

বিরাট কোহলির ওয়ানডে অভিষেক হয়েছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০০৮ সালে ডাম্বুলায়। এক বছর পর সেই লঙ্কার বিপক্ষেই ইডেনে প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। বুধবার রায়পুরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫৩তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করেন কোহলি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটি তার ৮৪তম সেঞ্চুরি। টেস্ট ছেড়েছেন। টি-টোয়েন্টিও খেলেন না। শুধু ওয়ানডেতেই বিরাটের রাজত্ব। তাই আফসোস হতে পারে এই ভেবে যে ফিটনেসের চূড়ায় থেকেও তিনি যদি অন্য দুই ফরম্যাট না ছাড়তেন, তাহলে হয়তো শচীন টেন্ডুলকারের শততম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির রেকর্ড হুমকির মুখে পড়ত।
কিংবদন্তি ভিভ রিচার্ডস মনে করেন, ওয়ানডে ইতিহাসের সেরা ব্যাটার বিরাট কোহলি। স্বয়ং ভিভ এটা মনে করেন! ব্যাপারটা আরও বিস্ময়কর এ কারণে ভিভ নিজেই তো ইতিহাসের সেরা। অবশ্য পরিসংখ্যানে পিছিয়ে নেই কোহলি। ৩০৬ ম্যাচ খেলে গড় রেখেছেন ৫৮.০২। রান করেছেন ১৪৩৯০। তার ৫৩টি ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে দল হেরেছে মাত্র ৮টিতে। অর্থাৎ কোহলি সেঞ্চুরি করলে ওয়ানডে প্রায় হারেনি ভারত। এখানে ভিভ ও শচীনের চেয়ে এগিয়ে কোহলি। অন্য একটা ক্ষেত্রেও তিনি এগিয়ে রয়েছেন। বিরাট কোহলির টেস্ট ছেড়ে দেওয়াটা উদাহরণ হওয়ার মতো। উপমহাদেশের অন্য সব ক্রিকেটার যেখানে ক্যারিয়ার অযথাই প্রলম্বিত করতে চান, কোহলি সেখানে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ছেড়েছেন ফর্মের চূড়ায় থেকে। অবশ্য অনেকে গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতিও টেস্ট ছাড়ার কারণ মনে করেন। তবে কারণ যেটাই হোক, ৩০ সেঞ্চুরি করা কোহলি চাইলে আরও বছর দুয়েক টেস্ট খেলতে পারতেন। ওয়ানডেতে অবশ্য চুটিয়ে খেলছেন তিনি। গম্ভীরের নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই খেলছেন। রোববার রাচিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অসাধারণ সেঞ্চুরির পর বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে তোপ দেগেছেন কোহলি। জাতীয় দলে জায়গা ধরে রাখার জন্য ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে হবে—এমন নির্দেশনা দিয়েছে ভারতীয় বোর্ড। এই নির্দেশনার পেছনে প্রভাব ছিল কোচ গম্ভীরের। দলের মধ্যে যিনি তারকা প্রথার বিলোপ চেয়েছেন। প্রয়োজন হলে ওয়ানডে বিশ্বকাপ পরিকল্পনা থেকে রোহিত-কোহলিকে ছেঁটে ফেলতে চান। এমন কোচের মুখের ওপর সেঞ্চুরির জবাব দিয়ে কোহলি বলেছেন, ‘আমি কখনো মাঠের প্রস্তুতিতে বিশ্বাস করি না। আমার কাছে মানসিক প্রস্তুতিটাই আসল। আমি কঠোর পরিশ্রম করি। যতক্ষণ আমার শরীর ঠিকঠাক আছে এবং মানসিক তীক্ষ্ণতা রয়েছে, ততক্ষণ জানি আমি ঠিক আছি। ম্যাচের আগে এক দিনের বিশ্রামও নিয়েছি। এখন আমার বয়স ৩৭ বছর। রিকভারির সময় দরকার হয়। এভাবেই এতদিন খেলে এসেছি। এখন তো শুধু একটা ফরম্যাটেই খেলি।’ রায়পুরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৯৩ বলে ১০২ রান করেন কোহলি। এমন ঝলমলে ইনিংসে ভর করে ভারত তোলে ৩৫৮ রান। সেঞ্চুরি করেন ঋতুরাজ গায়কোয়াড। ভারতের রানের জবাবে ৪৯.২ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছায় দক্ষিণ আফ্রিকা। সেঞ্চুরি করেন অ্যাডাম মার্করাম। টেস্ট সিরিজে হারা ভারত ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছিল কোহলির সেঞ্চুরিতে ভর করে। দ্বিতীয় ম্যাচেও তিনি সেঞ্চুরি করেছেন। তবে দল জেতেনি। না জিতলেও গম্ভীরকে একটা বার্তা ঠিকই দিয়েছেন। কী সেই বার্তা? এটাই যে কোহলি ক্রিকেট খেলেন নিজের শর্তে। অন্যের খবরদারির প্ররোচনায় নয়।