মিঠু দাস জয়, সিলেট
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৪, ০২:৩৮ এএম
আপডেট : ২২ জুন ২০২৪, ০৭:৪৮ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

কেউ খবর রাখেনি প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরের বাসিন্দাদের

সিলেটে বন্যা
কেউ খবর রাখেনি প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরের বাসিন্দাদের

কষ্টে আছেন সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া উপহারের ঘরের বাসিন্দারা। অনাহারে দিনযাপন করছেন তারা। ঘরে খাবার নেই। নেই বিশুদ্ধ খাবার পানি। পাকা ঘর উপহার পেলেও পানির তোড়ে ভেঙে গেছে। ঝড়ে নিয়ে গেছে টিন। চাল পর্যন্ত ছুঁইছুঁই পানি। পানি জমে নষ্ট হয়ে গেছে ঘরের সবকিছু। এখন খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন তারা। কিন্তু সে খবর নেই কারও কাছে। কেউ তাদের খবর রাখেনি বলে আক্ষেপ জানালেন মুজিবনগর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিকাংশ বাসিন্দা।

রাখাল বিশ্বাস নামে একজন কালবেলাকে বলেন, ‘খুব কষ্টে আছি। খাবার পানি, খাবার আর থাকার জায়গা—কোনোটিই নেই। সব ভাঙছে। আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখি সেখানেও জায়গা নেই। আরেক জনের ভাঙা ঘরে উঠে কোনোরকম জীবন রক্ষা করছি। কী করব বুঝতেছি না।’

আলি আকবর বলেন, ‘কাথা-কম্বল, থালাবাসন কিছুই নেই। সব ভেসে গেছে। কোথায় রান্না করব আর কি-ই বা খাব? এখন পর্যন্ত কোনো সাহায্যও তো পাইনি।

নজরুল ইসলাম জানান, এই মুজিবনগর যখন তৈরি হয় তখনই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলেছিলাম যে এ রকম থাকলে স্বাভাবিক পানিতেই তলিয়ে যাবে। তিনি তখন বলেছিলেন, পানি এলে দেখা যাবে। আসলে এই প্রকল্প সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত। এখানে থাকার পরিবেশ নেই। বন্যা তো দূর স্বাভাবিক পানিতে সব তলিয়ে যায়।

ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, মৎস্য খামার, গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও হাটবাজার। এ ছাড়া গবাদি পশু-পাখি ভেসে গেছে। ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত থাকলেও তা অপ্রতুল। নেই কোনো গো-খাদ্য। পানিতে ভেসে গেছে মাছ ও মাছের পোনা। ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থাও।

তিন দিন পানিবন্দি থাকার পর এখনো অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে যাননি ঘরবাড়ি ও আসবাবের মায়ায়। অনেকে আবার আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি এবং ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন।

গত বুধবার সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান। উপজেলার তেলিখাল উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়াদের মধ্যে এই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। এর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, আলু, লবণ, মরিচসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ছয়টি ইউনিয়নের ১১৩টি গ্রামের ৯৫ হাজার ৫০০ জন বন্যাকবলিত। কিন্তু আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন ৭ হাজার ৩০৩ জন। উপজেলার কেবল একটি মহাসড়ক বাদে বাকি সব সড়ক পানির নিচে। প্রত্যন্ত এলাকার লোকজন নৌকা ছাড়া বের হতে পারছেন না। দুর্গত এলাকায় এ পর্যন্ত ৭১ মেট্রিক টন চাল, লাখ ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। যদিও বন্যার্তদের অভিযোগ প্রয়োজনের তুলনায় ত্রাণের পরিমাণ অপ্রতুল।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গাবতলীতে অবৈধভাবে রাখা বাস-স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ডিএনসিসি

বদলে গেল ৪ কলেজের নাম, প্রজ্ঞাপন জারি

শিশুর কোলে গন্ধগোকুল, পেছনে সজারু: ভাইরাল ভিডিওর আসল ঘটনা

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো ৫৬ ফুটের বেলিন তিমি

এক ইলিশের দাম ৯ হাজার টাকা

যে কারণে বাতিল হলো কেটি পেরির বহুল প্রতীক্ষিত কনসার্ট

চট্টগ্রামে ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের ক্যাম্পাস চালুর উদ্যোগ

বাড়িতে আমার চেয়েও মেসির গুরুত্ব বেশি: অস্কারজয়ী হলিউড তারকা

ভোটার হতে এসে রোহিঙ্গা যুবক আটক

জীবিকার তাগিদে গিয়েছিলেন ক্ষেতে, হঠাৎ বজ্রপাতে হারালেন প্রাণ

১০

সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে অভিযানে পরিত্যক্ত বাস সরাল ডিএসসিসি

১১

আল-আরাফাহ্ ব্যাংকের বিসিএমডি প্রধান হিসেবে মাসুম মিজানের যোগদান

১২

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর জর্ডানের অনন্য নজির

১৩

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক

১৪

ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে প্রান্তিক কৃষকদের সাক্ষাৎ, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

১৫

ফ্রাঙ্কফুর্টে অনুষ্ঠিত ‘ইউরোবাইক’-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ

১৬

ইরানের মধ্যে ‘নতুন শক্তি’ তৈরি হয়েছে: সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

১৭

স্বাস্থ্য বাজেটে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ, বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ

১৮

ব্যক্তিগত ও দলীয় বিতর্কের মঞ্চে পরিণত হয়েছে সংসদ : গাজী আতাউর

১৯

সাড়ে ৬ ঘণ্টা পর তিন রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

২০
X