দ্বাদশ জাতীয় সংসদ প্রাণবন্ত ও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্যরা। জনগণের জন্য সরাসরি কাজ করার সুযোগ পাওয়ায় সর্বস্ব দিয়ে মানুষের সেবার চেষ্টা করবেন বলেও জানিয়েছেন তারা।
গতকাল মঙ্গলবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগে ও পরে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তারা এ কথা জানান।
বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এই সংসদ খুবই প্রাণবন্ত ও কার্যকর হবে। জনগণ ভোট দিয়েছেন, এ কারণে জনসেবার সুযোগ পেয়েছি। আশা করি, নতুন সংসদ জনগণের জন্য কাজ করবে। জনগণের জন্য আইনপ্রণয়ন করবে। আমরা জনসেবা করতে পারব।
ঢাকা-১০ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ বলেন, সর্বস্ব দিয়ে মানুষের সেবার চেষ্টা করব। ফরিদপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এ কে আজাদ বলেন, একজন সংসদ সদস্যের ব্যবসায়ী হওয়া অপরাধ নয়, যদি না সে এ পদটির অপব্যবহার করেন।
হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন বলেন, ব্যক্তিগতভাবে মানুষের জন্য কাজ করে গেছি। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় সেই কাজের সুযোগ আরও বেড়ে গেল। একই সঙ্গে জনগণের কাছে দায়বদ্ধতাও বেড়ে গেছে।
সংসদে কেউ ভুল করলে বিএনপির ধরিয়ে দেওয়া উচিত মন্তব্য করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান বলেন, আমাদের ওপর মানুষের প্রত্যাশা এবার বেশি। মানুষ যেমন উন্নয়ন চায়, তেমনি শান্তিও চায়। এরই মধ্যে এ নিয়ে কাজ শুরু করেছি। আমরা প্রথম সংসদ সদস্য আর জনগণ দ্বিতীয় সংসদ সদস্য।
বিএনপির কালো পতাকা মিছিল নিয়ে শামীম ওসমান বলেন, কালো পতাকা মিছিল হোক, এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। তারা তাদেরটা বলবেন, এটা হওয়া দরকার। তাদের বেশি বেশি কথা বলাটা ভালো। আমরা ভুল করলে সেগুলো তাদের ধরিয়ে দেওয়া উচিত।
সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চেপেই সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে আসেন সবচেয়ে কম বয়সী সংসদ সদস্য আজিজুল ইসলাম। যশোর-৬ (কেশবপুর) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঈগল প্রতীকে নির্বাচন করে জয়ী হওয়া এই সংসদ সদস্যকে সিএনজি থেকে নামতে দেখে অনেকেই কৌতূহলী হন। এ সময় সাংবাদিকরা তাকে ঘিরে ধরেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। আজিজুল প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি সুযোগ দিয়েছেন বলেই আমার মতো মানুষ আজকে সংসদ সদস্য হতে পেরেছি। প্রধানমন্ত্রী যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন আমরা তরুণরা সেটা গড়তে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।
নির্বাচনে জয় পাওয়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানুষের ভালোবাসা। যখন ভোট চাইতে গিয়েছিলাম, মানুষ এত পরিমাণ আমাকে দোয়া করেছে যে, এত মানুষের চোখের পানি আমার গায়ে লেগে আছে। এই মানুষের চোখের পানি দিয়েই কিন্তু আজকে আমি সংসদে আসছি। সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে আমার ভেতরটা অনেক ভারী। কারণ আমার যে দায়িত্ব এটা অবশ্যই পূরণ করতে হবে।
আগামী দিনেও জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের এমপি জান্নাত আরা হেনরী। রাষ্ট্রপতির ভাষণ থেকে কী নির্দেশনা পেয়েছেন, জানতে চাইলে হেনরী বলেন, তিনি (রাষ্ট্রপতি) সব ধরনের নির্দেশনা দিয়েছেন। বিগত দিনে যে কার্যক্রম হয়েছে এবং আগামীতেও ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে যেসব কার্যক্রম হবে, সবগুলো যাতে আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে করতে পারি, সেই নির্দেশনা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।