

রাষ্ট্র বললো, তোমাদের আছে পূর্ণ বাকস্বাধীনতা শুধু শব্দগুলো জমা দাও যাচাইয়ের টেবিলে সত্য যদি বেশি ধারালো হয়, একটু ভোঁতা করে লিখো নইলে নীরবতাই হবে তোমার নিরাপদ আশ্রয়...
সাংবাদিক কলম তোলে, সম্পাদক চেয়ে থাকে ঘড়ির দিকে একটি ফোন আসে, শিরোনাম বদলে যায় সঙ্গে সঙ্গে- খবর থাকে, কিন্তু সত্য থাকে না কালির নিচে চাপা পড়ে যায় প্রশ্নের গোপন ফাঁকে।
হাউস রুল মানো, সীমার ভেতর হাঁটো সীমা কোথায়, তা কেউ স্পষ্ট করে না এক পা বাইরে পড়লেই আইনের দরজা ভারী হয়ে ওঠে।
বিপ্লবের গল্প এখনো দেয়ালে টাঙানো রঙ শুকায়নি, স্লোগানও মুছে যায়নি পুরো তবু মানুষের চোখে কেন
এক অদ্ভুত সাবধানতা, নিঃশব্দ ভয়গ্রস্ত
যদি ভয়ই থাকে প্রতিটি উচ্চারণে মুক্তির সংজ্ঞা কোথায় বদলে গেল যে স্বপ্ন রাস্তায় জন্ম নিয়েছিল সে কি দপ্তরের ফাইলে বন্দি হলো, কী হলো
ইতিহাস চুপচাপ দেখে মানুষ কি সত্যিই মুক্ত নাকি শুধু শিখেছে আরও নিখুঁতভাবে চুপ থাকতে, নিঃশব্দে হাবুডুবু খেলতে
রক্ত দিলাম, স্বাধীন হলাম, সবই শুধু মুখের কথা স্বপ্নগুলো ঝুলে থাকে উৎসবের ব্যানার পাতায় দেশটা নাকি সবার, কিন্তু ভোগে কয়েক ঘর অন্যেরা শুধু গুনে যায় প্রতিশ্রুতিরই প্রহর
মরার সময়ে মরব আমরা, এটাই যেন বিধান সুবিধার সব দরজাগুলো চেনে কেবল কিছু নাম টাকা উড়ে সীমানা পেরোয় নিঃশব্দ রাতের ভেতর হিসেবগুলো লুকিয়ে থাকে অদৃশ্য কোনো খাতার ঘরে
দুটো পাসপোর্ট হাতে তাদের পথ হয় মসৃণ একটিতে দেশপ্রেম জাগে, অন্যটিতে নিরাপদ দিন এখানে এসে নেয় যা পারে, ক্ষমতার সব লুট ফিরবার ক্ষণ এলে নতুন পাসপোর্টে দেয় ছুট
তবু প্রশ্ন জেগে থাকে, এই কি প্রাপ্তি যে মাটিতে রক্ত ঝরল, সে মাটিরই কি ভ্রান্তি নাকি একদিন সত্যিই উঠবে নতুন প্রজন্ম যারা স্বাধীনতাকে দেবে শুধু শব্দ নয়, বাস্তবের সম্মান