শেখ হারুন
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৪, ০২:৪৩ এএম
আপডেট : ২২ মে ২০২৪, ০৮:১০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় বেড়েছে বেশি চাপ গ্রামে

বিবিএসের প্রতিবেদন
স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় বেড়েছে বেশি চাপ গ্রামে

দেশে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা বিরাজমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় প্রভাবক হয়ে উঠেছে। বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতের মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে বেশি। চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও এই খাতের ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষকে নিঃস্ব হতে হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতের এই ব্যাপক মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি গ্রামে। অর্থাৎ শহরের তুলনায় গ্রামের মানুষের এই খাতে অনেক বেশি খরচ করতে হচ্ছে।

সম্প্রতি চলতি অর্থবছরের এপ্রিল মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। মূল্যস্ফীতির সর্বশেষ প্রতিবেদনের খাতভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে। বিবিএসের হিসাবে, এপ্রিলে গড় মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশের ঘরে নামলেও ব্যাপক হারে বেড়েছে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়।

বিবিএসের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মার্চে স্বাস্থ্য খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ১৬ শতাংশ, এপ্রিলে তা এক লাফে বেড়ে হয়েছে ১৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে মূল্যস্ফীতি ১৩ দশমিক ৬৯ শতাংশের অর্থ হলো, ২০২৩ সালের এপ্রিলে যে স্বাস্থ্য পণ্য কিনতে খরচ করতে হয়েছে গড়ে ১০০ টাকায়, ২০২৪ সালের এপ্রিলে তা কিনতে হয়েছে গড়ে ১১৩ টাকা ৬৯ পয়সায়।

মূল্যস্ফীতির খাতভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, গত ফেব্রুয়ারিতেও স্বাস্থ্য খাতের মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ১৪ শতাংশ, মার্চে তা কিছুটা বেড়ে ২ দশমিক ১৬ শতাংশ হয়। কিন্তু এপ্রিলে এসে তা এক লাফে ১৩ দশমিক ৬৯ শতাংশে ঠেকেছে। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে এই খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ১১ দশমিক ৫৩ শতাংশ। খাতভিত্তিক মূল্যস্ফীতির মধ্যে কোনো খাতে স্বাস্থ্য খাতের মতো এক লাফে এত বেশি বাড়েনি।

বছরের ব্যবধানেও অনেকাংশে বেড়েছে স্বাস্থ্য খাতের মূল্যস্ফীতি। বিবিএসের হিসাবে, গত বছরের এপ্রিল মাসে স্বাস্থ্যসেবা খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ। সেই হিসেবে বছরের ব্যবধানে এই খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ৬ দশমিক ০৫ শতাংশ। যদিও গত বছরের ফ্রেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ২০ শতাংশের বেশি।

এদিকে স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি হয়েছে গ্রামে। বিবিএসের হিসাবে, চলতি অর্থবছরের এপ্রিলে গ্রামে এই খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ১৭ দশমিক ০৪ শতাংশ, যা আগের মাস মার্চে ছিল মাত্র ১ দশমিক ৩১ শতাংশ। আর ফেব্রুয়ারিতে ছিল শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে গ্রামে স্বাস্থ্য খাতের মূল্যস্ফীতি এক লাফে বেড়েছে ১৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আর বছরের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।

অন্যদিকে শহরে একই সময়ে স্বাস্থ্য খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ, যা আগের মাস মার্চে ছিল ৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ২ শতাংশ। আর বছরের ব্যবধানে কমেছে প্রায় এক শতাংশ। বিবিএসের হিসাবে, শহরে যেখানে মাসের ব্যবধানে স্বাস্থ্য খাতের মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ২ শতাংশ, সেখানে গ্রামে বেড়েছে ১৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আর বছরের ব্যবধানে যেখানে শহরে এই খাতের মূল্যস্ফীতি কমেছে প্রায় এক শতাংশ, সেখানে গ্রামে বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। অর্থাৎ শহরের তুলনায় এই খাতে গ্রামের মানুষকে অত্যধিক বেশি খরচ করতে হচ্ছে।

সহজ করে বললে, গত বছরে এপ্রিলে যে স্বাস্থ্যসেবায় শহরের মানুষের খরচ করতে হয়েছিল ১০০ টাকা, ২০২৪ সালের এপ্রিলে সেখানে খরচ হয়েছে গড়ে ১০৭ টাকা ১৪ পয়সায়। আর গ্রামের মানুষকে সেখানে খরচ করতে হয়েছে ১১৭ টাকা ৪ পয়সা। অর্থাৎ একই সেবায় গ্রামের মানুষকে ১০ টাকা বেশি খরচ করতে হয়েছে।

স্বাস্থ্যের পাশাপাশি পরিবহন খাতেও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি। বিবিএসের হিসাবে, এপ্রিল মাসে এই খাতে মূল্যস্ফীতির হার ৮ দশমিক ২৩ শতাংশ, যা আগের মাস মার্চে ছিল ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে পরিবহন খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। তবে এই খাতে গ্রামের তুলনায় শহরে মূল্যস্ফীতি বেশি হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য বিবিধ খাতেও বেড়েছে মূল্যস্ফীতি। এই খাতে মাসের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ। অন্যদিকে পোশাক, বাড়ি ভাড়া, গ্যাস, পানি , বিদ্যুৎ, বিনোদন এবং ফার্নিচার খাতের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আজ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

ট্যাগ কর্মকর্তারা অনুপস্থিত / ধার করা কর্মকর্তা দিয়েই চলছে এইচএসসি পরীক্ষা

কাদামাখা পথে কাঁধে চেপে বিয়ের আসরে বর

বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা এক সপ্তাহ পেছানোর দাবি 

ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি, ভিজে নষ্টের মুখে সরকারি দলিল

মাঝ রাতে সন্তানদের চিৎকারে ঘরে মিলল গার্মেন্টস শ্রমিকের রক্তাক্ত দেহ

কমতে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি, নেই বন্যার শঙ্কা 

সিলেট থেকে প্রায় এক লাখ ঘনফুট পাথর জব্দ

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন জ্যোতিষী

ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশুর পিতৃপরিচয় ঘোষণা, দোষীর যাবজ্জীবন

১০

বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেয়ে খুশি গরীব-দুস্থরা

১১

বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার অতিক্রম করল তিস্তার পানি, বড় বিপদের মুখে নিম্নাঞ্চল

১২

ইন্টারনেট ব্যবসায়ীকে ‘ডেভিড ইমিনের’ ফোন, দুদিন পরেই প্রতিষ্ঠানে হামলা

১৩

সেমিফাইনালের আগে মেসিকে ঘিরে উদ্বেগ

১৪

গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ককে ‘শোকজ’

১৫

ফেসবুকে প্রশাসনের সমালোচনা করায় জকসু সদস্য জাহিদকে প্রক্টর অফিসে তলব

১৬

প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো ত্রাণ বিতরণ করলেন প্রতিমন্ত্রী অমিত

১৭

বরিশালে সাংগঠনিক সভায় একাধিক নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

১৮

পরাজিত শক্তির আস্ফালন জুলাইয়ের ঐক্যকে আরও দৃঢ় করবে: মঞ্জু

১৯

দোকানে আটকে রেখে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

২০
X