

কিছু গল্প শব্দে বলা যায়, আর কিছু গল্প বলা হয় সুর দিয়ে। সদ্য মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’র ক্ষেত্রে মিউজিক ঠিক সে কাজটাই করেছে। ছবির প্রতিটি মুহূর্তে সংগীত হয়ে উঠেছে নীরব ভাষা। এই মিউজিক তৈরির পেছনের ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও প্রাপ্তি নিয়ে কথা বলেছেন ছবির মিউজিক ডিরেক্টর অভিষেক ভট্টাচার্য। তার সঙ্গে কথোপকথনে উঠে এসেছে পর্দার পেছনের গল্প। লিখেছেন মহিউদ্দীন মাহি
সদ্য রিলিজ পাওয়া সিনেমা নিয়ে দর্শকের প্রতিক্রিয়া কেমন পাচ্ছেন?
দর্শকের ভালোবাসাই একজন মিউজিক ডিরেক্টরের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর নিয়ে যেভাবে মানুষ কথা বলছে, সেটা সত্যিই অনুপ্রেরণার।
এই ছবির মিউজিক ডিরেক্টর হিসেবে যুক্ত হওয়া কীভাবে?
একাধিক বিজ্ঞাপনী সংস্থার সঙ্গে কাজ ও মিউজিক জগতে একসঙ্গে কিছু কাজ করার সূত্রে সানি ভাই আমার পূর্বপরিচিত। এভাবেই একদিন সন্ধ্যায় আমাকে ফোন করে উনি বলেন যে, উনি একটা সিনেমা বানাচ্ছেন আর তিনি চান এর মিউজিকের কাজটা আমি করি। এভাবেই মূলত ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’র সঙ্গে যুক্ত হওয়া শুরু।
এই ছবির মিউজিকের মূল ভাবনাটা কী ছিল?
যেহেতু রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপট ঘিরে সিনেমাটি এগিয়ে যাবে। সেহেতু, মিউজিকের সঙ্গে করে ফ্যাক্টটা যেন দর্শকের মনে দাগ কাটে।
কোন দৃশ্যের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছে?
অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্ট ছিল। আর এই এক একটা দৃশ্যের জন্য ভিন্নভাবে চিন্তা করতে হয়েছে। সব থেকে বেশি চ্যালেঞ্জিং লেগেছে ইন্টারভালের আগের থেকে।
কোনো নির্দিষ্ট দৃশ্য কি আপনার কাছে সবচেয়ে কাছের বা প্রিয়?
হ্যাঁ ইন্টারভালের আগের ওই অংশটাই আমার কাছে সব থেকে বেশি পছন্দের।
ডিরেক্টরের সঙ্গে আপনার কাজের বোঝাপড়াটা কেমন ছিল?
সানি ভাই নিজেও একজন মিউজিশিয়ান হওয়ার কারলে পুরো জার্নিতেই আমাদের বোঝাপড়া খুবই ভালো, খুবই স্মুথ ছিল। সানি ভাই অসম্ভব সাপোর্টিভ একজন মানুষ।
এ ছবিতে কাজ করতে গিয়ে নিজের মধ্যে নতুন কোনো দিক আবিষ্কার করেছেন কি?
মিউজিক ড্রিভেন একটা ফ্যাকচুয়াল সিনেমা দিয়েই প্রথম সিনেমার কাজ করাটা
অবশ্যই আমার কাছে নিজেকে ভিন্নভাবে আবিষ্কার করা।
একজন মিউজিক ডিরেক্টর হিসেবে এ ছবিটা আপনার ক্যারিয়ারে কীভাবে দেখছেন?
‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’ দিয়েই আমার প্রথম সিনেমা জগতে আসা, তাই আমি অবশ্যই এটাকে মাইলফলক হিসেবে দেখব।
ভবিষ্যতে আরও কোন ধরনের কাজ করতে বেশি আগ্রহী?
সবার সঙ্গে সব ধরনের কাজ করতে চাই। শেখার শেষ নেই, নিজেকে প্রতিবার ভেঙে গড়ে নিতে চাই। আরও অনেক শিখতে চাই।
‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’ নিয়ে প্রত্যাশা কি?
যে কোনো বয়সী, যে কোনো মানুষের একবার হলেও সিনেমাটা দেখা উচিত বলে মনে করি। ইতিহাস, রাজনৈতিক বাস্তবতা বা জীবন দর্শন সম্পর্কে কনফিউশন বা প্রশ্নগুলো খুব সহজ করে বোঝানো হয়েছে বলে আমার মনে হয়। সবার প্রত্যাশার পারদ ছুঁয়ে যাক, এটাই প্রত্যাশা।
মন্তব্য করুন