসতা স্থায়ীভাবে সমাধান হয়েছে। বরং প্রায় সবক্ষেত্রেই দেখা গেছে, একজন নেতার পতন নতুন সহিংসতার দরজা খুলে গেছে।

এ প্রসঙ্গে কলম্বিয়ার মেডেলিন কার্টেলের প্রধান পাবলো এসকোবারের ঘটনা স্মরণ করা যায়। ১৯৯৩ সালে কলম্বিয়ার পুলিশ, মার্কিন ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সহায়তায় এসকোবারকে হত্যা করে। সেই সময় এটিকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু এসকোবারের মৃত্যুর পর আন্তর্জাতিক মাদক বাণিজ্য থেমে যায়নি; বরং তা নতুন কাঠামো ও নতুন গোষ্ঠীর মাধ্যমে অব্যাহত থাকে। পরবর্তী দশকগুলোতে কলম্বিয়া ভয়াবহ সহিংসতার সাক্ষী হয়। এ সহিংসতার একটি বড় অংশ সংঘটিত হয়েছিল রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতেই, যারা আবার যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। অর্থাৎ, কার্টেলবিরোধী যুদ্ধের নামে রাষ্ট্রীয় সহিংসতাও বাড়তে থাকে। এ প্রেক্ষাপটে একটি কুখ্যাত অধ্যায় বিশেষভাবে স্মরণীয়। অভিযোগ রয়েছে, কলম্বিয়ার সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রায় ১০ হাজার বেসামরিক মানুষকে হত্যা করে তাদের মরদেহ বামপন্থি ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চালিয়ে দেয়। ইতিহাসে এটি ‘ফলস পজিটিভস’ কেলেঙ্কারি নামে পরিচিত। এতে বোঝা যায়, মাদকবিরোধী যুদ্ধের নামে শুধু অপরাধী নয়, সাধারণ মানুষকেও ভয়াবহ মূল্য দিতে হয়েছে। আজও কলম্বিয়া বিশ্বের শীর্ষ কোকেন উৎপাদনকারী দেশগুলোর একটি। অর্থাৎ, এসকোবারকে হত্যা করেও মাদক অর্থনীতি বা সহিংসতার মূল কাঠামো ভাঙা যায়নি। নতুন গোষ্ঠী, নতুন নেটওয়ার্ক এবং নতুন সহিংসতার জন্ম হয়েছে।

এল মেনচোর মৃত্যুকে মেক্সিকো বা বিশ্বের জন্য ‘বড় অর্জন’ বলা অন্তত বিতর্কিত। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি বাস্তবতার তুলনায় অতিরঞ্জিত বা বিভ্রান্তিকর মূল্যায়ন। কারণ ইতিহাস বলছে, এমন পদক্ষেপে সাধারণত সমস্যার মূল সমাধান হয় না, উল্টো নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করে।

রোববার আমি দক্ষিণ মেক্সিকোর ওআহাকা অঙ্গরাজ্যে থাকা এক মেক্সিকান বন্ধুকে ফোন করেছিলাম। তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমের সমর্থক। দিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের নিয়মিত তর্ক হলো। তার মতে, মেক্সিকো সরকার মাদকবিরোধী যুদ্ধে নিজের দায়িত্বই পালন করেছে আর এতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে সমালোচকদের দৃষ্টিতে বিষয়টি এত সরল নয়। অনেকে মনে করেন, শেইনবাউম তার পূর্বসূরি ও রাজনৈতিক মেন্টর আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদরের মতোই এমন এক ভারসাম্য রক্ষা করেন, যেখানে একদিকে জাতীয় সার্বভৌমত্বের কথা বলা হয়, অন্যদিকে বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অগ্রাধিকারও পূরণ করা হয়। অর্থাৎ, প্রকাশ্যে স্বাধীন অবস্থান, কিন্তু নেপথ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়। অবশ্য এটিও সত্য যে, শেইনবাউমের হাতে কৌশলগতভাবে খুব বেশি বিকল্প নাও থাকতে পারে। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী অবস্থান এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর ভাষ্য অনেক দেশকেই চাপের মধ্যে ফেলেছে। ফলে মেক্সিকোর জন্যও কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা সহজ নয়।

সম্ভবত এ কারণেই শেইনবাউম আপাতত যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট করার পথ বেছে নিয়েছেন বলে কেউ কেউ মনে করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া অবস্থানের মধ্যে এল মেনচোর বিরুদ্ধে অভিযানকে ওয়াশিংটনের কাছে একটি প্রতীকী সাফল্য হিসেবে দেখানো হতে পারে। কিন্তু এ ধরনের সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি মূল্য দিতে হয় সাধারণ জনগণকেই। সমসাময়িক মেক্সিকোর ইতিহাস এ কথাই বলে। ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফেলিপে ক্যালদেরন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’ শুরু করার পর দেশজুড়ে হত্যাকাণ্ড ও গুমের ঘটনা হঠাৎ বেড়ে যায়। সেই সময় থেকে মেক্সিকো কার্যত এক দীর্ঘ সহিংসতার চক্রে ঢুকে পড়ে। এরপর থেকে কয়েক লাখ মানুষ নিহত বা গুম হয়েছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা উল্লেখ করেছে। নিহতদের বড় একটি অংশ সংঘটিত অপরাধের শিকার হলেও, বহু মানুষ রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতেও নির্যাতিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও অপরাধী গোষ্ঠীর মধ্যে যোগসাজশের কথাও উঠে এসেছে।

সব মিলিয়ে ইতিহাস ইঙ্গিত দেয়, শুধু কোনো এক কার্টেল নেতাকে হত্যা করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। বরং এতে নতুন ক্ষমতার লড়াই, প্রতিশোধমূলক হামলা এবং দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি হয়। এল মেনচোর মৃত্যুর পর মেক্সিকো কোন পথে এগোবে সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

