

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতি আসাদুজ্জামান মণ্ডল আসাদকে নিয়মবহির্ভূতভাবে সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে রেজিস্ট্রারকে চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, এ নিয়োগ নিয়ম মেনেই হয়েছে।
বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে গত ৭ ডিসেম্বর দুদক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান প্রধান। এরপর ১৪ ডিসেম্বর ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেয় ইউজিসি। এতে প্রতিবেদন দিতে ৭ কর্মদিবস সময় বেঁধে দেওয়া হয়।
২০২২ সালের ২৭ অক্টোবর লোকপ্রশাসন বিভাগের শূন্যপদে দুজন সহযোগী অধ্যাপক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। শর্তে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও অন্যূন দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতকোত্তর ডিগ্রিসহ পিএইচডি এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে চার বছরসহ কমপক্ষে সাত বছরের সক্রিয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়। অথবা বর্ণিত যোগ্যতাসহ এমফিল ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে ৫ বছরসহ মোট ১০ বছরের শিক্ষকতার বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
পরে আবেদনগুলোতে প্রার্থীদের সঠিক যোগ্যতা আছে কি না, তা যাচাই করতে ওই বিভাগের প্ল্যানিং কমিটির কাছে পাঠানো হয়। তবে আবেদনকারী আসাদুজ্জামান ২০২২ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্ল্যানিং কমিটির সভায় নিজেই ওই কমিটির সভাপতি থেকে তার চাকরির বয়স ৮ বছর ১ মাস হলেও নিজেকেসহ আরও তিনজনকে যোগ্য প্রার্থী ঘোষণা করে বোর্ডের কাছে সুপারিশ করেন। এরপর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি উপাচার্য প্রফেসর হাসিবুর রশীদ বোর্ডের তারিখ নির্ধারণ করেন। তবে এমন সুপারিশের খবর প্রকাশিত হলে বোর্ড স্থগিত করে তার ব্যাখ্যা চায় ইউজিসি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, ওই বিভাগে শিক্ষক সংকট থাকায় আবেদনকারীরাই প্ল্যানিং কমিটির সভাপতি ও সদস্য ছিলেন। এরপর চলতি বছরের ১৩ জুলাই নিয়োগ বোর্ড হয়। তবে এ বোর্ডে যোগ্য চারজনের মধ্যে মাত্র দুজন উপস্থিত হন, তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত যোগ্যতা না থাকলেও আসাদুজ্জামানকে নিয়োগের সুপারিশ করে বোর্ড। পরে তার নিয়োগটি অনুমোদনের জন্য ২০ জুলাই ৯৬তম সিন্ডিকেটে তোলা হলে যোগ্যতা না থাকায় বিষয়টি ফেরত পাঠানো হয়।
আইন অনুযায়ী, বাছাই বোর্ডের সুপারিশ সিন্ডিকেটে পাস না হলে বিষয়টির তথ্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাতে হবে। সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটাই চূড়ান্ত হবে।
তবে সেই আইন ভেঙে পছন্দের প্রার্থী তথা আসাদুজ্জামানকে নিতেই আবেদনটি ফের বাছাই বোর্ডে পাঠানো হয়। এরপর উপাচার্য গত ২৩ সেপ্টেম্বর বোর্ড আহ্বান করে তাকেই নিয়োগের সুপারিশ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ৯৬তম সিন্ডিকেটে আপত্তি তোলা সদস্যদের অনুপস্থিতিতে ২৪ সেপ্টেম্বর ৯৮তম সিন্ডিকেট সভায় তা অনুমোদন করে ওইদিনই আসাদুজ্জামানকে যোগদান করানো হয়।
বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এরপর গত ১০ অক্টোবর ইউজিসিতে লিখিত অভিযোগ করেন শিক্ষক তাবিউর রহমান প্রধান। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৪ ডিসেম্বর পৃথক দুটি চিঠি পাঠায় ইউজিসি। একটিতে তাবিউর রহমানকে আসাদুজ্জামানের নিয়োগে অনিয়মের বিষয়টি পুনরায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দিতে বলা হয়। অন্যদিকে তার অভিযোগ আমলে নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগের ব্যাখ্যা চেয়ে রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী আলমগীর চৌধুরীকে জবাব দিতে বলা হয়।
আসাদুজ্জামান মণ্ডল জানান, আইন অনুযায়ী বিভাগের প্ল্যানিং কমিটির সভাপতি হন ওই বিভাগের প্রধান। তাই নিয়ম অনুযায়ী আমি সভাপতি হয়েছি। আমাকে সাময়িক হয়রানির জন্য এ অভিযোগ করা হচ্ছে।
উপাচার্য হাসিবুর রশীদকে ফোন করা হলে বিষয়টি জেনেই মিটিংয়ে আছি বলে ফোন কেটে দেন। অবশ্য আর কল রিসিভ করেননি তিনি।
রেজিস্ট্রার আলমগীর চৌধুরী জানান, আমার মনে হয় তার নিয়োগে অনিয়ম হয়নি। বিশেষ বিবেচনায় এসব ক্ষেত্রে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। আসাদুজ্জামানের ক্ষেত্রে কী হয়েছে, তা আমার এই মহূর্তে জানা নেই।