

গানের জগতে যাত্রাটা শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ থেকেই। সময়টা ২০১৯ সাল, হঠাৎ করেই এক বন্ধুর অনুরোধে ক্যাম্পাসে খালি গলায় তিনি গেয়ে ওঠেন দেশের জনপ্রিয় লালন ব্যান্ডের গান ‘এক চোখেতে হাসন কান্দে, আরেক চোখে লালন’। এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় গানটি ছড়িয়ে পড়লে রাতারাতি জনপ্রিয়তায় চলে আসেন লালনকন্যাখ্যাত তরুণ সংগীতশিল্পী শাহরীন সুলতানা মীম। এরপর দেশের জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো ‘বাংলার গায়েন সিজন-২’তে মীম তার মেধা-মনন দিয়ে ফাইনালিস্টে স্থান দখল করেন। আর সেখান থেকেই শুরু হয় তার নিরন্তর উত্থান। আজকের এই সাক্ষাৎকারে উঠে আসবে মীমের গান, সংগ্রাম আর ব্যক্তিজীবনের নানা অজানা গল্প। লিখেছেন তামজিদ হোসেন।
লোকসংগীত, বিশেষ করে লালনসংগীতের প্রতি আপনার আগ্রহ কীভাবে তৈরি হলো?
গান শেখার শুরুটা সারগাম থেকেই। ছোটবেলায় যা হয়, সবাই সব গানই শেখে। আমার বেলায়ও এর ব্যতিক্রম নয়। আমার নজরুলগীতির প্রতি ঝোঁক ছিল তখন। তারপর স্টেজে লোকগীতি পরিবেশন করার পর আমি নিজের মধ্যে একটা আনন্দ অনুভব করলাম। এরপর যখন লালনগীতি গাইতে শুরু করি তখন এ গানের প্রতি একটা শ্রদ্ধা, ভক্তি অনুভব করি। জীবনের অনেক সংশয়ের উত্তর খুঁজে পাই অজান্তেই। কুষ্টিয়ায় লালনসংগীত পরিবেশন করে কাঙালিনী সুফিয়া থেকে প্রশংসা কুড়াই। এরপর নিয়মিত গাইতে শুরু করি। মানুষ উপাধি দেয় লালনকন্যা।
আপনার সংগীতযাত্রার শুরুটা কেমন ছিল? কে আপনাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে?
আমার সংগীতের শুরুটা হয় পারিবারিকভাবেই। গান গাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত ছিল বাবা-মায়ের আর অনুপ্রেরণা দিয়েছে পরিবারের সবাই। আমার নিজের যে মানুষটা, সেও আমাকে গানের জন্য অনুপ্রাণিত করে এসেছে সবসময়ই।
প্রথম মঞ্চে লালনসংগীত পরিবেশন করার অভিজ্ঞতা
কেমন ছিল?
আমার সৌভাগ্য ছিল যে, আমি প্রথম লালনগীতি পরিবেশনের সুযোগ পাই কুষ্টিয়া লালন সাঁইজির মঞ্চে। সেখানেই কাঙালিনী সুফিয়া আমার মাথায় হাত বুলিয়ে আদর ও দোয়া করে বলেছিলেন, তুমি ভালো গান করো। এ অনুভূতি তখন বুঝিনি। কারণ, ছোট্ট ছিলাম। এখন বুঝি, যা ভাষায় প্রকাশ করার নয়।
গান ও ব্যক্তিগত জীবনের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করা কতটা চ্যালেঞ্জিং?
গান ও ব্যক্তিগত জীবনের মাঝে ভারসাম্য রাখাটা সত্যিই চ্যালেঞ্জিং, যদি পরিবারের মানুষগুলো সাহায্য না করে। কিন্তু আমার জন্য এ ভারসাম্য রেখে চলাটা মোটেই চ্যালেঞ্জিং নয়। কারণ, পরিবারের সবাই আমাকে বেশ সাহায্য করে এবং অনুপ্রেরণা দেয়।
আগামীতে গান নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
আমি চাই আমার নিজের কিছু গান থাকুক। মানুষ যেমন আমাকে লালনকন্যা মীম হিসেবে জানে, তেমনি জানুক এই গানটা মীমের গান। এমন কিছু গান রেখে যেতে চাই। তাই মৌলিক গান নিয়ে কাজ করছি। এ ছাড়া আগামীতে অন্য যে প্রফেশনেই থাকি না কেন, গানটা যেন আমার সঙ্গে থাকে, সেই প্রচেষ্টাও থাকবে আমার।
বেশ কিছুদিন ধরে আপনি বিরতিতে আছেন, কারণটা কী?
আসলে বিরতি নয়। ভালো কাজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছি। নিজেকে সময় দিচ্ছি এবং বোঝার চেষ্টা করছি। অচিরেই নিজের কাজগুলো সামনে আসবে ইনশাআল্লাহ।
এ বছর শ্রোতাদের জন্য কোনো চমক অপেক্ষা করছে কি আপনার থেকে?
অবশ্যই চেষ্টা আছে শ্রোতাদের ভালো কিছু উপহার দেওয়ার। আসছে ঈদেই হয়তো দুটি সুন্দর মৌলিক গান উপহার দেব আমার শ্রোতাদের।
সামনে ভালোবাসা দিবস, কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
ভালোবাসা দিবস নিয়ে আসলে আমার কোনো পরিকল্পনা কখনোই থাকে না। কারণ, সেদিন আমার জন্মদিন। আমি একটু আমাকেই সময় দিয়ে থাকি। এরপর কাজ তো করেই যাচ্ছি। দেখা যাক না কী হয়!
শুনলাম আপনি বিয়ে করেছেন?
দেখুন, বিয়েটা তো করারই বিষয়। সবাই কত কিছু করে। আমি না হয় বিয়েই করেছি। তবে বিয়েটা ঘটা করে করিনি, শুধু দুই পরিবারের মানুষের উপস্থিতিতে বিয়েটা হয়েছে।
মন্তব্য করুন