মাহমুদুল হাসান
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০২:২৬ এএম
আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:১৯ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

অবহেলায় গলার ক্যান্সারের ঝুঁকি

বিশ্ব কণ্ঠ দিবস আজ
অবহেলায় গলার ক্যান্সারের ঝুঁকি

পারস্পরিক যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হলো কণ্ঠস্বর। মানুষ মনের ভাব প্রকাশ করে কণ্ঠের ব্যবহারে; কিন্তু কণ্ঠস্বর ভাঙা রোগে এখনো বিশ্বের অন্তত ১০ শতাংশ মানুষ ভুগছেন। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় প্রকৃত সংখ্যার উল্লেখ না থাকলেও তা নেহাত কম নয়। চিকিৎসকরা বলছেন, যারা সারাক্ষণ কথা বলেন তারা সবচেয়ে বেশি কণ্ঠ রোগে ভোগেন। শিক্ষক, গায়ক, হকার, পরিবহন শ্রমিক এবং রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা কণ্ঠ রোগের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। কণ্ঠস্বরের অযত্ন ও অসুস্থ হয়েও চিকিৎসা গ্রহণে অনীহা থাকায় রোগটি স্থায়ী হয়ে ধরা দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কণ্ঠস্বরে ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রোগ বাসা বাঁধছে।

দেশের ক্যান্সার রোগীর বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট ক্যান্সার রোগীর অন্তত ৩০ শতাংশ নাক, কান ও গলার ক্যান্সারে ভুগছেন। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ কণ্ঠস্বরের ক্যান্সারে ভুগছেন। এতসংখ্যক মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে রোগটি নিয়ে কোনো সচেতনতা নেই। এ পরিস্থিতিতে আজ মঙ্গলবার বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব কণ্ঠ দিবস’। ব্রাজিলিয়ান ভয়েস কেয়ার পেশাদারদের দ্বারা ১৯৯৯ সালে প্রথম শুরু হয়েছিল কণ্ঠ দিবস উদযাপন। পরে এটি ব্রাজিলিয়ান ভয়েস ডে বা কণ্ঠ দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০২ সালে আমেরিকান একাডেমি অব ওটোলারিঙ্গোলজিস্ট-হেড এবং নেক সার্জারি সংস্থা দিনটি উদযাপন শুরু করে। এরপর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৬ এপ্রিল দিনটি বিশ্ব কণ্ঠ দিবস হিসেবে স্বীকৃত হয়।

দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘অনুরণিত, শিক্ষিত, উদযাপন’। দিবসটি উপলক্ষে আগামী ২০ এপ্রিল রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের ইএনটি অ্যান্ড হেড-নেক সার্জারি বিভাগ একটি সেমিনারের আয়োজন করেছে। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দিবসটি উদযাপন করবে।

নাক, কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তির অবহেলায় কণ্ঠস্বর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে ভয়ের কিছু নেই। কণ্ঠস্বর ভালো রাখার কৌশল রপ্ত করে নিয়মিত চর্চা করতে হবে। প্রচুর পানি খেতে হবে। দিনে অন্তত ছয় থেকে আট গ্লাস। অতিরিক্ত চা, কফি, কোমল পানীয় গ্রহণে সাবধান হতে হবে। অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে এসবের উপাদান শরীর থেকে পানি বের করে দেয়। এতে স্বরযন্ত্রের প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা কমে যেতে পারে। এ ছাড়া স্বরযন্ত্রের আবরক ঝিল্লির ওপর অ্যালকোহল পীড়নের সৃষ্টি করে থাকে। ধূমপানের বদভ্যাসটি থেকে মুক্তি পেতে হবে। ধূমপায়ীদের মধ্যে স্বরযন্ত্রের ক্যান্সারের হার অনেক বেশি। কথা বলার সময় বুকের ডায়াফ্রামের মাংসপেশির সাহায্য নিতে হবে। ফুসফুস তার হাওয়া চালানো দিয়ে কথা তৈরিতে যেন সহায়তা করে। অন্যথায় স্বরযন্ত্রের ওপর পড়ে যায় বাড়তি চাপ। ঝাল খাবার বর্জন করতে হবে। ঝাল থেকে বেড়ে যায় পাকস্থলির অ্যাসিড। আর তা উঠে আসতে পারে খাদ্যনালি বেয়ে, যাকে বলা হয় রিফ্লাক্স। ঘরের ভেতর আর্দ্রতা যেন ত্রিশ শতাংশের মতো থাকে, দরকার হলে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা উচিত। কণ্ঠস্বরের ওপর জোর খাটানো যাবে না। গলা খারাপ থাকলে কথা বলা ও গান না করা ভালো। ঘাড়ে রিসিভার নিয়ে দীর্ঘ সময় কথা না বলা ভালো। নিয়মিত ব্যায়াম অভ্যাস করতে হবে। বিশ্রাম নিতে হবে যথেষ্ট। শারীরিক ক্লান্তি কণ্ঠস্বরের ওপর মন্দ প্রভাব বিস্তার করে।

