

অনেকের ধারণা, ব্রণ মানেই টিনেজ বয়সের সমস্যা। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। বর্তমানে ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও ব্রণের উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘অ্যাডাল্ট অ্যাকনি’ (Adult Acne)।
কর্মব্যস্ত জীবন, মানসিক চাপ, পরিবেশ দূষণ ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে কেন বড় বয়সেও ব্রণ পিছু ছাড়ছে না, তা নিয়েই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।
বড় বয়সেও ব্রণ? কেন হয় এবং কোথায় দেখা যায়
টিনেজ বয়সে ব্রণ সাধারণত কপাল ও নাকসহ টি-জোন এলাকায় দেখা গেলেও, প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এর ধরন কিছুটা ভিন্ন। বড়দের ব্রণ বেশি হয় চোয়াল, থুতনি এবং গলার আশপাশে। অনেক সময় এগুলো হয় বড়, গভীর ও ব্যথাযুক্ত।
কারা এই সমস্যায় বেশি ভোগেন?
১. নারীরা বেশি ঝুঁকিতে
হরমোনের ওঠানামার কারণে পুরুষদের তুলনায় নারীদের অ্যাডাল্ট অ্যাকনি বেশি হয়। বিশেষ করে পিরিয়ডের আগে, গর্ভাবস্থায় বা মেনোপজের সময় ব্রণের প্রবণতা বেড়ে যায়।
২. পিসিওএস (PCOS) আক্রান্তরা
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম থাকলে শরীরে অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ত্বকে, যা ব্রণের অন্যতম বড় কারণ।
৩. অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকা ব্যক্তি
স্ট্রেসের কারণে শরীরে ‘কর্টিসল’ হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন ত্বকের তেলগ্রন্থিকে অতিরিক্ত সক্রিয় করে তোলে, ফলে বড় ও যন্ত্রণাদায়ক ব্রণ দেখা দেয়।
৪. ভুল প্রসাধনী ব্যবহারকারীরা
তৈলাক্ত ত্বকের মানুষ ভারী মেকআপ বা ত্বকের ধরন অনুযায়ী নয়, এমন স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহার করলে রোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ বাড়তে পারে।
কখন সতর্ক হবেন?
যদি ব্রণের পাশাপাশি মুখে অবাঞ্ছিত লোম গজানো, হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া বা পিরিয়ড অনিয়মিত হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তবে দেরি না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা এন্ডোক্রিনোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এটি কেবল ত্বকের সমস্যা নয়, বরং বড় কোনো হরমোনজনিত গোলযোগের ইঙ্গিত হতে পারে।
অ্যাডাল্ট অ্যাকনি কমাতে কী করবেন, কী করবেন না
১. সঠিকভাবে মুখ পরিষ্কার করুন
দিনে অন্তত দুবার স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বা বেনজাইল পারক্সাইডযুক্ত ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুতে হবে। এতে অতিরিক্ত তেল ও মৃত কোষ দূর হয়।
২. খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনুন
গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার (High Glycemic Index) এবং কিছু ক্ষেত্রে দুগ্ধজাত খাবার ব্রণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই খাদ্যতালিকায় সবুজ শাকসবজি ও মৌসুমি ফল রাখুন।
৩. পর্যাপ্ত ঘুম ও পানি পান করুন
দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার পানি পান এবং ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন। এতে শরীর থেকে টক্সিন বের হয় ও মানসিক চাপ কমে।
৪. ব্রণে হাত দেবেন না
ব্রণ খোঁটা বা ফাটানো থেকে বিরত থাকুন। এতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং স্থায়ী দাগ থেকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
৫. নন-কমেডোজেনিক পণ্য ব্যবহার করুন
সানস্ক্রিন বা ময়েশ্চারাইজার কেনার সময় নিশ্চিত করুন, সেখানে ‘Non-Comedogenic’ লেখা আছে কি না। এ ধরনের পণ্য রোমকূপ বন্ধ করে না।
শেষ কথা
অ্যাডাল্ট অ্যাকনি বা বড় বয়সের ব্রণ শুধু সৌন্দর্যেই প্রভাব ফেলে না, আত্মবিশ্বাসেও আঘাত হানে। তবে ধৈর্য ধরে সঠিক ত্বকচর্চা ও জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনলে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
মন্তব্য করুন