চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

এনসিটি ইস্যুতে বদলি আরও ৭ কর্মচারী, আজও কর্মবিরতি

চট্টগ্রাম বন্দর
ছবি : কালবেলা
ছবি : কালবেলা

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও সাত কর্মচারীকে ঢাকায় বদলি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে দুদিনে মোট ১১ কর্মচারীকে বদলি করা হলো। এদিকে এনসিটি ইজারার সিদ্ধান্ত এবং কর্মচারীদের বদলির প্রতিবাদে আজ সোমবার আবারও কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ব্যানারে কর্মবিরতি পালন করা হলেও এবার কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) বন্দর এলাকায় সব ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন নিষিদ্ধ করেছে। পাশাপাশি বন্দরের প্রবেশমুখে এবং কাস্টমস মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গতকাল রোববার চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ পারসোনেল অফিসারের সই করা এক আদেশে নতুন করে সাত কর্মচারীকে বদলি করা হয়। আদেশে বলা হয়েছে, জরুরি দাপ্তরিক ও অপারেশনাল প্রয়োজনের কারণে তাদের বদলি করা হয়েছে। বদলি হওয়া কর্মচারীদের সোমবার দুপুর ১২টার আগেই নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে।

বদলি হওয়া সাত কর্মচারীর মধ্যে চারজনকে ঢাকার কমলাপুর কনটেইনার ডিপোতে এবং তিনজনকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও নৌ টার্মিনালে পদায়ন করা হয়েছে। তারা হলেন পরিবহন বিভাগের উচ্চ বহিঃসহকারী মোহাম্মদ শফি উদ্দিন ও রাশিদুল ইসলাম, পরিকল্পনা বিভাগের স্টেনো টাইপিস্ট মো. জহিরুল ইসলাম, বিদ্যুৎ বিভাগের এসএস পেইন্টার হুমায়ুন কবির, প্রশাসন বিভাগের উচ্চমান সহকারী মো. শাকিল রায়হান, যান্ত্রিক বিভাগের ইসিএম ড্রাইভার মানিক মিঝি এবং প্রকৌশল বিভাগের মেসন মো. শামসু মিয়া।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে একের পর এক কর্মচারীকে বদলি করা হচ্ছে। আজ (রোববার) সাতজনকে বদলি করা হয়েছে। ইজারা প্রক্রিয়া বাতিল ও বদলির আদেশ প্রত্যাহার না করা হলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে। আগামীকালও (সোমবার) কর্মবিরতি চলবে।’

এর আগে গতকাল রোববার শ্রমিক ও কর্মচারীদের দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতির কারণে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। বিকেল ৪টার পর বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়।

পোর্ট ও শিপিং সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আন্দোলনে জড়িত অভিযোগে প্রায় ১৮০ শ্রমিক-কর্মচারীর একটি তালিকা তৈরি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। শনিবার এ তালিকা চূড়ান্ত করা হয় বলে জানা গেছে। তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। এরই মধ্যে তালিকায় থাকা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চার নেতাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএর সাবেক সেক্রেটারি ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, ‘১৮০ জনের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এসব তালিকাকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না। খুব শিগগির নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলে বিষয়টি আইনানুগভাবে নিষ্পত্তি হবে।’

চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা চুক্তির মাধ্যমে বিনা দরপত্রে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, সাবেক বন্দর সিবিএ নেতারা এবং জাতীয় শ্রমিক জোটভুক্ত শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে আসছে।

শনিবার শ্রমিকরা প্রথম দিনের কর্মবিরতি পালনের পর রাতে বন্দর এলাকায় সব ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। এতে বলা হয়, ১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত ৩০ দিনের জন্য বন্দর এলাকায় সব ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

এর আগে শ্রমিক ও কর্মচারীদের কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়ে স্কপ চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি দিলেও পুলিশের নিষেধাজ্ঞার কারণে পরে তা স্থগিত করা হয়।

এ বিষয়ে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) নেতা ইফতেখার কামাল খান বলেন, ‘কালো পতাকা মিছিলের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত রাতে সিএমপি মিছিল-মিটিংয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। এজন্য কোনো ধরনের কর্মসূচি পালন না করতে অনুরোধ করা হয়। আমরা আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করেছি।’

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। এর সঙ্গে মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। বন্দর রক্ষা করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও কম নয়। শ্রমিক দলের ডাকা কর্মসূচি থেকে মিছিল-সমাবেশসহ যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মঘট বানচালে দমন-পীড়ন চালাচ্ছে বলে শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ মিথ্যা। বন্দর রক্ষায় পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছে।

তবে শ্রমিক নেতারা পুলিশের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘শ্রমিক-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতি পালন করছেন। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ধর্মঘট ঠেকাতে হয়রানি শুরু করেছে। পুলিশও দমন-পীড়নের আশ্রয় নিয়েছে। হয়রানি বন্ধ না করলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাব।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আসছে শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা নামতে পারে ৮ ডিগ্রিতে

সংকট ও সৃজনশীলতা : গাজার তরুণদের বেঁচে থাকার লড়াই

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী

অনার্স ভর্তি আবেদনের সময় বাড়াল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

সেনাবাহিনীর অভিযানে দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক

ভারত ম্যাচ বয়কটে কী শাস্তি পেতে পারে পাকিস্তান 

নাগরিকত্ব আইনে পরিবর্তন আনছে ইতালি

ফেব্রুয়ারিতে এলপি গ্যাসের দাম বাড়বে না কমবে, জানা যাবে আজ

৫৪ বছর পর সংসদ নির্বাচনে ২ নারী প্রার্থী

ব্যাংক এশিয়ায় চাকরি, আবেদনে নেই বয়সসীমা

১০

আজ খুলনা-যশোরে যাচ্ছেন তারেক রহমান

১১

আগুনে পুড়ল বিদ্যালয়

১২

শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও অর্থ পরিশোধে নতুন নির্দেশনা

১৩

সুইজারল্যান্ডে বারে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ৪১

১৪

নির্বাচিত হলে ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে বিএনপি : আমীর খসরু

১৫

হরমুজ প্রণালিতে মহড়া নিয়ে নতুন তথ্য দিল ইরান

১৬

সকাল থেকে ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় 

১৭

ঢাকার শীত নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা

১৮

সীমান্তে বিজিবির ওপর হামলা

১৯

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন হলে যেসব নম্বরে অভিযোগ

২০
X