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক জরিপে দেখা যায়, যেসব শিক্ষক সারাক্ষণ কথা বলেন, তাদের ১১ শতাংশ কণ্ঠ সমস্যায় ভুগছেন। অন্য পেশার ক্ষেত্রে এটি ৬ দশমিক ২ শতাংশ। আরেকটি জরিপ থেকে জানা যায়, ২০ শতাংশ শিক্ষক তাদের চাকরি হারিয়েছেন কণ্ঠ সমস্যার জন্য, যেখানে অন্য পেশাজীবীদের এ হার ৪ শতাংশ। দেশে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য ও গবেষণা নেই। তবে বিভিন্ন মডেল সার্ভের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশের তিন কোটিরও বেশি মানুষ কণ্ঠের নানা সমস্যায় ভুগছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন স্বরভঙ্গে। এ ছাড়া দেশের ক্যান্সার আক্রান্তদের প্রায় ৩০ শতাংশই নাক, কান ও গলার ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাদের এক-তৃতীয়াংশ শুধু গলার ক্যান্সারে ভুগছেন।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের ইএনটি অ্যান্ড হেড-নেক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ লিটু কালবেলাকে বলেন, বেশিরভাগ মানুষই কণ্ঠস্বর সম্পর্কে সচেতন নন। কণ্ঠস্বর সমস্যা নিয়ে অবহেলা বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। দেখা দিতে পারে ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগ।

তিনি বলেন, কণ্ঠের যত্নে আরও মনোযোগী হতে হবে। গলার স্বর ফ্যাসফেসে হয়ে গেলে, বিশেষ কোনো উঁচু স্কেলে গান গাইতে কষ্ট হলে, হঠাৎ করে স্বর বসে গেলে, গলা ব্যথা করলে বা কথা বলতে কষ্ট হলে, বারবার গলা পরিষ্কার করার প্রয়োজন হলে বুঝতে হবে, ভালো নেই কণ্ঠ স্বাস্থ্য। কণ্ঠস্বর আক্রান্ত হলে অবহেলায় ক্যান্সার পর্যন্ত হয়। তাই অবহেলা না করে আক্রান্ত হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১১ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলন স্থগিত 

শিপিং করপোরেশনকে লাভজনক প্রতিষ্ঠান থাকতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা 

ঢাকার তিন জায়গায় সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের অবরোধ, তীব্র যানজট

জামায়াত প্রার্থীর সভায় আ.লীগ নেতার বক্তব্য

রাফসান-জেফারের বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে

স্বর্ণের দামে নতুন ইতিহাস, রেকর্ড গড়েছে রুপাও

ক্ষমা চাইলেন সিমিওনে

বিস্ফোরক মামলায় আ.লীগ নেতা মশিউর গ্রেপ্তার

বিইউএফটি ন্যাশনাল ক্যারিয়ার ফেস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিত

রায়েরবাজারে অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের ৯ সদস্য আটক

১০

নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কূটনীতিকদের যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা 

১১

বলিউড থেকে বিদায় নেবেন আনুশকা শর্মা!

১২

ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেল বিএনপি নেতার

১৩

সায়েন্সল্যাব অবরোধ

১৪

সাকিবকে নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা

১৫

অভিমানে ফাঁস নিলেন আসিফ‎

১৬

বিজিবির ইতিহাসে রেকর্ড ৩ হাজার নবীন সদস্যের শপথ 

১৭

নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল

১৮

যেভাবে টানা ৪ দিনের ছুটি মিলতে পারে

১৯

ফার্মগেট ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ শিক্ষার্থীদের

২০
X