

দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় পর, সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে প্রিয় মাতৃভূমির মাটিতে পা রাখলেন বাংলাদেশের আপামর জনতার নয়নমণি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান। আলহামদুলিল্লাহ! এজন্য প্রথমেই সেই মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে সিজদাবনত শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি শত প্রতিকূলতা আর শারীরিক নির্যাতনের মাঝেও আমাদের নেতাকে সুস্থ রেখেছেন এবং দেশবাসীর মাঝে ফিরিয়ে এনেছেন। সত্যি বলতে আল্লাহতায়ালা যাকে রক্ষা করেন, দুনিয়ার কোনো শক্তি তাকে দাবিয়ে রাখতে পারে না। আজ এটি প্রমাণিত যে, মহান আল্লাহতায়ালা তারেক রহমানকে হয়তো এক মহৎ উদ্দেশ্যে বাঁচিয়ে রেখেছেন আর তা হলো বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তন এবং মজলুম মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। সর্বোপরি মহান আল্লাহর সিদ্ধান্তেই তিনি বাংলাদেশ ফিরছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এ প্রত্যাবর্তন আমাদের জন্য আনন্দের, কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত সতর্ক ও ধৈর্যশীল হতে হবে। দেশের এ ক্রান্তিলগ্নে দেশি-বিদেশি নানামুখী ষড়যন্ত্র থেমে নেই। তাই আবেগের আতিশয্যে ভেসে না গিয়ে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে সুচিন্তিত। আমাদের মনে রাখতে হবে, মহান আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো বিজয়ই পূর্ণাঙ্গ নয়। আমরা মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন তারেক রহমানকে দীর্ঘায়ু দান করেন এবং দেশ ও জাতির সেবায় তাকে কবুল করেন। বিশেষ করে তারেক রহমানের মতো নেতাকে দেশের ক্রান্তিকালে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য দীর্ঘায়ু দান করেন।
একটি কথা না বললেই নয়। সেটি হলো—বাংলাদেশের কোনো মানুষ কখনোই চিন্তা করতে পারেনি যে, জালেম শেখ হাসিনার নির্মম পতন ঘটবে। কোনো গোয়েন্দা সংস্থা কল্পনাও করতে পারেনি যে, এটা ঘটবে। এ যুগান্তকারী পরিবর্তন একমাত্র মহান আল্লাহর হুকুমেই হয়েছে। এজন্য আল্লাহকে আমাদের বেশি বেশি মেনে চলতে হবে। তা না হলে সীমালঙ্ঘনকারীদের পরিণতি কী হয়, তা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আমরা দেখেছি। আবারও যদি বিএনপি আসন্ন নির্বাচনে জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসে এবং সীমালঙ্ঘন করে আমাদের অবস্থাও একইরকম হবে। তবে আমি মনে করি, বিএনপি মানেই জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান মানেই বাংলাদেশ। জিয়াউর রহমানের যে চিন্তাধারা সে মোতাবেক যদি তারেক রহমান দল ও দেশ পরিচালনা করেন বিএনপির কিছুই হবে না। কেউ কিছুই করতে পারবে না। আর তা না হলে হোঁচট খাওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। তারেক রহমান যেহেতু শহীদ জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি, তিনি পারবেন একটি সুখী-সুন্দর বাংলাদেশ উপহার দিতে।
আমি প্রায়ই একটা কথা বলি এবং বিশ্বাস করি যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সবসময়ই এ দেশের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও জাতিসত্তার মেলবন্ধনে বিশ্বাসী। আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি যদি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ। সেইসঙ্গে আমাদের আগামীর রাষ্ট্র পরিচালনার মূল স্তম্ভ হবে—ইসলামী ভাবধারার প্রতিফলন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনে ইসলামী মূল্যবোধ ও নৈতিকতার যথাযথ গুরুত্ব প্রদান সচেষ্ট হতে হবে। মহানবী (সা.)-এর প্রদর্শিত ইনসাফ বা ন্যায়ের পথে বিচার ব্যবস্থা পরিচালিত হবে, যেখানে কোনো জুলুম এবং প্রতিশোধ থাকবে না। ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—এ নীতিতে অটুট থেকে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করা হবে। দুর্নীতি ও দুঃশাসন উপড়ে ফেলে সাধারণ মানুষের জন্য একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠন করা হবে।
পরিশেষে এ কথা বলা যায় যে, তারেক রহমান আজ শুধু একটি নাম নয়, তিনি বাংলাদেশের কোটি কোটি তরুণ ও শোষিত মানুষের স্বপ্নের প্রতীক। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন মানেই গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম। আজকে প্রিয় নেতা তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমি সব নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই—আসুন, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের নেতার হাতকে শক্তিশালী করি এবং একটি সমৃদ্ধ, শান্তিময় ও ইমানি মূল্যবোধে বলীয়ান বাংলাদেশ গড়ে তুলি। আল্লাহ হাফেজ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। তারেক রহমান জিন্দাবাদ।
কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ
ভাইস চেয়ারম্যান, বিএনপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী