

অফিসে কাজের ফাঁকে সহকর্মীদের সঙ্গে হালকা কথাবার্তা হলে কাজের চাপ কিছুটা কমে। সারাদিন ডেডলাইন, মিটিং আর কাজের দায়িত্বের ভিড়ে এই ছোট আড্ডা অনেকের জন্য স্বস্তির। কিন্তু আড্ডার মধ্যেই কখন যে ব্যক্তিগত জীবনের কথা ঢুকে পড়ে, তা অনেক সময় বোঝা যায় না।
অফিসের মতো ফর্মাল পরিবেশে ব্যক্তিগত বিষয় কতটা বলা উচিত, সেই সীমারেখা না জানলে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। এ বিষয়ে কিছু বাস্তব পরামর্শ দিয়েছে দ্য ব্যালেন্স ক্যারিয়ার।
১. পারিবারিক সমস্যা, স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া, শ্বশুরবাড়ির অশান্তি এসব বিষয় সহকর্মীদের সঙ্গে শেয়ার করা ঠিক নয়। এতে সহকর্মীদের চোখে আপনার প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।
২. অফিসে বসে জোরে জোরে ফোনে কথা বলা বা রেগে গিয়ে ফোনে ঝগড়া করা অন্যদের বিরক্ত করে। এতে আপনার পেশাদার ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৩. ব্যক্তিগত কথা যত বেশি ছড়ায়, ততই ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ বাড়ে। অনেক সময় মানুষ আপনার কথা নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করে নেয়, যা আপনার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
৪. ব্যক্তিগত আলোচনা বাড়তে থাকলে তা কাজের পরিবেশে প্রভাব ফেলে। কাজের মনোযোগ নষ্ট হয় এবং ধীরে ধীরে এর প্রভাব আপনার কর্মদক্ষতা ও ক্যারিয়ারে পড়তে পারে।
৫. অতিরিক্ত পরচর্চার অভ্যাস থাকলে সহকর্মীরা আড়ালে আপনাকে নিয়ে সমালোচনা করতে পারে। এতে অফিসে আপনার গ্রহণযোগ্যতা কমে যেতে পারে।
অফিসে সহকর্মীদের সঙ্গে যেসব বিষয় আলোচনা না করাই নিরাপদ
- নিজের বা অন্যের ধর্ম নিয়ে মন্তব্য বা সমালোচনা
- রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে তর্ক
- যৌন জীবন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা
- সবসময় নিজের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা বা উচ্চাকাঙ্ক্ষা জাহির করা
- ব্যক্তিগত ও গোপন স্বাস্থ্যগত সমস্যা নিয়ে কথা বলা
তাহলে কি অফিসে একেবারেই ব্যক্তিগত কথা বলা যাবে না
অফিসে আমরা দিনের বড় একটি সময় সহকর্মীদের সঙ্গে কাটাই। দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করতে করতে কারও কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠা স্বাভাবিক। তবে সেই বন্ধুত্ব সাধারণত দু-একজনের মধ্যেই সীমিত থাকে। যাদের আপনি সহকর্মীর পাশাপাশি বন্ধু মনে করেন, তাদের সঙ্গে সীমিত পরিসরে ব্যক্তিগত কথা বলা যেতে পারে।
কিন্তু মনে রাখতে হবে, অফিসের সবাই আপনার ঘনিষ্ঠ মানুষ নয়। তাই সবার সঙ্গে সব কথা শেয়ার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
অফিসে হালকা আড্ডা কাজের চাপ কমাতে সাহায্য করে, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের কথা সেখানে সীমিত রাখাই ভালো। পেশাদার পরিবেশে নিজের ভাবমূর্তি ও কাজের স্বার্থে সচেতন থাকা জরুরি। প্রয়োজন বুঝে, মানুষ চিনে কথা বললে অফিসের সম্পর্ক যেমন ভালো থাকবে, তেমনি আপনার ক্যারিয়ারও নিরাপদ থাকবে।
মন্তব্য করুন