টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৫, ১০:২১ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

‘স্বামীকে জীবিত ফেরত দেবে বলেছিল, সকালে পেলাম লাশ’

টেকনাফে সেতুর নিচে বিএনপি নেতার লাশ
‘স্বামীকে জীবিত ফেরত দেবে বলেছিল, সকালে পেলাম লাশ’

কক্সবাজারের টেকনাফে একটি সেতুর নিচ থেকে মোহাম্মদ ইউনুস সিকদার (৪৫) নামে এক সাবেক ইউপি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছেন। পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে ইউনুস সিকদারের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। টাকার লেনদেনের বিরোধে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নিহত ইউনুস সিকদার টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য (মেম্বার) এবং বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদ টেকনাফ উপজেলা শাখার সভাপতি ছিলেন। তিনি মঙ্গলবার রাতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের বাড়িতে আমন্ত্রণে গিয়েছিলেন বলে পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন। ইউনুস সিকদার বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এবং এলাকায় বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

পরিবারের দাবি, আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদ টেকনাফ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আলম শফুর মিয়ার বাড়িতে আমন্ত্রণ জানিয়ে আটকে রাখা হয় ইউনুসকে। এরপর ৭০ লাখ টাকা দাবি করে তারা। পরে সকালে ইউনুসকে বাড়ি ফেরত পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও, ব্রিজের নিচে ভাসমান অবস্থায় মেলে লাশ।

পুলিশ জানায়, পানি থেকে উদ্ধারের সময় নিহত ইউনুস সিকদারের পরনে শুধু পায়জামা পরা ছিল। শরীরের ওপরের অংশে কাপড় ছিল না।

জানা গেছে, সকাল ৮টার দিকে হ্নীলা ইউনিয়নের রঙিখালী এলাকার ‘আনোয়ার প্রজেক্ট’ সংলগ্ন প্রধান সড়কের একটি সেতুর নিচে পানিতে ইউনুস সিকদারের লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয়। মরদেহটি ছড়ার পানিতে পড়ে ছিল। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। রঙিখালী এলাকাটি মাদক বেচাবিক্রি এবং ডাকাত-সন্ত্রাসীদের আস্তানা হিসেবে পরিচিত। নিহত ইউনুস সাবরাং ইউনিয়নের চান্দলী পাড়া এলাকার মোহাম্মদ কাশেমের ছেলে।

রঙিখালী এলাকার এক বাসিন্দা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ইয়াবা বিক্রির ৯০ লাখ টাকার লেনদেন নিয়ে ইউনুস সিকদারের সঙ্গে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরোধ চলছিল। টাকার জন্য রাতে ইউনুস সিকদার সাবরাং এলাকা থেকে রঙিখালীতে গিয়েছিলেন। এরপরই তাকে হত্যার ঘটনা ঘটে।’

তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে নিহত ইউনুসের স্ত্রী কহিনুর আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামীকে দাওয়াতের কথা বলে ডেকে নিয়ে গিয়ে একপর্যায়ে আলমের লোকজন তাকে আটকে রেখে মুক্তিপণ হিসেবে ৭০ লাখ টাকা চায়। আমরা সেখানে যেতে চাইলে পরে আলম মোবাইল ফোনে কল করে আশ্বস্ত করে বলে, “আপনাকে কষ্ট করে আসতে হবে না, আমাদের মধ্যে সব ঠিক হয়ে গেছে। আমি সকালে পাঠিয়ে দিব”। তারা সকালে আমার স্বামীকে জীবিত ফেরত দেবে বলেছিল, কিন্তু সকালে পেলাম শুধু লাশ। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।’

এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত উল্লেখ করে টেকনাফ পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সালাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কোকো ক্রীড়া সংসদের সভাপতি ইউনুস সিকদারকে মঙ্গলবার রাতে কমিটির বিষয়ে কথা হবে বলে রঙিখালীর শফুর মিয়ার বাড়িতে ডাকা হয়। সেখানে তাকে হত্যা করে মরদেহ ব্রিজের নিচে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকেই শফুর মিয়া পলাতক। শুনেছি তাকে (ইউনুস) ছেড়ে দেওয়ার জন্য ৭০ লাখ টাকাও দাবি করেছিল।’

নিহতের বড় ছেলে মোহাম্মদ ফারদিন সাংবাকিদের বলেন, ‘বাড়িতে আমন্ত্রণ জানিয়ে বাবাকে আটকে রাখা হয়। এরপর ৭০ লাখ টাকা দাবি করে তারা। পরে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মো. আলম শফুরের বাড়িতে গেলে তাদের লোকজন গোলাগুলি শুরু করলে পুলিশ চলে আসে। এর পর আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে চলে আসি। সকালে বাবার লাশ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরও লোকজন জড়িত রয়েছে। আমরা হত্যার সঙ্গে জড়িত সবার বিচার দাবি করছি।’

টেকনাফ পৌর যুবদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন কালবেলাকে বলেন, ‘কোকো ক্রীড়া সংসদের সভাপতি ইউনুস সিকদারকে সেক্রেটারি মো. আলম দাওয়াত দিয়ে তার বাসায় কমিটির ব্যপারে আলাপ করতে নিয়ে যায়, সেই আলাপ শেষ করে আর বাড়ি ফেরা হলো না। সকালে তাকে মৃত অবস্থায় ব্রিজের নিচে পাওয়া যায়। অনেকে দাবি করছেন, এই হত্যাকাণ্ডে আলম জড়িত।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ মডেল থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টাকার লেনদেন নিয়ে ইউনুস সিকদারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং এর নেপথ্যে থাকা লোকজনকে শনাক্তের কাজ চলছে।’

পুলিশের তৈরি করা সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহত ইউনুসের মাথায় ভারি কিছু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১১টায় রায় ঘোষণা, রামিসাকে ন্যায়বিচার পাওয়াতে উন্মুখ পুরো জাতি 

ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ধনকুবের

ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজ ধসে জনদুর্ভোগ চরমে

ধান কাটতে বলায় গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে হত্যা

মেট্রোরেল নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, আজ থেকেই কার্যকর

বিসিবিতে আজ আমেজহীন আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার নির্বাচন

শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ মামলা: ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন আজ

রাশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জব্দ ইরানি অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত মিত্র দেশগুলোকে দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

তরুণীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

১০

আলোচিত মামলার রায় শোনার অপেক্ষায় জাতি, আদালতে সোহেল-স্বপ্না

১১

মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর গোয়েন্দাগিরি করছে ইসরায়েল, কারণ ইরান

১২

মার্টিনেস ও সিমেওনের গোলে হন্ডুরাসকে হারাল আর্জেন্টিনা

১৩

আবারও এন্দ্রিকের শো, আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিলের তিনে তিন

১৪

দীর্ঘ ছুটি শেষ / খুলেছে স্কুল-কলেজ, এখনো বন্ধ অনেক প্রতিষ্ঠান

১৫

চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে ২ পা বিচ্ছিন্ন হওয়া সেই যুবকের মৃত্যু

১৬

মিসরকে হারিয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শেষ করলো ব্রাজিল

১৭

দেশের ১৭ অঞ্চলে ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরেও সতর্কতা

১৮

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে রহস্যজনক তাপ, উৎস খুঁজছে পুলিশ-ফায়ার সার্ভিস

১৯

আন্তর্জাতিক রোবটিক্স অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদক পেলেন বাংলাদেশের প্রিয়ন্ত

২০
X