দিলীপ মজুমদার, কুমিল্লা
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৩৩ এএম
আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:০৩ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

খাবার বিক্রির টাকায় কুমিল্লায় স্কুল করলেন জাপানি শিক্ষক

১০০ শিক্ষার্থী
খাবার বিক্রির টাকায় কুমিল্লায় স্কুল করলেন জাপানি শিক্ষক

নির্জন পাহাড়ের ফাঁকে উড়ছে জাপানি পতাকা। পাশেই একটি লাল-সবুজ পতাকা। মাঠে শিশুদের সঙ্গে নাচানাচি করছেন কয়েকজন বিদেশি। জাপান থেকে এসেছেন তারা। ভাঙা বাংলায় শিশুদের শেখাচ্ছেন সালাম, ধন্যবাদ আর ওয়েলকাম। অন্যপাশে গলায় চকলেটের মালা নিয়ে দাঁড়িয়ে আরেক দল শিশু। এবার প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হবে তারা। এ শিশুদের বরণ করতেই জাপানি নাগরিকদের এ আয়োজন।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ের গহিন এলাকা বড় ধর্মপুরে স্কুলটির অবস্থান। স্কুলের প্রধান ফটকে জাপানি, ইংরেজি ও বাংলায় স্কুলের নাম লেখা রয়েছে। ফটকের ওপরে উড়ছে বাংলাদেশ ও জাপানের পতাকা।

শিক্ষার্থীদের পরনে সবুজ প্যান্ট ও সাদা জামা। কোনো কোনো চেয়ার-টেবিল লাল-সবুজ রঙের। কোনোগুলো আবার সাদা। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এখানে পড়ানো হয়। প্রতি শ্রেণিতে ২০ জন করে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০০ জন। বৃহস্পতিবার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বরণ ও খেলাধুলার আয়োজন ছিল। তাই তাদের সঙ্গে জাপানিদের মজা করতে দেখা যায়।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে গড়ে ওঠে মজুমদার ওয়ান ড্রপ প্রাইমারি স্কুল। এটির ৪০ শতাংশ ব্যয় বহন করেন সদর দক্ষিণ উপজেলার তারিক উল ইসলাম মজুমদার ও তার স্ত্রী নাহিদা আক্তার মজুমদার। বাকিটা বহন করেন তাদের জাপানি বন্ধু অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক তোশিকো ওনিশি ও তার বন্ধুরা। তোশিকো ওনিশি অবসরে জাপানের বিভিন্ন স্কুলে বাংলাদেশি খাবার বিক্রি করেন। সেই টাকা দিয়ে এ স্কুলে সহায়তা করেন। বৃহস্পতিবার চার জাপানি বন্ধু আসেন লালমাই পাহাড়ের মজুমদার ওয়ান ড্রপ প্রাইমারি স্কুলে। সেখানে তারা জানান স্কুল প্রতিষ্ঠার ইতিহাস।

স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল ইয়াসমীন আলী বলেন, এখানের অধিকাংশ শিশুর পরিবারের কেউ স্কুলে যায়নি। কারও মা নেই, কারও আবার বাবা নেই। অনেকে সকালের খাবার খেয়ে স্কুলে আসতে পারে না। বইয়ের সঙ্গে তাদের জীবন পরিচালনা ও পরিচ্ছন্নতায় আমরা গুরুত্ব দিয়ে থাকি।

তোশিকো ওনিশি বলেন, শিশুদের মুখের হাসি দেখতে জাপান থেকে এসেছি। কখনো কখনো জাপানে বাংলাদেশি খাবার বিক্রি করি। এতে যা আয় হয়, তাই তাদের জন্য পাঠাই। এখানে এলে মন ভালো হয়ে যায়। জাপানে তরুণের সংখ্যা কম, এখানের তরুণদের দেখে হিংসে হয়! তাদের মধ্যে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। বন্ধুরা নিজেদের আয় থেকে স্কুলটি পরিচালনা করি। কতদিন চালাতে পারব, জানি না। কেউ ইচ্ছে করলে স্কুলের খরচ বহনে অংশ নিতে পারেন। সংস্কৃতির বিষয়ে জানতে চাইলে ওনিশি বলেন, জাপান বাংলাদেশের সংস্কৃতি ভিন্ন। তবে আমার ভালো লাগে এ দেশের সংস্কৃতি। বিশেষ করে বিরিয়ানি। এখানকার মানুষ অতিথিপরায়ণ। খুব মিশুক। মানুষ সময় অনেক অপচয় করে।

স্কুলের উদ্যোক্তা তারিক উল ইসলাম মজুমদার বলেন, জাপানে কিছু বন্ধু রয়েছে। তারা একবার কুমিল্লায় বেড়াতে আসেন। তারা কান্দিরপাড়ে কিছু ভিক্ষুককে অনেক টাকা দিতে থাকেন। বিষয়টি আমার স্ত্রী নাহিদা আক্তার মজুমদারের নজরে আসে। তিনি বলেন, এভাবে তো মানুষের উপকার হবে না। পাহাড়ের শিক্ষার আলো জ্বালাতে কাজ করা যেতে পারে। এর নিরিখে আমরা তাদের প্রস্তাব দিই। তোশিকো ওনিশিসহ তার সহপাঠীরা স্কুলের ব্যয়ভার বহনে সহযোগিতা করেন। প্রতি জানুয়ারি মাসে এসে তারা স্পোর্টস ডে করেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে : খোকন

বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

আগামী নির্বাচন সহজ নয়, ভোট নষ্ট করা যাবে না : সালাম

সিরিয়ার ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ / বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরছে

ফাহাদ নৈপুণ্যে ভারতকে ধসিয়ে দিল বাংলাদেশ

আব্দুস সোবহানের স্মরণে দোয়া মাহফিল

গ্রিনল্যান্ড দখলের বিরোধিতা করলে নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

চট্টগ্রামে যৌথবাহিনীর তল্লাশি অভিযান

শোকজের জবাব দেননি নাজমুল, পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

১০

‘কিলার জাহিদ’ গ্রেপ্তার 

১১

৪৭ আসন কীভাবে বণ্টন হবে, জানালেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির

১২

একটি দল ফায়দা লুটতে মুক্তিযোদ্ধাদের হাইজ্যাক করেছে : নুরুদ্দিন অপু

১৩

নোয়াখালীর পর বিদায় ঘণ্টা বাজল মিঠুনের দলের

১৪

৩৭ রানে অলআউট, ভাঙল ২৩২ বছরের পুরোনো রেকর্ড

১৫

যুবকের ২ পা বিচ্ছিন্ন

১৬

মা হারালেন ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক 

১৭

প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন বাবরের স্ত্রী

১৮

চট্টগ্রামে মহাসড়ক ‘ব্লকেড’ 

১৯

কুর্দি ভাষাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিল সিরিয়া

২০
X