কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কিডনিতে পাথর হয়েছে কি না, বোঝার সহজ উপায়

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

কিডনিতে পাথর বা কিডনি স্টোন বর্তমানে একটি অত্যন্ত পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যা। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত পানি না পান করার কারণে দিন দিন এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে পাথরের আকার ছোট হলে তেমন কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে পাথরটি যখন কিডনি থেকে সরে মূত্রনালিতে আসে, তখন শুরু হয় অসহ্য ব্যথা ও নানা জটিলতা।

আপনার কিডনিতে পাথর হয়েছে কি না, তা বুঝতে সহায়ক কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ ও প্রাথমিক সংকেত নিচে তুলে ধরা হলো।

১. পিঠের নিচে বা কোমরে তীব্র ব্যথা

কিডনি স্টোনের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো পিঠের দু’পাশে, পাঁজরের নিচে বা তলপেটে হঠাৎ করে শুরু হওয়া তীব্র ব্যথা। অনেক সময় এই ব্যথা কোমর থেকে কুঁচকির দিকেও ছড়িয়ে পড়ে। ব্যথার মাত্রা কখনো বাড়ে, কখনো কমে—যা রোগীর জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।

২. প্রস্রাবের রঙ ও গন্ধে পরিবর্তন

প্রস্রাবের রঙ যদি লালচে, বাদামি বা ঘোলাটে হয়ে যায়, তাহলে তা কিডনিতে পাথরের ইঙ্গিত হতে পারে। পাথরের ঘর্ষণে মূত্রনালিতে ক্ষত সৃষ্টি হয়ে রক্তপাত হতে পারে। পাশাপাশি প্রস্রাবে দুর্গন্ধ থাকাও একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

৩. বারবার প্রস্রাবের চাপ ও জ্বালাপোড়া

পাথর মূত্রনালির কাছে চলে এলে ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ অনুভূত হয়। প্রস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া বা তীব্র ব্যথা (ডিসইউরিয়া) হওয়াও কিডনি স্টোনের একটি সাধারণ লক্ষণ।

৪. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া

কিডনি ও পাকস্থলির স্নায়ুর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। কিডনিতে পাথরের কারণে চাপ সৃষ্টি হলে অনেক সময় বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে। এটি শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

৫. জ্বর ও কাঁপুনি দিয়ে শরীর গরম হওয়া

ব্যথার সঙ্গে যদি জ্বর আসে এবং শরীর কাঁপতে থাকে, তবে বুঝতে হবে কিডনিতে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এটি একটি জরুরি অবস্থা এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।

পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে কী করবেন?

বেশি বেশি পানি পান করুন: বেশি বেশি পানি পান করুন, যাতে প্রস্রাব পরিষ্কার থাকে এবং পাথর জমার ঝুঁকি কমে।

লবণ ও অক্সালেটজাত খাবার নিয়ন্ত্রণে রাখুন : অতিরিক্ত লবণ, পালং শাক, বিট, চকোলেট ইত্যাদি বেশি পরিমাণে খাওয়া এড়িয়ে চলুন।

লেবুর রস উপকারী : প্রতিদিন লেবু-জল পান করলে এতে থাকা সাইট্রেট কিডনিতে পাথর জমতে বাধা দেয়।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

যদি ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে সোজা হয়ে বসতে পারছেন না, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত বের হয় বা প্রস্রাব পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়—তবে এক মুহূর্তও দেরি না করে ইউরোলজিস্টের শরণাপন্ন হোন।

আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG) বা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে সহজেই কিডনিতে পাথরের উপস্থিতি ও অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব। সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসাই কিডনি স্টোনের জটিলতা থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৭

মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলা

পঞ্চগড়ে মরহুম ইয়াছিন আলীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিপুন রায়ের

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন / সাইফুল হকের সঙ্গে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মতবিনিময়

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কমিউনিটি ব্যাংকের টিডিএফ উদ্যোক্তাদের রিফাইন্যান্সিং সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর

প্রার্থীকে বললেন নির্বাচন কমিশনার / ‘ব্যাংকের টাকাটা দিয়ে দিয়েন, না দিলে জনরোষ তৈরি হবে’

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৪ শতাধিক, মোট বৈধ প্রার্থী দাঁড়াল যত

জবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করল ছাত্রদল

তসলিমা নাসরিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা

১০

তারেক রহমানের সঙ্গে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের নেতাদের সাক্ষাৎ

১১

২১ জানুয়ারির মধ্যেই ঠিক হবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভাগ্য

১২

এশিয়ান টিভির ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

১৩

সুষ্ঠু নির্বাচন এবং গণতন্ত্র পুনর্গঠনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম

১৪

নাহিদ ইসলাম ও নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারীর শোকজের জবাব দিল এনসিপি

১৫

তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত চট্টগ্রাম : নোমান

১৬

৩৭ বছর পর নিউজিল্যান্ডের ‘ভারত’ জয়

১৭

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত

১৮

১৫ প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করল ডিএনসিসি

১৯

রাউজান-রাঙ্গুনিয়ার অগ্নিকাণ্ড ষড়যন্ত্র উন্মোচনে পুরস্কৃত পুলিশ কর্মকর্তারা

২০
X