নিপু রানী দাস, বেতাগী (বরগুনা)
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৪, ০৩:৪৩ এএম
আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৪, ০৮:১৯ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
স্বজনের কান্না

বাবাকে খুঁজছে ৭ বছরের সাইমুনের দুটি চোখ

ধানমন্ডিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান টিটু
বাবাকে খুঁজছে ৭ বছরের সাইমুনের দুটি চোখ

শিশুটি জানে না তার প্রিয় বাবা চলে গেছে অজানা এক দেশে, অচেনা গন্তব্যে। বাবা আর কখনো ফিরবে না। সাত বছর বয়েসী সাইমুন বাবা বাবা বলে ডাকছে, বাবাকে না পেয়ে কাঁদছে। তার কান্নায় কাঁদছেন প্রতিবেশীরাও। শিশুটির বাবা প্রাইভেটকার চালক টিটু হাওলাদার। ঢাকার ধানমন্ডিতে কাজে বের হওয়ার সময় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।

আর্থিক অনটনের সংসার টিটু হাওলাদারের। স্বামী হারিয়ে স্ত্রী আয়েশা বেগম তিন শিশুসন্তান নিয়ে এখন দিশেহারা। বড় মেয়ে তানজিলার বয়স ১০, ছেলে সাইমুনের সাত ও ছোট মেয়ে তামান্নার বয়স মাত্র চার মাস। এখন কে দেখবে এই শিশুগুলোকে!

টিটু হাওলাদার বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ হোসনাবাদ গ্রামের আব্দুর রহিম হাওলাদারের ছেলে। মা রাশেদা বেগম সাপের কামড়ে মারা যান চার বছর আগে। টিটু হাওলাদার ঢাকার ধানমন্ডির গ্রিন লাইফ হাসপাতালের চিকিৎসক সাখাওয়াৎ আলমের প্রাইভেটকার চালাতেন। তার স্ত্রী আয়েশা বেগম জানান, কয়েকদিন আগে ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন। ছুটি শেষে গত ১১ জুলাই কর্মস্থল ঢাকায় যান। এরই মধ্যে ১৯ জুলাই বিকেলে ফোন করে তাদের এক নিকটাত্মীয় জানান, তোমার স্বামীর গায়ে গুলি লেগেছে, মাথায় গুলি লেগে মগজ বের হয়ে গেছে। সে এখন ধানমন্ডির গ্রিন লাইফ হাসপাতালে আছে। আয়েশা বলেন, ‘আমার স্বামী একজন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। তিনি তো কোনো আন্দোলন করেননি। তাকে কেন জীবন দিতে হলো।’

পরদিন ২০ জুলাই রাতে টিটু হাওলাদারের ফুফাতো ভাই মো. রাকিব লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসেন। ওইদিন রাতেই জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। আয়েশা বেগম বলেন, ‘ছেলেমেয়েরা বাবা বাবা বলে হয়রান হচ্ছে। ছেলে সাইমুন বাবার জন্য পাগল ছিল। ওকে কিছুতেই থামাতে পারছি না। শুধু তার বাবাকেই খুঁজছে। কয়েকদিন ধরে খাবার ও বুকের দুধও খাচ্ছে না। আমি অবুঝ সন্তানদের কী বুঝ দেব? খাওয়ার মতো ঘরে বাজার নেই। ঢাকায় যাওয়ার সময় আমাকে খালি হাতে রেখে গেছেন তিনি। বাচ্চাদের কীভাবে এখন বড় করব, আর বুঝে উঠতে পারছি না।’

বৃদ্ধ বাবা আব্দুর রহিম হাওলাদারকে দেখা গেল সন্তানের কবরের পাশে বিলাপ করছেন। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। সম্বিত ফিরলেই বলছেন, ‘এবার আমার ছেলে ঢাকায় যাওয়ার সময় বলেছিল, বাবা ওদের দেখে রেখ। এই ছিল আমার ভাগ্যে? আমার বুকের মানিক ছেলেকে পক্কির (পাখির) মতো গুলি করা হয়েছে। আমি আর অ্যাহন বেঁচে থেকে কী লাভ। তার অনেক স্বপ্ন ছিল, তা ভাইঙ্গা চুরমার।’

টিটু হাওলাদারের ফুফাতো ভাই রাকিব বলেন, ‘বাড়িতে লাশ নিয়ে আসার মতো টাকাও ছিল না। আমি একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করি। ঢাকা থেকে লাশ বাড়িতে পৌঁছতে ৪৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে আমি ২৭ হাজার টাকা দিয়েছি আর ভাইয়ের (টিটু হাওলাদার) শ্যালক হাসান ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন।’

বেতাগী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান খান বলেন, ‘আমি ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম। পরিবারটি খুবই অসহায়। আমার সাধ্যমতো আমি তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব। তবে সরকারিভাবে অসহায় এ পরিবারটির দায়িত্ব নেওয়া হলে টিটুর স্ত্রী ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে বেঁচে থাকার পথ খুঁজে পাবেন।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আজ টানা ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

যেসব কারণে অফিসে ব্যক্তিগত কথা বলবেন না

সোমবার রাজধানীতে যেসব মার্কেট বন্ধ

ধানের শীষকে বিজয়ী করে ষড়যন্ত্রকারীদের জবাব দেব : নজরুল ইসলাম

সফল দিনের শুরু করতে যেসব কাজ করবেন না

এক্সিকিউটিভ পদে নিয়োগ দিচ্ছে রূপায়ন গ্রুপ

২৬ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমানের জন্য ভোটের প্রচারণায় ডা. বিটু 

ভালুকায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

আরাও এক আসন থেকে সরে দাঁড়ালেন জামায়াত প্রার্থী

১০

গভীর রাতে বিসিবি সভাপতি বুলবুলের দেশ ছাড়ার গুঞ্জন!

১১

ডাকসু নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য : দুঃখ প্রকাশ সেই জামায়াত নেতার

১২

আর্সেনালকে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগ জমিয়ে তুলল ম্যানইউ

১৩

তৌহিদ হোসেন ও ইসহাক দারের ফোনালাপ

১৪

ইয়ামালের অসাধারণ গোলে আবারও লা লিগার শীর্ষে বার্সা

১৫

ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে, দাবি তার ভাইয়ের

১৬

কিশোরদের কানে ধরে ওঠবস বিতর্ক, ব্যাখ্যা দিলেন ডাকসুর সর্বমিত্র

১৭

বাগেরহাটের ডিসি-এসপিকে ফোন করে হুমকি

১৮

বিএনপির জনসভার ১৮টি মাইক, ৫ কয়েল তার চুরি

১৯

দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বিএনপির রাজনীতি : রিজভী

২০
X