

গোসলের পর শরীর মোছা, মুখ বা হাত শুকানোর জন্য আমরা প্রতিদিন তোয়ালে ব্যবহার করি। তোয়ালেটি দেখতে পরিষ্কার মনে হলেও সেটি আদৌ কতটা জীবাণুমুক্ত, তা নিয়ে আমরা খুব কমই ভাবি। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত না ধুলে তোয়ালে হয়ে উঠতে পারে নানা ধরনের জীবাণুর নিরাপদ আশ্রয়। এই অজানা ঝুঁকি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত তুলে ধরা হলো সহজ ভাষায়।
অনেকেই সপ্তাহে একবার তোয়ালে ধোন, কেউ আবার আরও বেশি সময় ব্যবহার করেন। যুক্তরাজ্যে করা এক জরিপে দেখা গেছে, কিছু মানুষ বছরে মাত্র একবার তোয়ালে ধুয়ে থাকেন। কিন্তু গবেষণা বলছে, তোয়ালে খুব দ্রুত ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকে ভরে যায়, বিশেষ করে ভেজা অবস্থায় থাকলে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তোয়ালের নরম তন্তুর ভেতরে সহজেই জীবাণু জমে। আমাদের শরীরেই হাজারের বেশি প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া থাকে। এগুলোর অনেকগুলো ক্ষতিকর না হলেও ভেজা তোয়ালে পেলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শুধু শরীরের জীবাণুই নয়, বাতাসে থাকা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকও তোয়ালের গায়ে বসে যায়। এমনকি ধোয়ার পানির মাধ্যমেও জীবাণু তোয়ালে পৌঁছাতে পারে।
জাপানে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, পানি সাশ্রয়ের জন্য ব্যবহৃত পানি দিয়ে তোয়ালে ধুলে সেই পানির ব্যাকটেরিয়া সরাসরি কাপড়ে চলে আসে। আবার বাথরুমে তোয়ালে শুকালে টয়লেট ফ্লাশ করার সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়া জীবাণুও তোয়ালের গায়ে জমতে পারে।
দীর্ঘদিন ব্যবহার করা এবং ভেজা তোয়ালে জীবাণুর আস্তরণ তৈরি করে, যাকে বলা হয় বায়োফিল্ম। এতে তোয়ালের রং ফিকে হয়ে যায় এবং নরম ভাব নষ্ট হয়। গবেষণায় তোয়ালে থেকে স্ট্যাফিলোকক্কাস, ই. কোলাই, সালমোনেলা ও শিগেলার মতো ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। এগুলোর অনেকগুলো সাধারণ অবস্থায় ক্ষতিকর না হলেও শরীরের ক্ষতস্থানে গেলে বা যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
বিশেষজ্ঞ এলিজাবেথ স্কট জানান, তোয়ালের জীবাণু মূলত আমাদের শরীর থেকেই আসে। হঠাৎ করে ক্ষতিকর জীবাণু সেখানে জন্মায় না। তবে হাত মোছার তোয়ালে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। গোসলের তোয়ালের পাশাপাশি রান্নাঘরের তোয়ালেও ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর বড় উৎস। খাবার, হাত বা বাসন মুছতে গিয়ে এসব তোয়ালে ই. কোলাইয়ের মতো জীবাণু ছড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিড-১৯ এর মতো ভাইরাস এমনকি এইচপিভির মতো সংক্রমণও ব্যবহৃত তোয়ালের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। এ কারণেই হাসপাতাল ও পাবলিক টয়লেটে কাপড়ের তোয়ালের বদলে পেপার টাওয়েল বা হ্যান্ড ড্রায়ার ব্যবহার করা হয়।
গবেষণা অনুযায়ী, সপ্তাহে অন্তত একবার তোয়ালে ধোয়া উচিত। কেউ অসুস্থ থাকলে, বিশেষ করে বমি বা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে তার তোয়ালে প্রতিদিন আলাদা করে ধোয়া জরুরি।
তোয়ালে ধোয়ার সময় পানির তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হওয়া ভালো। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ডিটারজেন্ট ব্যবহার করলে জীবাণু দূর হয় বেশি। কম তাপে ধুলে এনজাইম বা ব্লিচ ব্যবহার করা যেতে পারে। রোদে শুকানোও খুব কার্যকর। ভারতের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ডিটারজেন্ট ও জীবাণুনাশক ব্যবহার করে রোদে শুকালে তোয়ালে থেকে সবচেয়ে বেশি ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক দূর হয়।
পরিষ্কার তোয়ালে শুধু পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়, এটি আপনার স্বাস্থ্য সুরক্ষারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিয়মিত ধোয়া ও সঠিকভাবে শুকানোর অভ্যাস গড়ে তুললেই অনেক ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
মন্তব্য করুন