উত্তরের দিকে মাদকের প্রবাহে কার্যত কোনো ধাক্কাই লাগেনি, অথচ দক্ষিণের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি অস্ত্রের প্রবাহ আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে। অর্থাৎ, একদিকে মাদক পাচার বন্ধ হয়নি, অন্যদিকে অস্ত্রের সহজলভ্যতা সহিংসতাকে আরও উসকে দিচ্ছে। মেক্সিকোতে জালিস্কো অঙ্গরাজ্য গুমের সংখ্যায় শীর্ষে। গত বছর গুয়াদালাহারার উপকণ্ঠে একটি খামারে গোপন চুল্লি বা অবৈধ দাহস্থল আবিষ্কারের ঘটনায় অঞ্চলটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। উল্লেখ, এই গুয়াদালাহারা আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক শহরগুলোর একটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই খামারটি জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল বা সিজেএনজি ব্যবহার করত নিয়োগ ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে। একই সঙ্গে সেটি ছিল নির্মূলকরণ কেন্দ্র, যেখানে অপহৃত বা প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তিদের হত্যা করে দেহ গুম করা হতো। এ তথ্য মেক্সিকোর সহিংস বাস্তবতার একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে।

এমন প্রেক্ষাপটে এল মেনচোকে সরিয়ে দেওয়া পরিস্থিতিকে শান্ত করবে—এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। এর আগে সিনালোয়া কার্টেলের নেতা জোয়াকিন ‘এল চ্যাপো’ গুজমান এবং ইসমায়েল ‘এল মায়ো’ সামবাদাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই পদক্ষেপ সহিংসতা কমায়নি; বরং ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি করে নতুন সংঘর্ষের জন্ম দিয়েছে, যা এখনো চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের বিপরীতে সমালোচকদের দাবি, সীমান্তের দক্ষিণে মাদক পাচার বা সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ করার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত আগ্রহ নেই। কারণ, এসব সমস্যা টিকে থাকলে তা মেক্সিকোসহ লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের একটি স্থায়ী অজুহাত হিসেবে কাজ করে। যদি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্র ‘মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, লাতিন আমেরিকা এবং বিশ্বকে’ কার্টেল সমস্যার হাত থেকে মুক্ত করতে চায়, তবে ভিন্ন নীতির প্রয়োজন। উদাহরণ হিসেবে অনেকেই মাদককে অপরাধমুক্ত করার কথা বলেন। এতে মাদক ব্যবসার বিপুল মুনাফা কমে যেত, ফলে কার্টেল অর্থনীতির ভিত দুর্বল হতে পারত।

একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র উৎপাদন ও রপ্তানির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ সহিংসতা কমাতে সহায়ক হতে পারত। কারণ, মেক্সিকোর বহু অপরাধচক্রই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি অস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল। তবে বাস্তবতা হলো, এ সম্ভাব্য সমাধানগুলোর কোনোটিরই সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। নীতিগত পরিবর্তনের বদলে পুরোনো নিরাপত্তাকেন্দ্রিক পন্থাই বহাল রয়েছে। যদি কখনো সত্যিই এসব কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটত, তবে সেটিই হতো প্রকৃত অর্থে একটি ‘বড় ইতিবাচক উন্নয়ন’।

লেখক: আলজাজিরার কলাম লেখক। এ ছাড়া দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, লন্ডন রিভিউ অব বুকস ব্লগ, দ্য ব্যাফলর, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এবং মিডল ইস্ট আইসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে লিখেছেন। আলজাজিরায় প্রকাশিত নিবন্ধটি ভাষান্তর করেছেন আবিদ আজাদ

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নিখোঁজের ৪ দিন পর প্রবাসীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

ক্যানসার শনাক্তে দেশে প্রথম রোবটিক প্রোস্টেট বায়োপসি হলো স্কয়ারে

আমার কথা বলে তাহেরী হুজুর আলোচনায় থাকতে চান : সামান্তা

অভিষেক ম্যাচেই ৪৭ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন ভারতীয় ক্রিকেটার 

হার্ট ভালো রাখতে প্রতিদিন খাবেন যে পাঁচ খাবার

৩৪ তলার ফ্ল্যাট কেনার পর জানতে পারলেন ভবনটিই ৩২ তলা

চাকরিনির্ভরতা থেকে উদ্যোক্তা: আত্মকর্মসংস্থানে আনসারের ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প

পদত্যাগী মন্ত্রীর বাসায় খিচুড়ি, প্রতিমন্ত্রীর সভা শেষে বিরিয়ানি দিয়ে আপ্যায়ন

বাজেটে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নতুনভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে : মির্জা ফখরুল 

মৌচাকে থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বিল্লাল খুন

১০

মহানগর যুবদল নেতা বহিষ্কার

১১

নুরজাহান বেগমের মৃত্যু : সমাজের এক নির্মম আয়না

১২

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি নেতা সোহেল রানাকে স্থায়ী বহিষ্কার 

১৩

পবিপ্রবির নতুন উপাচার্য হলেন প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহান

১৪

তনু হত্যা  / ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ ২ আসামির বিরুদ্ধে 

১৫

নাগরিকসেবায় অবহেলা করলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ডিএসসিসি প্রশাসকের

১৬

হোয়াটসঅ্যাপে ইসরায়েলের সাইবার হামলা, মামলা করবে মেটা

১৭

রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

১৮

আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক ট্রেনিং সেন্টার / ৬ দিনব্যাপী ফাউন্ডেশন কোর্সের দ্বিতীয় পর্ব শুরু

১৯

এনসিপিতে যোগ দিলেন বিভিন্ন দলের শতাধিক নেতাকর্মী

২০
X