ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৪৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কাঁদছে খালেদা জিয়ার পৈতৃক ভিটা মজুমদার বাড়ি

বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাবার বাড়িতে ভিড় করছেন মানুষজন। ছবি : কালবেলা
বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাবার বাড়িতে ভিড় করছেন মানুষজন। ছবি : কালবেলা

ভোরের আলো ফোটার আগেই যেন থমকে গেছে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের মজুমদার বাড়ির সময়। যে মজুমদার বাড়িতে প্রতিদিন সকালের শুরু হতো কোলাহল আর ব্যস্ততায়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ হয়ে সেখানে নেমে এসেছে গভীর নীরবতা।

এখন শুধু শূন্যতা আর হাহাকার। উঠানজুড়ে শুধু দীর্ঘশ্বাস আর কান্নার শব্দ। চোখের পানিতে ভিজে গেছে প্রতিটি মুখ। মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনায় কোরআন খতম ও আর দোয়া দরুদ পড়ছেন লোকজন।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

বেগম খালেদা জিয়ার বাবার বাড়ি ফেনী ফুলগাজী উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামে। বাবা ব্যবসায়ী ইস্কান্দার মজুমদার ও মা তৈয়বা মজুমদার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকালে শ্রীপুর গ্রামের কৃতী সন্তান সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদে মুহূর্তেই বদলে দিয়েছে পুরো বাড়ির চিত্র। খবরটি পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই মজুমদার বাড়ির উঠানে বসে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। কেউ নির্বাক হয়ে তাকিয়ে আছেন শূন্যের দিকে, কেউ আবার মাথায় হাত দিয়ে বিলাপ করছেন। বাড়ির দেয়ালে টাঙানো খালেদা জিয়ার ছবির সামনে দাঁড়িয়ে চোখ মুছছেন স্বজনরা। ছবিটির দিকে তাকালে যেন মনে হয়, এই তো তিনি কথা বলবেন, খোঁজ নেবেন, পরিবারের সবার নাম ধরে ডাকবেন। কিন্তু বাস্তবতা নির্মম— আজ আর সেই ডাক শোনা যাবে না।

খালেদা জিয়ার চাচাতো ভাই শামিম মজুমদার জানান, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও এ পরিবারের সঙ্গে খালেদা জিয়ার সম্পর্ক ছিল গভীর আত্মিক বন্ধনে বাঁধা। দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো, নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া— এই স্মৃতিগুলোই আজ কান্নায় ভাসছে। দুপুর গড়াতেই মজুমদার বাড়িতে ভিড় করেন প্রতিবেশী, শুভানুধ্যায়ী ও বিএনপি নেতাকর্মীরা। কারও মুখে কথা নেই, কারও চোখে শুধু জল। উঠানের এক পাশে কোরআন তেলাওয়াত চলছে, অন্য পাশে নীরবে বসে আছেন শোকাহত মানুষগুলো। পুরো পরিবেশজুড়ে এক গভীর বিষণ্নতা।

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া আমাদের কাছে শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রী ছিলেন না। তিনি ছিলেন আমাদের পরিবারের একজন আপন মানুষ। সুখে-দুঃখে সব সময় খোঁজ নিতেন। আজ তিনি চলে যাওয়ায় বুকের ভেতরটা শূন্য হয়ে গেছে।

খালেদা জিয়ার চাচাতো ভাইয়ের ছেলে তানজিম হোসেন তাঈম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমরা একজন রাজনীতিবিদকে নয়, একজন মমতাময়ী মানুষকে হারালাম। তিনি আমাদের কাছে একজন মায়ের মতো ছিলেন। দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের আকাশ-বাতাস যেন আজ ভারী হয়ে আছে শোকে।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হোসেন ভূঁইয়া কালবেলাকে বলেন, আমরা ফেনী তথা বাংলাদেশ একজন অভিভাবককে হারালাম। সকালে ম্যাডামের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠেছে। এক সময় যে মজুমদার বাড়ি ছিল রাজনৈতিক আলোচনা, স্মৃতিচারণ আর প্রাণবন্ত কথোপকথনে মুখর, আজ সেখানে শুধু নিস্তব্ধতা। ঘরের দেয়ালে ঝুলে থাকা ছবিগুলো, ফাঁকা চেয়ারগুলো নীরবে সাক্ষ্য দিচ্ছে একজন মানুষ কতটা গভীরভাবে জড়িয়ে ছিলেন এই পরিবারের হৃদয়ের সঙ্গে।

তিনি আরও বলেন, প্রিয় নেত্রীর বিদায়ে কাঁদছে শুধু একটি বাড়ি নয়—কাঁদছে দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রাম তথা সারা বিশ্ব। কাঁদছে স্মৃতি, ভালোবাসা আর বিশ্বাসের সেই সম্পর্ক, যা কখনো মৃত্যুতে মুছে যায় না।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সংসদে নারীদের বোরকা-হিজাব নিয়ে মন্তব্য, হেফাজতের প্রতিবাদ

ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প ও ভ্যান্স

৩ ঘণ্টা পর ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

শর্ত মানলে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পাবে ইরান : ভ্যান্স

গণমাধ্যমে সত্যকে সত্য হিসেবেই তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর 

সিএমপির ৫ থানায় নতুন ওসি, ৮ পরিদর্শক বদলি

মাদারীপুরে দুপক্ষের তুমুল সংঘর্ষ, আহত ১০

হতাশায় গাঁজার নেশায় ঝুঁকছে ব্রাজিলের তরুণরা, বলছে গবেষণা

গোল করে বাঁ পায়ের জাদু দেখালেন জাইমা রহমান

বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে রুমিন ফারহানার প্রশ্ন

১০

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা নিয়ে কঠোর অবস্থানে ইসরায়েল

১১

বাড়ি বিক্রি করে বিশ্বভ্রমণে ব্রিটিশ নারী, ঘুরেছেন ১৭৯ দেশ

১২

এবার ছোটপর্দার গোয়েন্দা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়

১৩

হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে একসঙ্গে কাজ করবে ইরান ও ওমান

১৪

সরফরাজ হোসেনের কবিতা : নীল

১৫

ধর্মমন্ত্রীর প্রতি সেই ওমরাযাত্রীর পরিবারের কৃতজ্ঞতা

১৬

সন্তানদের সঙ্গে মিলে গেছে নতুন ২ ইউনিয়নের নাম, সংসদে ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী

১৭

জুনের প্রথম ১৩ দিনে রেমিট্যান্সে শীর্ষে কৃষি ব্যাংক

১৮

বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে ঢাবিতে ছাত্রদল নেতা তৌহিদের বৃক্ষরোপণ

১৯

সেই হজযাত্রীর জন্য ধর্মমন্ত্রীর শোক

২০
X